বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, করোনার কারণে এমনিতেই মানুষের মনে শান্তি নেই। তা ছাড়া স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপার নিয়েও সবাই উদ্বিগ্ন। এর মধ্যে ঢাকার পাশাপাশি বাইরের প্রেক্ষাগৃহেও দর্শকের উপস্থিতি পরিস্থিতি অনুযায়ী সন্তোষজনক। এর আগে মুক্তি পেলেও শাকিব খানের ছবি ঈদে থাকায় সুবিধা হয়েছে। সারা দেশে এখনো তাঁর ছবি মুক্তি পেলে দর্শকেরা ছুটে আসেন। এটাও ঠিক, করোনার আগের মতো আশা করাটা উচিত নয়।একই মতামত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি কাজী শোয়েব রশীদেরও। তিনি বলেন, 'ঈদে অনেকগুলো বড় বাজেটের নতুন ছবি মুক্তির কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। প্রযোজকেরা নতুন ছবি মুক্তি দিতে আগ্রহী হননি। আশা করছি, সামনে পরিস্থিতি ভালো হলে চিত্রটাও পাল্টে যেতে পারে।'

default-image

ঈদে চট্টগ্রামের প্রেক্ষাগৃহে লাখ লাখ টাকার লোকসান
চট্টগ্রামের পুরোনো প্রেক্ষাগৃহের মধ্যে সিনেমা প্যালেস ঈদের সময়ে থাকে জমজমাট। কিন্তু করোনা প্রেক্ষাগৃহের পর্দা অন্ধকার করে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার মোহাম্মদ রফিক আক্ষেপ করে বলেন, ৪৪ বছর ধরে সিনেমা প্যালেসে কাজ করছেন তিনি। কখনো এমন চিত্র দেখেননি। সারা বছর মন্দা থাকলেও অন্তত ঈদের সময় মানুষের সমাগম বাড়ত। কিন্তু করোনার কারণে এপ্রিল থেকে বন্ধ রয়েছে হলটি। তাই ছিল না চিরচেনা সেই ভিড়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চট্টগ্রামে একসময় ২৭টি প্রেক্ষাগৃহ ছিল। বন্ধ হতে হতে এখন পর্যন্ত টিকে আছে মাত্র দুটি। লোকসান গুনতে গুনতে সর্বশেষ বন্ধ হয়েছে ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহ আলমাস। হলমালিক ও চট্টগ্রাম চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আকুল হোসেন আক্ষেপ নিয়ে বলেন, '১৯৭০ সালে পারিবারিকভাবে সিনেমা হল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হই। তখন থেকে প্রতি ঈদেই সিনেমা নিয়ে মানুষের উচ্ছ্বাস দেখেছি। কিন্তু এবার করোনা সে উচ্ছ্বাসে বাদ সেধেছে। করোনা হলের পর্দা অন্ধকার করে দিয়েছে। লাখ লাখ টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে।'

default-image

অভিরুচির ভাগ্য ফেরাতে পারেনি 'সৌভাগ্য'

বরিশাল নগরে একসময় চারটি প্রেক্ষাগৃহ ছিল। সোনালী, কাকলী, বিউটি ও অভিরুচি নামের এসব প্রেক্ষাগৃহে প্রচুর দর্শকও ছিল। বর্তমানে টিকে আছে শুধু অভিরুচি, তা–ও নিভু নিভু। ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা অভিরুচিও এখন দর্শকশূন্যতায় ধুঁকছে। তবু হলের সামনে শোভা পাচ্ছে ঈদের ছবির ব্যানার সৌভাগ্য। দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে প্রেক্ষাগৃহের একজন কর্মচারী বলেন, 'ছবি তো সৌভাগ্য লাগাইছি, কিন্তু আমাগো জীবনের ছবির নাম 'দুর্ভাগ্য'!' প্রেক্ষাগৃহটির কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনাকালে গত বছর লকডাউন শুরু হলে ছয় মাসের বেশি সময় বন্ধ ছিল। এরপর গত বছরের অক্টোবরে হলটি চালু করা হয়। দর্শক না থাকায় আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। হলের মালিক এখন আর এটা চালাতে চান না। তবু ব্যবস্থাপকের নেতৃত্বে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেরাই পেটের তাগিদে হলটি চালাচ্ছেন। ঈদ উপলক্ষে গত শুক্রবার হলটি চালু করেন। নতুন ছবি সৌভাগ্য দিয়ে চালু হলেও দর্শক না থাকায় দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়ছে না।

default-image

প্রতি শোয়ে সর্বোচ্চ ১০০ টিকিট বিক্রি হয়েছে

ঈদে রংপুরের দুটি প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের তেমন ভিড় নেই। শাপলা টকিজে সৌভাগ্য ও আকাশ টকিজে প্রিয়া আমার জান মুক্তি পেয়েছে। শাপলা সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ জানায়, ৮০০ আসনবিশিষ্ট এই প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের উপস্থিতি নেই বললে চলে। দিনে চারটি শো চললেও প্রতি শোয়ে সর্বোচ্চ ১০০ টিকিট বিক্রি হয়েছে। অথচ করোনারভাইরাসের আগে ঈদের সময় হলে দর্শকের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক।
ঈদের পরের দুদিন পর্যন্ত প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে জানা যায়, দর্শকের তেমন একটা উপস্থিতি নেই। এর মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। এমদাদ হোসেন নামের একজন বলেন, 'সময় কাটে না, তাই দল বেঁধে বড় পর্দায় সিনেমা দেখতে এসেছি। বড় পর্দায় একসঙ্গে সিনেমা দেখার মজাই আলাদা।' প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক শাহাবুদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের আগে প্রতি ঈদে ভালো দর্শক হতো। এরপরও এমন পরিস্থিতিতে যে পরিমাণ দর্শক আসছেন, এটিও ভালো খবর। ভালো মানের ছবি নির্মিত হলে ও করোনাকাল কেটে গেলে ঠিকই হলে দর্শক ছুটে আসবেন।

বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন