বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সে সময় আমরা থাকতাম শহীদবাগে। ওই সময় আমাদের ঠিক পাশের বাড়িতেই এসে উঠলেন কিংবদন্তি সুরকার আলতাফ মাহমুদ ভাই। একদিন আমার আম্মা আলতাফ ভাইকে অনুরোধ করে বললেন, ‘আমার মেয়ের খুব শখ বড়দের গান করার। ওকে দিয়ে একটা বড়দের গান করান না।’ শুনে তিনি বললেন, ওকে দিয়ে এখন বড়দের গান হবে না। কিন্তু আম্মা নাছোড়বান্দা। দেখা হলেই প্রায়ই আলতাফ ভাইকে বলতেন, ‘আমার মেয়েটাকে দিয়ে একটা গান করান না।’

আলতাফ ভাই বোধ হয় বিরক্ত হয়েই শেষ পর্যন্ত আম্মাকে কথা দিয়েছিলেন, ‘আচ্ছা, ওকে দিয়ে একটা গান গাওয়াব। কিন্তু ভালো না হলে বাদ।’

এরপর আগুন নিয়ে খেলা ছবিতে আমাকে দিয়ে তিনি প্রথম রাগভিত্তিক একটা একক গান গাওয়ালেন, ‘মধু জ্যোৎস্নার দীপালি’। এ গান গাওয়ার পর এক মাস যায়, দুই মাস যায়, গানটা কেমন হলো, কিছুই বলেন না আলতাফ ভাই। হঠাৎ একদিন বললেন, এ ছবিতে আরেকটা গান গাইতে হবে, দ্বৈত গান, মাহমুদুন নবীর সঙ্গে। তখন আমি বুঝলাম, প্রথম গান নিশ্চয়ই খুব খারাপ গাইনি।

কিন্তু পরের গানটি নবী ভাইয়ের সঙ্গে গাইতে হবে, শুনে তো আমার হাঁটু কাঁপা শুরু হয়ে গেল। যা হোক, সেই গানও গাইলাম, ‘একটি পাখি দুপুর রোদে সঙ্গী ছাড়া একা’। সেদিনই প্রথম আলতাফ ভাই বললেন, ‘খুব ভালো গেয়েছ।’

একসময় ছবিটি মুক্তি পেল। ব্যবসাসফলও হলো। কিন্তু গানগুলো সেভাবে জনপ্রিয় হলো না। এর কিছুদিন পর আলতাফ ভাই আমাকে দিয়ে অবুঝ মন ছবির ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’ গানটি গাওয়ালেন। এটি লিখেছিলেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। তারপর তো গানটি ইতিহাস হয়ে গেল। এখন পর্যন্ত এটি আমার জীবনের অন্যতম সেরা গান। এ গানের পর থেকে আমাকেও আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তাই আমি বলব, এই গানই আমার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট।

বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন