
আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবস।
মৃত্যুকে নিয়ে কি ভয় ছিল রবীন্দ্রনাথের? চলে যাওয়া নিয়ে কী ভাবতেন তিনি? এ ব্যাপারে অনেকভাবেই লিখেছেন তিনি। আজ মৃত্যু নিয়ে তাঁর সে রকম দুটো ভাবনার কথা তুলে ধরা হলো।
রবীন্দ্রনাথ মারা গিয়েছিলেন ১৯৪১ সালে। তাঁর আগেই বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন অনেকবার। তাঁর বাঁধানো হলুদ রঙের ডায়েরির একটি পাতার দিকে তাকাতে পারি আমরা। ১৯৩৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তিনি লিখছেন, ‘মরে যাবার পরেও লোকে কেন যে কামনা করে, তাদের নিয়ে হৈ-চৈ হোক, তাদের লেখার, কীর্তির গুণগান হোক। এত বড়ো মূর্খতা এই মানুষেরাই করে। এর চেয়ে বড়ো বোকামি আর কিছুতেই হতে পারে না। আরে, মরেই যদি গেলুম, তার পর তা নিয়ে কী হল না হল, তা নিয়ে কী এল আর গেল। লিখছি, নিজে আনন্দ পাচ্ছি; এই তো যথেষ্ট। এর চেয়ে বেশি চাওয়া আর কাকে বলে।’
২.
রবীন্দ্রনাথের জীবনে তাঁর নতুন বৌঠানের (কাদম্বরী দেবী, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী) ছিল অবদান বিশাল। শেষ বয়সে এসে তিনি যখন নতুন বৌঠানের স্মৃতিচারণ করতেন, তখন তা হয়ে উঠত বাঙময়।
রানী চন্দকে একবার তিনি বলছিলেন, ‘দেখ, মরে যে যায়, সে যায়ই। আর তাকে দেখতে পাওয়া যায় না। শুনতাম, ডাকলে নাকি আত্মা এসে দেখা দেয়। সে ভুল। নতুন বৌঠান মারা গেলেন, কি বেদনা বাজল বুকে। মনে আছে সে সময়ে আমি গভীর রাত পর্যন্ত ছাদে পায়চারী করেছি আর আকাশের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে বলেছি, ‘কোথায় তুমি নতুন বৌঠান? একবার এসে আমায় দেখা দাও। কতদিন এমন হয়েছে—সারা রাত এভাবে কেটেছে। সেই সময় আমি এই গানটাই গাইতুম বেশি: আমার বড় প্রিয় গান’।
এ কথা বলে গেয়ে উঠতেন রবীন্দ্রনাথ,
‘আমার প্রাণের ’পরে চলে গেল কে
বসন্তের বাতাসটুকুর মতো
সে যে ছুঁয়ে গেল নুয়ে গেল রে—
ফুল ফুটিয়ে গেল শত শত।’
এরপর রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন একবার, ‘দেখ, মজা এই, যে মরে যায়, তার আর বয়স বাড়ে না। আমার নতুন বৌঠান, তিনি যেন ওইটুকু মেয়েই রয়ে গেলেন। আর আমি কতো বুড়ো হয়েছি, ঝুঁকে পড়েছি।’
রানী চন্দের লেখা ‘আলাপচারি রবীন্দ্রনাথ’ ও ‘গুরুদেব’ বই দুটি অবলম্বনে