default-image

এই অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সিনেমা হলে যাচ্ছে কি দর্শক? এ প্রশ্নের উত্তরের জন্য গতকাল আমরা খোঁজ নিয়েছি কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে। আশাপ্রদ কিছুই শোনা যায়নি। বরং আশাহত করে দেওয়ার মতো আরও কিছু প্রশ্নের জন্ম হলো...
‘একজন প্রেমিকের মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে তুমি...’ রাজধানীর মতিঝিলের মধুমিতা হলের দরজায় দাঁড়াতেই কানে এল এমন সংলাপ। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকি। চলছে বিগ ব্রাদার ছবিটি। অন্ধকার চোখে সয়ে আসতেই দেখি পুরো হল প্রায় ফাঁকা!
ওপর-নিচ মিলে মধুমিতা সিনেমা হলে আসন আছে ১ হাজার ২০০। গতকাল তিনটার শোতে দর্শকসংখ্যা কোনোমতে শ খানেক ছাড়িয়েছে। টিকিট বিক্রেতা আবদুল হামিদ এ কথাই জানালেন।
মধুমিতা সিনেমা হলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বললেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে আস্তে আস্তে সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাবে। এই মাসে ক্রিকেট খেলার জন্য নতুন ছবি মুক্তি পাচ্ছে না। শুধু ক্রিকেট নয়, সিনেমা মুক্তি না পাওয়ার পেছনে দেশের রাজনৈতিক অবস্থাও অনেকটা দায়ী।’

অভিসার সিনেমা হলে এসে দেখি, এ-ও যেন বিরান প্রান্তর! এখানে চলছে জিরো ডিগ্রি সিনেমাটি। ‘রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আমাদের অবস্থাও এক্কেবারে জিরো।’ এভাবেই বলছিলেন অভিসারের ব্যবস্থাপক খায়রুল কবীর। সিনেমার ভালো-মন্দ নিয়ে নয়, জানতে চাইছি ‘হরতাল-অবরোধে দর্শক খরা’ নিয়ে, এ কথা শুনে নড়েচড়ে বসেন তিনি। বলেন, ‘সিনেমা প্রদর্শিত হলে বিদ্যুৎ এবং কর্মীদের পেছনে অনেক খরচ। সেই টাকাই ওঠে না, লাভ হবে কেমনে?’
এখানেও শ খানেক চেয়ার পূর্ণ হবে কি না সন্দেহ।
এবারের গন্তব্য নিউমার্কেট এলাকার বলাকা সিনেওয়ার্ল্ড। দুই হলে দুটি সিনেমা চলার কথা। কিন্তু বলাকা দুই দিন ধরে বন্ধ। অন্যটায় চলছে জিরো ডিগ্রি। নিরাপত্তারক্ষী জানালেন, বিকেলের দিকে কিছু দর্শকের দেখা মেলে। সেটাও আগের মতো নয়।
বলাকা থেকে এবার কারওয়ান বাজারের পূর্ণিমা সিনেমা হল। ব্ল্যাকার মো. আলম বললেন, ‘আমদের ব্যবসা মাটি। প্রতি টিকিটে পাঁচ টাকা করে লাভ করি, কিন্তু যেখানে দর্শকই নেই, সেখানে আমাদের ব্যবসা কেমনে হবে বলেন?’ উল্টো প্রশ্ন করেন তিনি।
জোনাকি সিনেমা হলের টিকিট বিক্রেতা জিয়াউল আলমও বলেন, ‘খারাপ সময়টা এত দীর্ঘ হবে বুঝতে পারিনি। আপনারা কি বলতে পারেন, কবে শেষ হবে এই হরতাল-অবরোধ?’

বিজ্ঞাপন
বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন