default-image

ঐশ্বরিয়া বচ্চন বাড়ির বউ হয়ে আসার পর নাকি সেখানকার কিছুই বদলায়নি। কে বলেছে এ কথা? স্বয়ং তাঁর ননদ, লেখিকা শ্বেতা বচ্চন নন্দা। টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘কফি উইথ করণ’-এ এবার ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনকে নিয়ে কথা বললেন তাঁর স্বামী অভিষেক বচ্চন ও ননদ শ্বেতা বচ্চন নন্দা। কী অপছন্দ সেসবের পাশাপাশি ঐশ্বরিয়ার নানা গুণের কথাও বলেছেন তাঁরা।

করণ জোহরের ‘কফি উইথ করণ’-এর রোববারের পর্বে এসেছিলেন উপস্থাপকের বাল্যবন্ধু অভিষেক বচ্চন ও শ্বেতা বচ্চন নন্দা। বাল্যবন্ধুদের এই মিলনমেলায় রসিকতা করতে ছাড়েননি অভিষেক। বলেছেন, তোমার এই শো আমার মোটেই পছন্দ না। এসেছি কারণ তুমি আমার মুন্ডনে গিয়েছিলে, বিয়েতে নেচেছিলে।

তিনজনের বাল্যকালের স্মৃতিচারণা দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন উপস্থাপক ও চলচ্চিত্রনির্মাতা করণ জোহর। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তাঁরা একসঙ্গে কত আড্ডা দিয়েছেন, দর্শকদের সেসবের একটি ধারণা দিয়ে নেন তিনি। হৃতিক রোশন, আদিত্য, উদয় চোপড়া, জয়া, ফারহান আখতারসহ আরও অনেক তারকা সন্তানেরা উপস্থিত থাকতেন তাঁদের সেই আড্ডায়। এমনকি অভিষেককে তিনি এ–ও মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, জয়া ও শ্বেতার সঙ্গে করণের ভাব বেশি ছিল বলে প্রায়ই তাঁদের খোঁচাতেন অভিষেক।

অনুষ্ঠানের শুরুতে দুই ভাই-বোনের কাছে করণের প্রশ্ন ছিল, বাবা-মায়ের কাছে কে সবচেয়ে বেশি আদরের? শ্বেতা বলেছেন, অভিষেক হচ্ছেন মায়ের আদরের ধন। আর অভিষেক বলেছেন, শ্বেতা হচ্ছেন বাবার চোখের মণি। শ্বেতা বলেন, ‘অভিষেক বাড়িতে ফিরলে মায়ের চোখ জ্বলজ্বল করে উঠত। “কাভি খুশি কাভি গাম” ছবিতে শাহরুখ খানকে দেখে মায়ের ওরকম হতো।’ আর অভিষেক বলেন, ‘শ্বেতা ঘরে থাকলে বাবা আর কাউকেই পাত্তা দেন না।’

default-image

শ্বেতার কাছে করণের প্রশ্ন ছিল, অভিনয় করতে গিয়ে তাঁর ভাইকে নানা চাপ সহ্য করতে হয়। এসব দেখার পরও কি তুমি চাইবে যে তোমার বাচ্চারা এই অঙ্গনে কাজ করুক? শ্বেতা বলেন, ‘যখন সবকিছু এলোমেলো হয়ে থাকে, তখন বাপ-ভাইয়ের মুখের দিকে তাকাতে পারি না আমি। আমি ইনস্টাগ্রামে আছি, আমি জানি কী পরিমাণ উপহাসের শিকার হতে হয় অভিষেককে। কেউ তাকে পছন্দ করুক বা না করুক, কেবল অমিতাভের ছেলে বলে সে এসব সহ্য করে। ওসব দেখে বোন হিসেবে আমি বিরক্ত হয়ে যাই। আমি রাতে ঘুমাতে পারি না। এসব কারণে আমি চাই না আমার বাচ্চারা সিনেমায় আসুক। জানি না আমার মেয়েটা অভিনয় করতে পারবে কি না। আমি চাই, ভালো না লাগলে, ভেতর থেকে তাড়া অনুভব না করলে, সে যেন এসবে না যায়।’

অনুষ্ঠানে উঠে আসে শ্বেতা-অভিষেকের মা জয়া বচ্চনের কথা। তিনি কেন আলোকচিত্রীদের দেখতে পারেন না? ‘মা আলোকচিত্রীদের দেখতে পারেন না কথাটা পুরোপুরি ঠিক নয়। আসলে বেশি লোক এক জায়গায় জড়ো হলে তিনি অস্বস্তি বোধ করেন। তাঁর আসলে সমস্যা অনুমতি না নিয়ে ছবি তোলায়। বিশেষ করে সেলফি শিকারিদের তিনি সহ্য করতে পারেন না’, বলেন শ্বেতা।

default-image

ঐশ্বরিয়া বউ হয়ে আসার পর অভিষেকের জীবনের পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন করণ জোহর। অভিষেক বলেছেন, তেমন কিছুই বদলায়নি। আর শ্বেতা মনে করেন, সংসারে নতুন কেউ এলে দায়িত্ব নেওয়ার লোকটি কেবল বদলায়। ঐশ্বরিয়া আসার পর আমি একটু স্বস্তি পেয়েছিলাম এই ভেবে যে অভিষেকের কাজগুলো বোঝার মতো একটা মানুষ পাওয়া গেল।

করণের অনুষ্ঠানে ছিল একটি ‘দ্রুত জবাব’ দেওয়ার অংশ। সেখানে শ্বেতাকে ফাঁস করতে বলা হয় অভিষেকের গোপন কোনো বিষয়। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় অভিষেক সব সময় বুড়ো আঙুল চুষত আর বিছানা ভেজাত।’ অন্যদিকে ঐশ্বরিয়াকে পছন্দের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘তাঁকে পছন্দ করি কারণ সে আত্মপ্রত্যয়ী, শক্ত মেয়েমানুষ এবং ভালো মা। তবে বিরক্ত লাগে তাঁর কড়াকড়ি। এমন নিয়মকানুন মেনে সে সংসার চালায়, এসব ভালো লাগে না।’

ঐশ্বরিয়া প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, ঐশ্বরিয়া তাঁকে ভালোবাসে বলেই তিনি ঐশ্বরিয়াকে ভালোবাসেন। তবে সব সময় বাড়ি গোছগাছ করে রাখার স্বভাবটা তাঁর পছন্দ নয়। তবে এর কোনো কিছুই দুজনের সম্পর্ককে শিথিল করতে পারে না। হিন্দুস্তান টাইমস

বিজ্ঞাপন
বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন