বিজ্ঞাপন

নুহাশ আরও বলেন, ‘এক বছর ধরে কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে যে আমি কী করছি। আমি বলি, স্ক্রিপ্ট লিখছি। এখনো শেষ হয় নাই। এটা একটা দীর্ঘ প্রসেস। আর এটা খুবই সহজ হয়, যখন এ রকম কোনো ঘোষণা আসে। গত বছর আমরা গোয়া ফিল্ম বাজারে নির্বাচিত হই। ওখান থেকেই আসলে সেরা প্রজেক্টগুলো কানের মার্শে দ্যু ফিল্মে নির্বাচিত হয়েছে।’

মূলত বেশির ভাগ চলচ্চিত্র উৎসবের একটি করে বাণিজ্যিক শাখা থাকে। যেখানে চলচ্চিত্র–সংশ্লিষ্ট মানুষেরা প্রযোজক, পরিচালক, পরিবেশক ও কলাকুশলীরা জমায়েত হন। তাঁরা বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে প্রযোজনা, পরিবেশনা ও নির্মাণ বিষয়ে মতবিনিময় করেন। সিনেমাটি নির্মাণ ও বিপণনে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হন। কান চলচ্চিত্র উৎসবের বাণিজ্যিক শাখা মার্শে দ্যু ফিল্ম।

মার্শে দ্যু ফিল্মের কো–প্রোডাকশন শাখা বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র উৎসবের ফিল্ম বাজারের সঙ্গে কাজ করে থাকে। এবার তার মধ্যে আছে নেদারল্যান্ডসের ইন্টান্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব রটারডম চলচ্চিত্র উৎসবের সিনেমার্ট, নরওয়ের নরওয়েজিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের নিউ নরডিক ফিল্ম, স্পেনের সান সেবাস্টিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ইউরোপ–লাতিন আমেরিকা কো–প্রোডাকশন ফোরাম, এস্তোনিয়ার বাল্টিক–ইভেন্ট কো–প্রোডাকশন মার্কেট এবং ভারতের এনএফডিসি ফিল্ম বাজার।

default-image

এসব ফিল্ম বাজার থেকে এবার মার্শে দ্যু ফিল্মের কো–প্রোডাকশন ডের জন্য প্রকল্প নির্বাচিত করা হয়েছে। ভারতের এনএফডিসি ফিল্ম বাজার থেকে সাতটি প্রকল্প নির্বাচিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি নুহাশ হুমায়ূনের ‘মুভিং বাংলাদেশ’। এই ছবির বাংলাদেশি প্রযোজক আরিফুর রহমান ও বিজন ইমতিয়াজ।

নুহাশের ভাষায়, প্রকল্পটি নিয়ে অনেকগুলো অনলাইন পোর্টাল বিভ্রান্তিকর শিরোনাম দিয়েছে। তারা ছবিটিকে কানের অফিশিয়াল সিলেকশন হিসেবে বলেছে। কিন্তু ছবিটি এখনো নির্মাণই করা হয়নি! তিনি বলেন, ‘আমার কাছে একটু বিব্রত লাগছে যে অনেকগুলো পোর্টাল রিপোর্ট করছে, “মুভিং বাংলাদেশ” কানে কিংবা “মুভিং বাংলাদেশ” কানে দেখানো হবে। এটা কিন্তু মিস লিডিং। আমরা কেন এ রকম সেনসেশনালাইজ হেডিং করি, আমি জানি না। কারণ, ছবিটি এখনো বানানোই হয়নি। এ ধরনের টাইটেল শুনলে মনে হয়, কানের অফিশিয়াল সিলেকশন।’

এরপর তিনি তাঁর ল্যাপটপে একটি ইমেজ দেখান। যেখানে কানের অফিশিয়াল সিলেকশনের লোগো দিয়ে ‘মুভিং বাংলাদেশ’ ছবির একটি ব্যানার তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ছবিটি কানের অফিশিয়াল সিলেকশন। নুহাশ বলেন, ‘আমার পেজ থেকে যে ইমেজটি দেওয়া হয়েছে, সেখানে মার্শে দ্যু ফিল্মের লোগো দিয়েছি।’

default-image

নুহাশ বলেন, ‘আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে অনেক ফিল্মমেকার মার্শে দ্যু ফিল্মে গিয়ে একটা হল ভাড়া করে তাঁদের ছবি দেখান। তারপর নিউজ করানো হয় যে এই ছবি কানে দেখানো হয়েছে। এটাও কিন্তু ঠিক নয়। যে কেউ কানে গিয়ে সিনেমা হল বুকিং দিয়ে সিনেমা দেখাতে পারেন। কিন্তু মার্শে দ্যু ফিল্মে আমাদের প্রকল্পটি যাওয়া একটু ব্যতিক্রম। আমরা আমন্ত্রিত হয়েছি এনএফডিসি ফিল্ম বাজার থেকে।’

নুহাশ আরও বলেন, ‘আমরা কাছে মনে হয়, এ ধরনের নিউজ আমাদের এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ, বাংলাদেশের ভবিষ্যতের ফিল্ম নির্মাণের কথা চিন্তা করলে এ ধরনের নিউজ ক্ষতিকর।’ তিনি জানান, করোনা সংক্রমণ কমে এলেই আগামী বছর থেকে শুটিং শুরু হবে। খুব শিগগির এই ছবিতে কারা অভিনয় করবেন, তাঁদের নাম জানা যাবে।

‘মুভিং বাংলাদেশ’–এর পাশাপাশি মার্শে দ্যু ফিল্মের কানস ডকসের ‘ডকস–ইন–প্রোগ্রেস’ বিভাগে শোকেজ সাউথ এশিয়ায় নির্বাচিত দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকল্পর সঙ্গেও বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট আছে। তাহরিমা খানের ‘মুন্নি’ প্রামাণ্যচিত্র প্রকল্পটির প্রযোজক আবু শাহেদ ইমন। ছবিটি প্রযোজনা করা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় আরেকটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকল্প ‘থার্টিন ডেস্টিনেশনস অব আ ট্রাভেলার’ নির্বাচিত হয়েছে। মোখলেসুর রহমান তালুকদার ও সৌম্য মুখোপাধ্যায়ের প্রযোজনায় প্রামাণ্যচিত্রটি পরিচালনা করছেন পার্থ দাশ। প্রকল্পগুলো নির্বাচিত হয়েছে ইন্টারন্যাশন্যাল ফিল্ম ইনিশিয়েটিভ অব বাংলাদেশের সহযোগিতায়।

বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন