default-image

মঞ্চ ও টেলিভিশন নাটকের অভিনেতা মুজিবুর রহমান দিলুর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার প্রত্যাশায় উত্তরার হাসপাতাল বদল করে গুলশানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে তাঁকে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে গুলশানের হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) স্থানান্তর করা হয়। আজ শনিবার সকালে প্রথম আলোকে দিলুর হাসপাতাল বদলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড় ছেলে অয়ন রহমান।
অয়ন রহমান বলেন, ‘আব্বুর শারীরিক অবস্থা এখন সংকটাপন্ন। ফুসফুসের সংক্রমণ আস্তে আস্তে খারাপের দিকে যাচ্ছে, যা খুবই উদ্বেগের। এরই মধ্যে তাঁর শরীরে প্লাজমা দেওয়া হয়েছে। কোভিড–১৯ নেগেটিভ হলেও সন্দেহভাজন ধরেই চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। সবাই আমার আব্বুর জন্য দোয়া করবেন।’

default-image

‘সংশপ্তক’ নাটকের মালু চরিত্রের কথা নিশ্চয় সবার মনে আছে। অভিমানে লম্বা সময় ধরে অভিনয় থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন মালুখ্যাত মুজিবুর রহমান দিলু।

বিজ্ঞাপন

হঠাৎ গত বুধবার সকালে তাঁর খবর পাওয়া যায়। জানা যায়, তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জানার পরই যোগাযোগ করা হয় তাঁর পরিবারের সঙ্গে। বড় ছেলে অয়ন রহমান জানান, তাঁর বাবাকে গত মঙ্গলবার রাতেই উত্তরার বাসার পাশেই একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
অয়ন জানান, বাবার ফুসফুসে সমস্যা ধরা পড়েছে। ভর্তির পরই চিকিৎসক জানিয়েছেন, বাবার শরীরের বাঁ পাশের ফুসফুস ৭০ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছে। আর ডান পাশেরটা ১০ শতাংশ।

default-image

টিভি নাটকের আগে থেকেই এই অভিনেতা মঞ্চে অভিনয় করছেন। মঞ্চ থেকে তাঁর অভিনয় শুরু। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে তালিকাভুক্ত শিল্পী হন। ১৯৭৬ সাল থেকে টেলিভিশনে নিয়মিত অভিনয় করছেন। তবে মাঝে দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন।

default-image

স্ত্রী রানী রহমান, দুই ছেলে অয়ন রহমান, অতুল রহমান ও এক মেয়ে তানজিলা মুজিবকে নিয়ে ঢাকার উত্তরায় বসবাস করতেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। মজিবুর রহমান দিলুর উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটক হচ্ছে ‘আমি গাধা বলছি’, ‘নানা রঙ্গের দিনগুলি’, ‘জনতার রঙ্গশালা’, ‘নীল পানিয়া’, ‘আরেক ফাল্গুন’, ‘ওমা কী তামাশা’ প্রভৃতি। এ ছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় নাটক ‘তথাপি’, ‘সময় অসময়’ ও ‘সংশপ্তক’–এ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

default-image

২০০৫ সালে গুলেন বারি সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন কোমায় ছিলেন দিলু। পরে তিনি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন শুরু করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন