default-image

পৃথিবীর ইতিহাসের দিকে তাকালে একটি সত্য প্রায় সব যুদ্ধের ক্ষেত্রেই সত্য। যুদ্ধের সবচেয়ে বড় শিকার নারী—যুদ্ধের বীরত্বগাথার তুলনায় এ সত্য যদিও অনুজ্জ্বল। ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধেও নেই তার ব্যতিক্রম। রাষ্ট্র নির্যাতিত নারীদের বীরাঙ্গনার সম্মান দিলেও সমাজ দেয়নি। নির্মাতা ফারজানা ববি এমনই তিন নারীর জীবনযন্ত্রণা তুলে ধরেছেন তাঁর বিষকাঁটা প্রামাণ্যচিত্রে। তাঁরা হলেন রমা চৌধুরী, হালিমা খাতুন ও রঞ্জিতা মণ্ডল।
‘বীরাঙ্গনা’ খেতাব পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের শিকার নারীদের বরণীয় করেনি। বরং বীরত্বের সঙ্গে জীবনযুদ্ধে নিজের চিন্তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এ নারীরা। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে তাঁরা যে সম্পূর্ণতায় দেখতে পারেন, তার খোঁজ করতে চেয়েছে বিষকাঁটা। এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী হলো গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ছায়ানট মিলনায়তনে। অবশ্য এর আগে ঢাকা আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসবে এটি একবার প্রদর্শিত হয়েছে।
ছবিতে নিজের জীবনযন্ত্রণা হালিমা খাতুন তুলে ধরেন এভাবে, ‘আমার যুদ্ধ কোনো দিন শেষ হয়নি। পুনর্বাসন, মিথ্যে কথা! শাস্তি যে কত রকম আছে, সেটা আমি দেখে আসছি।’ কিংবা রঞ্জিতা মণ্ডলের কথায়, ‘এই যে চোন খোনকার মরার আগে যদি এসে হাত-পা ধরে বলত, মাফ করে দাও! একটু মাফও তো কেউ চাইল না।’ এ যন্ত্রণার বিপরীতে রমা চৌধুরী বলছেন, ‘যেটা ধরে নিয়ে গিয়েছিল, সেটা যতবার দেখেছে মাথা নুইয়ে রাখছে...তার বোধ হয় অনুশোচনা এসেছে...মরলে তো মরে গেছে, না মরলেও আমি তাকে মাফ করে দিয়েছি।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন ইতিহাসবিদ আহমেদ কামাল, নির্মাতা মানজারে হাসিন মুরাদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক আফসান চৌধুরী ও নৃবিজ্ঞানী রেহনুমা আহমেদ।
৪১ মিনিট দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রটির সংগীতায়োজন করেছেন দিলজিৎ সজল। ‘বিষকাঁটা’ শীর্ষক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন প্রিয়াংকা গোপ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত রঞ্জিতা মণ্ডল ও রমা চৌধুরীকে প্রণতি জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন
বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন