জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অতিথিদের সঙ্গে ২২তম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনীতে পুরস্কার পাওয়া শিল্পীরা
জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অতিথিদের সঙ্গে ২২তম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনীতে পুরস্কার পাওয়া শিল্পীরাছবি: সংগৃহীত

নবীন শিল্পীদের পদচারণে মুখর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা। নতুন ভাবনা ও নতুন উপস্থাপনায় বর্ণিল চিত্রশালার চারটি গ্যালারি। স্থাপনাশিল্পে, ক্যানভাসে তরুণেরা তাঁদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন সেখানে। ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের ১২ জন পেয়েছেন পুরস্কার।
তরুণ শিল্পীদের বহুমাত্রিক শিল্পকর্ম নিয়ে জাতীয় চিত্রশালায় গতকাল সোমবার শুরু হয়েছে ‘২২তম জাতীয় নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনী’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

default-image

বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল মান্নান ইলিয়াস, চিত্রশিল্পী শহীদ কবির, একাডেমির সচিব মো. নওসাদ হোসেন। অনলাইনেই এর সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক সৈয়দা মাহবুবা করিম।

default-image

উদ্বোধনী পর্ব শেষে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদ ও চেক তুলে দেওয়া হয়। এ আসরে শ্রেষ্ঠ নবীন শিল্পী চারুকলা পুরস্কার–২০২০ পেয়েছেন সোমা সুরভী জান্নাত।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া চিত্রকলায় তরিকুল ইসলাম, ছাপচিত্রে মো. রফিকুল ইসলাম, ভাস্কর্যে মো. মোজাহিদুর রহমান সরকার, প্রাচ্যকলায় সঞ্জয় কুমার প্রামাণিক, কারুশিল্পে রুবাইত-ই-শারমিন, মৃৎশিল্পে তানভীর হোসেন, গ্রাফিক ডিজাইনে ইমরান হাসান, আলোকচিত্রে মহসিন কবির, স্থাপনাশিল্পে কুন্তল বাড়ৈ, পারফরম্যান্স আর্টে নাঈম হোসেন ও নিউ মিডিয়ায় মো. ফজলুল হক শ্রেষ্ঠ শিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন।

default-image

শ্রেষ্ঠ পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী পেয়েছেন এক লাখ টাকার চেক, সনদ, মেডেল ও ক্রেস্ট এবং প্রতিটি মাধ্যমের শ্রেষ্ঠ পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীদের ৫০ হাজার টাকার চেক, সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
এবার ৫১৯ জন শিল্পীর চিত্রকলা, ছাপচিত্র, ভাস্কর্য, প্রাচ্যকলা, কারুশিল্প, মৃৎশিল্প, গ্রাফিক ডিজাইন, আলোকচিত্র, স্থাপনাশিল্প, পারফরম্যান্স আর্ট, নিউ মিডিয়া আর্টের ১ হাজার ৩৫০টি শিল্পকর্ম জমা পড়ে। নির্বাচকেরা ৩৩৭ জন শিল্পীর ৩৬৮টি শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর জন্য চূড়ান্ত করেন। শিল্পকর্ম নির্বাচক কমিটির সদস্যরা হলেন শিল্পী আইভি জামান, শিল্পী ড. রশীদ আমিন, শিল্পী দুলাল চন্দ্র গাইন, শিল্পী হারুন অর রশীদ, আলোকচিত্রী মফিজুল ইসলাম ও শিল্পী শাওন আকন্দ।

এ ছাড়া পুরস্কার মনোনয়নের জন্য বিচারকমণ্ডলীর সদস্যরা হলেন শিল্পী নাইমা হক, আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন, শিল্পী ড. মো. ইকবাল, শিল্পী মোস্তফা জামান মিঠু, শিল্পী আনিসুজ্জামান ও শিল্পী শেখ সাদী ভূঁইয়া।

default-image

এবারের নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনীর গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় সংযোজন বিশেষ কিউরেটেড প্রদর্শনীর আয়োজন। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর ভাবনা ও পরিকল্পনা প্রথমবারের মতো এ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের চারুশিল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়/চারুকলা ইনস্টিটিউট স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জাতীয় চিত্রশালার ৩ নম্বর গ্যালারিতে বিষয়ভিত্তিক বিশেষ কিউরেটেড প্রদর্শনী বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা শিল্পী, শিল্পানুরাগী, শিল্পবোদ্ধা ও দর্শকদের আনন্দ দেবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় সারা দেশের দর্শক অনলাইনে ভার্চ্যুয়াল গ্যালারির মাধ্যমে প্রদর্শনী উপভোগ করতে পারবেন। ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এ প্রদর্শনী।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালে প্রথম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও বরেণ্য শিল্পী কামরুল হাসান। ওই প্রদর্শনীতে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার অর্জন করেন শিল্পী চন্দ্র শেখর দে। ১৯৭৬ সালে দ্বিতীয় নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনীতে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার অর্জন করেন শিল্পী শহিদ কবির।

default-image
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন