অভিনয়শিল্পী, সাংসদ আকবর হোসেন পাঠান ফারুক ও টেলিভিশন নাটকের গুণী অভিনয়শিল্পী আজিজুল হাকিম।
অভিনয়শিল্পী, সাংসদ আকবর হোসেন পাঠান ফারুক ও টেলিভিশন নাটকের গুণী অভিনয়শিল্পী আজিজুল হাকিম। ছবি: কোলাজ

করোনার সঙ্গে লড়াই করতে করতে এখন কিছুটা সুস্থবোধ করছেন চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনয়শিল্পী ও সাংসদ আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। আর চিকিৎসা শেষে করোনা জয় করলেন টেলিভিশন নাটকের গুণী অভিনয়শিল্পী আজিজুল হাকিম। এর মধ্যে ফারুক গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টায় আর আজিজুল হাকিম ১১টায় হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফেরেন। প্রথম আলোকে বাসায় ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুই অভিনয়শিল্পীর স্ত্রীরা।

হাসপাতালে ভর্তির পর করোনায় আক্রান্ত আজিজুল হাকিমের শারীরিক অবস্থার বেশ অবনতি হয়। তাঁকে লাইফ সাপোর্টে পর্যন্ত নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের আন্তরিক চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়। একটা পর্যায়ে টেস্টে কোভিড-১৯ নেগেটিভ হয়। অন্যদিকে করোনায় আক্রান্ত ফারুককে কেবিনে রেখেই চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। হাসপাতালে নয় দিনের চিকিৎসায় পরপর দুই দফায় কোভিড-১৯ টেস্ট করানো হয়। ফলাফল পজিটিভ হলেও এই মুহূর্তে তাঁকে বাসা থেকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব বলেই চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় নেওয়া হয়েছে।

default-image

গতকাল রাতে ফারুকের স্ত্রী ফারহানা পাঠান বলেন, ‘পরপর দুবার কোভিড-১৯ টেস্ট করা হলে রেজাল্ট পজিটিভ আসে। কিন্তু ফারুক নিজেও অনেক সুস্থবোধ করছেন। কোনো ধরনের জটিলতা নেই। সবকিছুই স্বাভাবিক রয়েছে। তাই রাতেই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ফারুককে বাসায় নিয়ে চলে এসেছি। কোভিড-১৯ পজিটিভ থাকলেও ফারুক সুস্থ আছেন।’

তবে চিকিৎসক তাঁকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী। তিনি বলেন, ফারুকের খাওয়াদাওয়া স্বাভাবিক। চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য মন থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

default-image

জানা যায়, চিত্রনায়ক ফারুকের মেয়ে তাবাসসুম তুলসী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। পরিবার বলছে, বাবার সংস্পর্শ থেকে তাঁর করোনা পজিটিভ হয়েছে হয়তো। তবে হাসপাতাল নয়, এ অভিনেতার মেয়ে নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছেন। তিনিও এখন সুস্থ হয়ে উঠছেন।

বিজ্ঞাপন

দেড় মাস সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় ফেরেন বরেণ্য অভিনয়শিল্পী ফারুক। দেশে ফেরার ১১ দিনের মাথায় করোনায় আক্রান্ত হন তিনি। করোনায় আক্রান্তের খবর জানতে পারলে ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

default-image

এদিকে গতকাল রাতে আজিজুল হাকিমের স্ত্রী ও নাট্যকার-পরিচালক জিনাত হাকিম জানান, চিকিৎসকেরা আজিজুল হাকিমকে বাসায় ফেরার অনুমতি দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, আজিজুল হাকিমের শারীরিক অবস্থার বেশ উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাঁটাহাঁটি করতে পারছেন, স্বাভাবিক খাবারও খাচ্ছেন। মোবাইলে ফোনে সবার সঙ্গে কথা বলছেন। তবে শরীর এখনো বেশ দুর্বল। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, বাসায় ফিরলেও লম্বা সময় বিশ্রামে থাকতে হবে তাঁকে।

অন্যদিকে আজিজুল হাকিম, জিনাত হাকিম ও তাঁদের ছেলে মুহাইমিন রিদোয়ান হাকিম কোভিড-১৯ টেস্টের নেগেটিভ ফলাফল পেয়েছেন। তিনজনই ১০ নভেম্বর বাসা থেকেই রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছিলেন। কিন্তু ১২ নভেম্বর আজিজুল হাকিমের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এর মধ্যে ১২ দিন হাকিম পরিবারের সদস্যদের কাটাতে হয়েছে এই হাসপাতালেই। স্ত্রী-পুত্রের শরীরের অবস্থা গুরুতর না হলেও আজিজুল হাকিমকে যেতে হয় লাইফ সাপোর্টে। বাবা, মা ও ভাইয়ের চিকিৎসাসেবায় এ সময় সার্বক্ষণিক পাশে ছিলেন মেয়ে নাযাহ হাকিম, তাঁর স্বামী নাফিস ফুয়াদ শুভ, চাচা সোহেল হাকিমসহ অনেকেই।

default-image

জিনাত হাকিম জানান, দুদিন ধরে আজিজুল হাকিম মোবাইলে বিনোদন অঙ্গনের অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। যাঁরা গত ১২ দিন নানাভাবে এই অভিনেতার খোঁজ নিয়েছেন, তাঁদের নিজেই ফোন করে জানিয়েছেন কৃতজ্ঞতা। চেয়েছেন দোয়া। আজিজুল হাকিমকে আগামী দিনগুলোয় চিকিৎসকেরা বিশ্রাম ও সাবধানতা অবলম্বন করতে পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান জিনাত হাকিম।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন