বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

‘রানওয়ে থার্টিফোর’ ছবির মূল চরিত্রে বলিউড মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন, রাকুল প্রীত সিং, বোমান ইরানিসহ আরও অনেকে আছেন। অমিতাভ বচ্চনের মতো মহাতারকাকে পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে অজয় বলেন, ‘আমার মনে হয় প্রতিটি পরিচালকের স্বপ্ন থাকে যে অমিতাভ বচ্চনকে পরিচালনা করবেন। আমি পরিচালক হিসেবে তাঁর পারফরম্যান্সের সাক্ষী হয়ে ছিলাম। আর নিজেকে কীভাবে পরিচালকের কাছে সমর্পণ করতে হয়, তা আমি স্বচক্ষে দেখলাম। অমিতাভ স্যার কিংবদন্তিতুল্য অভিনেতা হওয়া সত্ত্বেও পরিচালকের কাছে অনুগত। তিনি আমাদের সবাইকে সম্পূর্ণভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন।’

default-image

‘অমিতাভ বচ্চনের মতো তারকাকে পরিচালনা করার সময় কোনো চাপ কি অনুভব করেছিলেন?’ জবাবে মুচকি হেসে অজয় বলেন, ‘আমি তাঁকে অনেক ছোট বয়স থেকে চিনি। তাই চাপের প্রশ্ন নেই। আসলে তাঁর সঙ্গে আমার দারুণ সম্পর্ক।’

তবে প্রথমবার নয়, এর আগে ‘মেজর সাহেব’ ছবিতে বিগ বি অজয়ের পরিচালনায় অভিনয় করেছিলেন বলে শোনা যায়। এ কথা জিজ্ঞেস করতেই এই বলিউড সুপারস্টার বলেন, ‘খাতা–কলমে আমি “রানওয়ে থার্টিফোর” ছবিতে অমিতজিকে পরিচালনা করেছি। এর আগে “মেজর সাহেব” ছবিতে তাঁকে পরিচালনা করেছিলাম। আসলে এই ছবির শুটিংয়ের সময় পরিচালক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। আর তখন অমিতজি আমাকে সেদিনের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব সামলানোর কথা বলেছিলেন। মাত্র কয়েকটা দৃশ্য আমি পরিচালনা করেছিলাম।’

default-image

অমিতাভ বচ্চন শুটিংয়ের আগে মহড়া করতে পছন্দ করেন বলে শোনা যায়। এ প্রসঙ্গ তুলতেই অজয় বলেন, ‘হ্যাঁ, তিনি বারবার মহড়া করেন। তবে ক্যামেরার সামনে যখন তিনি শট দেন, তখন একদম আলাদা। মহড়ার সময় যেমন ছিলেন, তার থেকে একদম আলাদা।’

সেদিনের আলাপচারিতায় কথায় কথায় উঠে আসে প্যান ইন্ডিয়ান ছবির প্রসঙ্গ। সম্প্রতি রাজামৌলির প্যান ইন্ডিয়া ছবি ‘আরআরআর’-এ ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করে অজয় সবার নজর কেড়েছেন। অজয় এই ছবি সম্পর্কে বলেন, ‘আমি কিছুই করিনি। এসব নির্দেশকের ক্যারিশমা। আমার চরিত্রটা ছোট হলেও শক্তিশালী ছিল। তাই আমি এই চরিত্রে কাজ করতে রাজি হয়েছিলাম। হলিউডের ছবিতে দেখেছি যে বড় বড় অভিনেতারা অন্য ছবিতে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করছেন। আমি বুঝে উঠতে পারি না যে আমরা কেন সেটা করতে পারি না। বলিউড অভিনেতাদের অতিথি শিল্পী হিসেবে পর্দায় আসতে কিসের আপত্তি, আমি বুঝতে পারি না। আমার তো এ রকম মনে হয় না।’

default-image

কিছুদিন আগে সালমান খান এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে এখন রুপালি পর্দা থেকে নায়কোচিত বিষয়টা ক্রমশ গায়েব হয়ে যাচ্ছে। অজয়ের কাছে ‘হিরোইজম’–এর পরিভাষা কী? জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে হিরোইজম মানে আত্মবিশ্বাস। নিজেকে আরও আগে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আর এটা তখনই সম্ভব, যখন আপনি আপনার নিজের সঙ্গে সহজ হয়ে উঠবেন। তবে আমি মনে করি এখন চিত্রনাট্য আর কাহিনি থেকে এসব কিছু গায়েব। আমি “ভোলা” বলে একটা ছবি করছি, এটা পুরোপুরি অ্যাকশনধর্মী ছবি।’

অজয় ও তাঁর স্ত্রী কাজল রুপালি পর্দায় অনায়াসে পাশের বাড়ির মানুষটি হয়ে উঠতে পারেন। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় সবাই দারুণ পছন্দ করে। অজয় এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমরা দুজনই স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় করি। কিন্তু আমরা বাড়িতে কাজের বিষয়ে আলাপ–আলোচনা করি না। অভিনয়শিল্পীদের দুটো প্রকার হয়। একদল মেথড অভিনয়ে বিশ্বাস করে। আরেক দল স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় করতে পছন্দ করে। আমরা স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়ে বিশ্বাসী। আমরা দুজন কোনো দৃশ্যকে অনুভব করে অভিনয়টা করি।’

default-image

অজয় ভাগ্যে কতটা বিশ্বাসী? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই পুরোপুরি ভাগ্যে বিশ্বাসী নই। আমি মনে করি, আমার সফলতার পেছনে ৫০ শতাংশ ভাগ্য যদি থাকে, তাহলে ৫০ শতাংশ আমার পরিশ্রম রয়েছে।’
আজ ২৯ এপ্রিল অজয় দেবগনের ছবি ‘রানওয়ে থার্টিফোর’ মুক্তি পেয়েছে। এখন ‘ময়দান’, ‘থ্যাঙ্ক গড’, ‘ভোলা’ ছবির শুটিং করছেন তিনি। এরপর ‘দৃশ্যম টু’, আর ‘সিংহম থ্রি’ ছবির শুটিং শুরু করবেন অজয়।

বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন