'বিদ্যা তো পুরোপুরি বাঙালি'

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবি ‘মনের মাঝে তুমি’-তে অভিনয় করেছিলেন যীশু সেনগুপ্ত। সেই ছবির শুটিংয়ের সময়কার স্মৃতি প্রথম আলোকে শোনালেন ভারতের বাঙালি এই অভিনেতা। তাঁর অভিনীত বলিউডের ছবি ‘শকুন্তলা দেবী’ মুক্তি পেয়েছে ৩১ জুলাই আমাজন প্রাইম ভিডিওতে। ছবিতে বিদ্যা বালানের স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন যীশু। এই ছবির সূত্র ধরেই আলাপ হলো যীশুর সঙ্গে। সাক্ষাৎকারের কিছু নির্বাচিত অংশ এখানে তুলে ধরা হলো—

default-image

নতুন স্বাভাবিকে আপনার ছবি মুক্তি পাচ্ছে। কেমন লাগছে?
-অদ্ভুত লাগছে। ভালো না খারাপ, আমি জানি না। কারণ এর আগে তো এমন হয়নি। আমার সিরিজ মুক্তি পেয়েছে ওটিটি (ওভার দ্য টপ) প্ল্যাটফর্মে। কিন্তু আমার ফিল্ম ওটিটিতেই প্রথম মুক্তি পেয়েছে, এমনটা আগে হয়নি। এটা প্রথমবার হচ্ছে আমার সঙ্গে। তবে আমরা অভিনেতারা সব সময় চাই, নিজের ছবিটা বড় পর্দায় মুক্তি পাক, একসঙ্গে অনেক মানুষ সিনেমা হলে আসুক, দেখুক। তারা হাসুক, তারা কাঁদুক। এবার সেটা হবে না। কিন্তু যেটা হবে, সেটা হচ্ছে, ২০০টা দেশে আমার ছবি একসঙ্গে মুক্তি পাবে। যখন ইচ্ছা মানুষ দেখতে পাবে। সেটা আবার থিয়েটারে ছবি মুক্তি পেলে হতো না।

‘শকুন্তলা’ ছবিতে বলিউডের বিদ্যা বালানের সঙ্গে অভিনয় করলেন। এর আগে একটা সাক্ষাৎকারে জেনেছিলাম, বিদ্যা নাকি মন থেকে পুরোপুরি বাঙালি। আপনি কেমন দেখলেন? বিদ্যা কতটা বাঙালি?
- শুধু মন থেকে না, বিদ্যা তো পুরোপুরি বাঙালি। ও মূলত সাউথ ইন্ডিয়ান। কিন্তু বাঙালি দেখলে বিদ্যা পুরোপুরি বাঙালি হয়ে যায়। বাংলায় কথা বলতে শুরু করে। খুবই ভালো বাংলা বলে, বাঙালি শাড়িগুলো পরতে ভালোবাসে।

default-image

বাংলা-বাঙালি এসব নিয়ে আপনাদের মধ্যে আলাপ হতো?
- আমাদের পুরো সেটটাতে ১০০ জনের মধ্যে শুধু আমি, বিদ্যা আর আমাদের একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর শিলাদিত্য বাংলায় কথা বলতাম। বিদ্যা মজা করতে খুব ভালোবাসে। এমন বেশ কয়েকবার হয়েছে, শুটিংয়ের ফাঁকে বিদ্যা আমাকে বলত, ‘চলো আমরা অনুর (পরিচালক অনু মেনন) দিকে তাকিয়ে বাংলায় কথা বলি।’ আমরা খুব সিরিয়াসলি ওর দিকে তাকিয়ে কথা বলে যাচ্ছি বাংলায়। অনু কিছুক্ষণ পর এসে আমাদের জিজ্ঞেস করত, ‘তোমরা আমাকে নিয়ে কী কথা বলছো?’ আমরা তখনো খুব সিরিয়াসলি বাংলাতেই বলতাম, ‘তোমাকে কিছু বলছি না মা!’ আমাদের সেটে এমন প্রচুর মজা হয়েছে।

‘শকুন্তলা’ ছবিটি একজন অনুপ্রেরণাদায়ক নারীর জীবনের গল্প। জানতে চাই আপনার জীবনে সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক নারী কে?
- আমার মা। আমার মা ২০০৮ সালে চলে গেছেন। কিন্তু আমি এখনো বিশ্বাস করি, মা এখনো আমার সঙ্গে আছেন। আজকে আমি যা কিছুই অর্জন করেছি, পুরোটাই মায়ের আশীর্বাদে। আমি অনেক আবেগপ্রবণ। আর এটা অনেকেই জানে, আমার অনেকগুলো আবেগি জায়গার মধ্যে মায়েরটা হচ্ছে সবচেয়ে ইমোশনাল জায়গা।

২০০৩ সালে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় ‘মনের মাঝে তুমি’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। সেই সময়ের কথা মনে আছে?
- হ্যাঁ। সে তো কোটি কোটি বছর আগের কথা! মনে আছে। আমার সঙ্গে রিয়াজ ছিল, আর পূর্ণিমা। আমাদের হায়দরাবাদ আর বেঙ্গালুরুতে শুটিং হয়েছিল। বহু বছর আগের কথা। হঠাৎ করে পুরোনো অনেক স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দিলেন।

কিছু স্মৃতি কি আমাদের সঙ্গে শেয়ার করা যায়?
আমাদের গানের একটা শুটিং হয়েছিল, যেটায় আমাকে বাইক চালাতে হবে। কিন্তু আমি বাইক অত ভালো চালাতে জানতাম না। তখন ওই গানটা করতে গিয়ে খুব ভালো বাইক চালানো শিখে ফেললাম।

default-image

এরপর আপনাকে বাংলাদেশের আর কোনো ছবিতে দেখা যায়নি। এর পেছনে কোনো কারণ আছে?
- এটা খুব দুঃখের ব্যাপার। এরপর কোনো বাংলাদেশের ডিরেক্টর আমাকে আর নিলই না।

২২ বছর হয়ে গেল আপনার অভিনয়জীবনের। সবার ক্যারিয়ারেই ওঠানামা থাকে। জানতে চাই, আপনার জীবনের কঠিন সময় কোনটা ছিল? সেই সময় নিজেকে কীভাবে সামলে রাখতেন?
-আমি লোকের মুখেই শুনেছি যে আমি নাকি ভীষণ স্ট্রাগল করেছি। কিন্তু আমি কখনো সেভাবে ভাবিনি। আমার কাজ করে যাওয়ার, আমি করে গেছি। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে আমাকে আনলাকি অ্যাক্টর বলা হতো। বড় বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাজ আমি পেতাম না। আমাকে নিত না, পাছে ছবি না ফ্লপ করে যায়। খারাপ লেগেছে, বাড়িতে এসে বাথরুমে ঢুকে কেঁদেছি। সেই সময়ও গেছে, কিন্তু অত ভাবিনি। মনে হয়েছে, আমি যদি অভিনয়টা পারি, ঠিকমতো মন দিয়ে কাজটা করতে পারি, আর অন্য কারও ক্ষতি না করি, তাহলেই তো হলো। এই তিনটা জিনিস মাথায় রেখে চলেছি। আজ ২২ বছর কেটে গেল, সেই সময়ও পেরিয়ে গেল। জীবনটা তো খারাপ না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন