default-image

‘বুকের খুনে যুদ্ধ জারি, অমর একুশে ফেব্রুয়ারি’ স্লোগান সামনে রেখে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজন করেছে ১৪ দিনব্যাপী একুশের অনুষ্ঠান। গতকাল বিকেলে এ আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে। এ সময় বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের শিল্পীরা জাতীয় সংগীত ও একুশের গান পরিবেশন করেন।
এরপর শুরু হয় আলোচনা অনুষ্ঠান। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য দেন এর সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। এরপর এক এক করে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ফকির আলমগীর, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতি লিয়াকত আলী, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মুহম্মদ সামাদ ও জোটের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ। তাঁরা চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, ‘নাশকতা’ ও ‘সন্ত্রাস’-এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এরপর পুরো আয়োজনের উদ্বোধন করেন ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক। তিনি বলেন, ‘২৩ বছর বয়সে আন্দোলনে গিয়েছিলাম। আজ ৮৩ বছরে এসে যে বাংলাদেশ দেখছি, সেটা আদৌ প্রত্যাশিত ছিল না। আন্দোলনের নামে এখন নাশকতা ও সন্ত্রাস চলছে। আর সরকারও যেন দ্বিধায় ভুগছে।’ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না, সে প্রশ্নও তিনি তোলেন।
দ্বিতীয় পর্বে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নৃত্য সংগঠন স্পন্দনের শিল্পীরা ‘বর্ণমালা, ও প্রিয় বর্ণমালা’ গানের সঙ্গে পরিবেশন করেন দলীয় নাচ। স্বরচিত্র আবৃত্তি চর্চা ও বিকাশ কেন্দ্রের শিল্পীরা পরিবেশন করেন দলগত কবিতা আবৃত্তি ‘আর কত রক্তের দরকার হবে?’। সংগীতশিল্পী মহিউজ্জামান চৌধুরী গাইলেন দুটি গান—ভূপেন হাজারিকার ‘মানুষ মানুষের জন্যে’ ও জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর ‘এসো বাংলার মাটির ভাষার ছেলেরা’। সবশেষে টিএসসির পদাতিক নাট্য সংসদের শিল্পীরা পরিবেশন করলেন পথনাটক তাহাদের কথা। নাটকে উঠে আসে শ্রমিকদের জীবনের কথা।
গতকাল থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজন ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আর ১৮ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবরে। অনুষ্ঠানমালায় থাকছে একক ও দলগত পরিবেশনায় গান, নাচ, আবৃত্তি ও অভিনয়। প্রতিদিন বিকেল সাড়ে চারটা থেকে চলবে অনুষ্ঠান।

বিজ্ঞাপন
বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন