default-image

কবরী। বিশিষ্ট অভিনেত্রী। চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত আছেন ৪০ বছর। এখন তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে তোলা ২০০টি আলোকচিত্র আর তাঁর অভিনীত বিভিন্ন ছবির গানের ভিডিও ক্লিপিংস নিয়ে জাতীয় জাদুঘরে আজ থেকে শুরু হচ্ছে প্রদর্শনী ‘আমারে তুমি অশেষ করেছ’। উদ্বোধন হবে বিকেল চারটায়।
চলচ্চিত্র থেকে স্থিরচিত্র...
দুটি থেকে দুরকম ভাবের উদয় হয়। চিত্র। সেটা চলমান হোক বা স্থির হোক, দেখতে বসলে অনেক কিছু মনে পড়ে। স্থিরচিত্রের মজাও অন্য রকম। একেকটা ছবি একেকটা গল্প।
‘আমারে তুমি অশেষ করেছ’, যে ভাবনা থেকে এ আয়োজন...
আয়োজন করেছে গ্রিনভ্যালি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি মূলত প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করে। আমিও তাদের সঙ্গে আছি। গত ৪০ বছরে আমার সংগ্রাম, চলচ্চিত্রে অভিনয়, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, রাজনীতিবিদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ—এই দীর্ঘ পথচলাকেই আয়োজকেরা প্রদর্শনীতে তুলে ধরতে চাইছেন। জীবনে কতটুকু সফলতা পেয়েছি জানি না, তবে শুরু থেকে লড়াই করেছি। উদ্দেশ্য হলো এসব দেখিয়ে প্রতিবন্ধী শিশু আর তাদের অভিভাবকদের অনুপ্রাণিত করা। তাঁরা যেন এই বিশ্বাসটুকু পান, পৃথিবীতে যখন এসেছি, তখন টিকে থাকার জন্য যুদ্ধ করতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় আকাশবাণীতে প্রচারিত আমার বক্তব্য...
আকাশবাণীতে আমাকে নিয়ে যাওয়ার পর বলা হলো, আপনাকে কিছু বলতে হবে। আমি বললাম, আমি তো রাজনীতিবিদ নই, আমি কী করে বক্তব্য দেব। তাঁরা বললেন, আপনি অভিনেত্রী হিসেবেই কথা বলবেন। বললাম। ‘আমার দেশের নারী-পুরুষদের ওরা নির্বিচারে হত্যা করছে। বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান, আপনারা আমাদের পাশে দাঁড়ান...।’ এসব বলতে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম!
আমার কাছে যিনি ‘সত্যিকারের নায়ক’...
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যে মানুষটা বলতে পারেন, ‘আমার ভালোবাসাই আমার রাজনীতি’, তাঁর চেয়ে বড় নায়ক আর কে হতে পারেন? ভীষণ সুদর্শনও ছিলেন। হাসি, কণ্ঠস্বরে কোনো ছদ্মবেশ ছিল না। সত্যিকারের নায়ক তো তিনিই!
অভিনয় এবং রাজনীতি—দুটোর মধ্যে যেভাবে সমন্বয় করি...
আমি কিন্তু রাজনীতিবিদ নই, সংস্কৃতিসেবী হিসেবেই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। রাজনীতি আর অভিনয়ের স্থান ভিন্ন। রাজনীতিতে কখনো অভিনয় করিনি, আবার অভিনয়জীবনেও কখনো রাজনীতিকে স্থান দিইনি। দুটি কাজই করেছি মানুষকে ভালোবেসে আর মানুষের ভালোবাসার জন্য।
মো. সাইফুল্লাহ

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0