default-image

গেল বছর ১৪ জুন সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকেই নানা মন্তব্য করে সংবাদ শিরোনাম হচ্ছেন বলিউড তারকা কঙ্গনা রনৌত। বিগত ৭ মাসে বলিউড, টুইটার বিতর্ক কিংবা রাজনীতি—সব অঙ্গন মাতিয়ে রেখেছে একটাই নাম, কঙ্গনা। যাঁর ডায়েরিতে ‘চুপ থাকা’ বলে কোনো শব্দ নেই যেন। অনলাইন দুনিয়ায় প্রতিদিনই নিত্যনতুন মন্তব্য ছুড়ে দেন তিনি। অনেকে সেগুলোকে ‘প্রলাপ’ বলেও বিবেচনা করেন। আর সেই ‘প্রলাপ’ নিয়ে আলাপ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ‘শব্দবোমা’ সম্বোধন করেন। শব্দবোমার অভিযোগে এবার তাঁকে শিক্ষা দিল টুইটার। মুছে দিল তাঁর টুইট। কর্তৃপক্ষ সরাসরি বলে দিয়েছে, ‘টুইটারের নিয়ম ভাঙে, এমন টুইটের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

default-image

এর আগে টুইটার থেকে সতর্ক করা হয়েছিল, কঙ্গনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিংসা-বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন! তাঁর অ্যাকাউন্টের ওপর কড়া নজরদারি রাখার কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু কঙ্গনা চুপ থাকার মানুষ নন। তাই ব্যক্তির পাশাপাশি ভারতের সামাজিক-রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে একের পর এক বেফাঁস মন্তব্য করে যাচ্ছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

চলতি কৃষক আন্দোলনকে কখনো ‘সন্ত্রাসবাদ’ বলে কটাক্ষ করেছেন, তো আবার কখনো–বা বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে টুইট করায় মার্কিন পপস্টার রিয়ানাকে ‘পর্নো গায়িকা’ বলে আক্রমণ করেছেন। শুধু তা–ই নয়, রীতিমতো এই অভিনেত্রী ক্রিকেটার রোহিতকে কুকুরের সঙ্গে তুলনা করে টুইট করেছেন।

default-image

তিনি লিখেছেন, ‘এই ক্রিকেটারদের ধোবিঘাটের কুকুরের মতো মনে হচ্ছে কেন? এদিকেও নেই, ওদিকেও নেই। ভালোর জন্য করা আইনের বিরুদ্ধে কেন যাবেন কৃষকেরা। এরা সবাই সন্ত্রাসী...।’ আর অভিনেত্রীর এই ‘লাগামহীন’ কথাবার্তার জন্যই টুইটার কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। হিংসা-বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে মুছে দেওয়া হয়েছে কঙ্গনার করা দুটি টুইট।

default-image

এর আগে তাবলিগ জামাত নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন কঙ্গনা রনৌত। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে এখনো কঙ্গনার বিরুদ্ধে মামলা চলছে। কিন্তু সেসব আমলে নেননি তিনি! একসময়ের বলিউড তারকা ঊর্মিলা মাতন্ডকরকে বলেছিলেন, পর্নো তারকা। ঊর্মিলা মাতন্ডকরের চার কোটি টাকার ফ্ল্যাট নিয়েও কটাক্ষ করলেন কঙ্গনা।

মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কটাক্ষ করে কঙ্গনা বলেছেন, ‘গজনি বাইডেন’। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা হ্যারিসকে বড় করে তুলে ধরতে গিয়ে জো বাইডেনকে খাটো করেছেন কঙ্গনা।

default-image

টুইটে লিখেছেন, ‘গজনি বাইডেনের কথা বলতে পারি না! ৫ মিনিট পরপর (বয়স্ক) লোকটার মেমোরি ক্রাশ করে। তাঁর লোকজন কী সব ওষুধপত্র খাওয়ায়, কে জানে! মনে হচ্ছে কমলা হ্যারিসকেই সবটা সামলাতে হবে। জো বাইডেনকে কেবল সামনে বসিয়ে রেখে তাঁকেই শো চালিয়ে নিতে হবে।’
কৈশোরে ভালো শিক্ষার্থী ছিলেন কঙ্গনা রনৌত। মা-বাবা কঙ্গনাকে চিকিৎসক হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। একসময় পড়াশোনা থেকে মন উঠে গিয়েছিল কঙ্গনার। মাধ্যমিক পাস করে কঙ্গনা চণ্ডীগড়ে যান মেডিকেলের কোচিং করতে। কোচিং করা তো দূরের কথা, নাম লেখালেন একটা সুন্দরী প্রতিযোগিতায়। সেবার বিজয়ীর মুকুট উঠেছিল কঙ্গনার মাথায়ই। তখনই কঙ্গনা ঠিক করেন, তিনি ডাক্তারি পড়বেন না, মডেলিং করবেন।

বিজ্ঞাপন
বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন