default-image

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরেরা যে গণহত্যা চালিয়েছিল, তার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র ‘হরিযূপীয়া’। এর চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনা করেছেন গোলাম মোস্তফা শিমুল। চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি ছবিটি বিনা কর্তনে সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে। ফরিদুর রেজা সাগর প্রযোজিত ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে আগামী ২৭ মার্চ।
‘হরিযূপীয়া’ ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন খায়রুল আলম সবুজ, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, কাজী রাজু, রিয়াজ মাহমুদ জুয়েল, সাব্বির আহমেদ, বীথি রানি সরকার, পাভেল ইসলাম, জুনায়েদ হালিম, শফিউল আলম বাবু, নাফিজা ইসলাম নাফা প্রমুখ।
ঢাকা, নওগাঁ ও পাবনার বিভিন্ন স্থানে ‘হরিযূপীয়া’ ছবির শুটিং হয়েছে। ছবিটি সম্পর্কে নির্মাতা গোলাম মোস্তফা শিমুল বলেন, ‘বিজয়ের ঠিক আগ মুহূর্তে আমাদের বুদ্ধজীবীদের হত্যার মাধ্যমে এ দেশকে মেধাশূন্য করার যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেই বিষয়কে উপজীব্য করেই এ চলচ্চিত্রের গল্প আবর্তিত হয়েছে।’
হরিযূপীয়া শব্দের অর্থ জানতে চাইলে গোলাম মোস্তফা শিমুল বলেন, হরিযূপীয়া শব্দটা কত প্রাচীন তা নিশ্চিত করে বলাটা কঠিন। তবে বহুশত বছর আগে হরপ্পায় যে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল, সে কারণে হরপ্পার আরও একটা পরিচয় ছিল হরিযূপীয়া হিসেবে। হরি শব্দটা সাধারণ মানুষকে বোঝাতে বলা হয়েছে। এখানে যূপ হচ্ছে যূপকাষ্ঠ অর্থাৎ যে বিশেষ কাঠের ফাঁকে প্রাণীর গলা ঢুকিয়ে তাকে বলি দেওয়া হয়। আর যূপীয়া বলির স্থানকে নির্দেশ করে। হরিযূপীয়া নামটি এই চলচ্চিত্রে গণহত্যার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

‘হরিযূপীয়া’ ছবির কাহিনিতে দেখা যাবে, একজন প্রত্নতত্ত্ব গবেষক যুদ্ধের কারণে একটি স্থানে খননের কাজ সমাপ্ত করতে পারেন না। মাঝপথে তাকে থেমে যেতে হয়। তবে থেমে যাওয়ার আগে সেই স্থানটিতে কিছু পোড়ামাটির টালি পান তিনি। টালিগুলোতে কিছু ছবি আঁকা ছিল। আর নিচে সামান্য কিছু লেখা ছিল। তরুণ গবেষক সেই লেখা আর ছবির অর্থ বুঝতে পারছিলেন না। তাই তিনি আরও কয়েকজন চিন্তাশীল মানুষের সাহায্য নেন। তারা বেশ কয়েকজন মিলে সেই ছবিগুলোতে কিছু বলতে চাওয়ার যে গল্পটা, তা খুঁজে বের করতে চান। আর এই অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে বাংলা আর বাঙালির নৃতাত্ত্বিক ইতিহাসের কিছু অংশ। তারা খুঁজে পান ইতিহাসের কিছু গণহত্যার কথা। ইতিহাসের গণহত্যার ঘটনা খুঁজতে খুঁজতে তাঁরা নিজেরাও গণহত্যার শিকার হন। মৃত্যুর আগে তাঁরা আবিষ্কার করেন, গণহত্যার কোনো নির্দিষ্ট স্থান নেই, নেই কোনো নির্দিষ্ট সময়। এটি ঘুরে ফেরে কাল থেকে কালে, স্থান থেকে স্থানে, দেশ থেকে দেশে।

বিজ্ঞাপন
বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন