এক বছর হলো নেই ইরফান খান । ইরফানের শেষ কথাগুলোর একটি ছিল, ‘মাঝেমধ্যে জীবন আমাদের ঝাঁকুনি দিয়ে নাড়িয়ে দেয়।’ ইরফান বরাবরই ছবির জন্য বিরল গল্প খুঁজতেন। আর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০২০ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে তিনি নিজেই থাকলেন বিরল এক গল্প হয়ে। মারা গিয়েও ইরফান যে আছেন, তার প্রমাণ মিলল গত বছর। ইরফান ছিলেন আলোচনায়, শ্রদ্ধায়, সিনেমায়, পুরস্কারের ঝলমলে আয়োজনে।
ইরফান খানের মৃত্যুর আগেই মহামারিকালে স্বল্প পরিসরে কয়েকটি সিনেমা হলে মুক্তি দেওয়া হয় তাঁর অভিনীত শেষ ছবি আংরেজি মিডিয়াম। ছবিটি মুক্তি পায় ওটিটিতেও। ইরফানকে দেখে আবেগে আপ্লুত হয়েছেন বলিউড তারকারা। তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন সেই অনুভূতি।

default-image

বিভিন্ন সময়ে হলিউড তারকা সালমা হায়েক, ক্রিস প্যাটরা শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করেছেন এই অভিনেতাকে। ইরফানের ‘দ্য সং অব স্করপিয়নস’ ছবির সহশিল্পী গুলসিফতেহ ফারহানি। তিনি ইরফানকে নিয়ে লিখেছেন, ‘ইরফান আমার জীবনের সেরা সহকর্মী। তিনি চোখ বন্ধ করেও অনেক কিছু দেখতে পান। সবার চেয়ে বেশি শুনতে পান। আর তাঁর হাসির সঙ্গে মহাবিশ্বের আর কোনো কিছুর তুলনা নেই। ইরফান যেন পারস্যের কবি রুমির চলমান কাব্য।’

default-image
ইরফান আমার জীবনের সেরা সহকর্মী। তিনি চোখ বন্ধ করেও অনেক কিছু দেখতে পান। সবার চেয়ে বেশি শুনতে পান। আর তাঁর হাসির সঙ্গে মহাবিশ্বের আর কোনো কিছুর তুলনা নেই। ইরফান যেন পারস্যের কবি রুমির চলমান কাব্য
গুলসিফতেহ ফারহানি
বিজ্ঞাপন

আংরেজি মিডিয়াম ছবির জন্য ফিল্মফেয়ারে সমালোচনা বিভাগে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন ইরফান। সেদিন ইরফানের হয়ে তাঁর পুরস্কার নিয়েছেন বড় ছেলে বাবিল। মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাবিল আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, বাবার দেখানো পথে, বড় পর্দার বন্ধুর পথে হাঁটবেন তিনি। ইরফানের যেটুকু পথচলা বাকি ছিল, উত্তরাধিকারসূত্রে সেটি চলবেন বাবিল। পিতা–পুত্র মিলেই পৌঁছবেন গন্তব্যে।

default-image
মারা গিয়েও ইরফান যে আছেন, তার প্রমাণ মিলল গত বছর। ইরফান ছিলেন আলোচনায়, শ্রদ্ধায়, সিনেমায়, পুরস্কারের ঝলমলে আয়োজনে।
ইরফান খানের মৃত্যুর আগেই মহামারিকালে স্বল্প পরিসরে কয়েকটি সিনেমা হলে মুক্তি দেওয়া হয় তাঁর অভিনীত শেষ ছবি আংরেজি মিডিয়াম

সম্প্রতি ৯৩তম অস্কারের মঞ্চে ‘ইন মেমোরিয়াম’ বিভাগে স্মরণ করা হলো প্রয়াত এই অভিনেতাকে। হলিউডের ‘দ্য নেমসেক’, ‘ইনফার্নো’, ‘লাইফ অব পাই’ ছবিতে দেখা গেছে ইরফানকে।

default-image

প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাবিল জানিয়েছিলেন, ইরফান খানের মারা যাওয়ার দুদিন আগে তিনি ছিলেন বাবার সঙ্গে। ধীরে ধীরে ইরফানের সবকিছু নিস্তেজ হয়ে আসছিল। সেই সময় হঠাৎ চোখ মেলে তাকিয়েছিলেন তিনি। স্মিত হেসে বলেছিলেন, ‘আমি মারা যাচ্ছি।’ তারপর আর কখনো কথা হয়নি এই পিতা–পুত্রের।

বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন