default-image

বিপদ ছাড়ছেই না উপমহাদেশের প্রথিতযশা অভিনেতা দিলীপ কুমারকে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই ভাইকে হারিয়েছেন বর্ষীয়ান এ অভিনেতা। শরীরটাও ভালো যাচ্ছে না তাঁর। যদিও আপাতত বিপদমুক্ত ৯৭ বছর বয়সী এই অভিনেতা। করোনাকালে তাঁর বিশেষ যত্ন নেওয়া হচ্ছে। সার্বক্ষণিক পাশে রয়েছেন স্ত্রী সায়রা বানু।

গত শুক্রবার মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে মারা যান দিলীপ কুমারের ভাই আসলাম খান। তাঁর বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৮০ বছর। সে সময় তাঁর আরেক ভাই আহসান খানও করোনায় আক্রান্ত হয়ে একই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গত বুধবার রাতে তিনিও মারা যান। পরপর দুই ভাইয়ের মৃত্যুতে স্তব্ধ দিলীপ কুমারের পরিবার। তবে শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে স্বামীকে তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানাননি সায়রা বানু। এ সময় তিনি হয়তো দ্বিতীয় ভাইয়ের মৃত্যুসংবাদের ধকল নিতে পারবেন না।

বিজ্ঞাপন
default-image

ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে রাত ১১টা নাগাদ মৃত্যু হয়েছে আহসান খানের। তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৯০ বছর। উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের সমস্যা ছিল তাঁর। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক জলিল পার্কার আহসানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দিলীপ কুমারের মুখপাত্র ফয়সাল ফারুখও টুইটারে তাঁদের মৃত্যুসংবাদ নিশ্চিত করেছেন।

কোভিড-১৯ পজিটিভ ছিলেন আহসান ও আসলাম খান। দুজনেরই রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। দুজনই জলিল পার্কারের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি ডায়াবেটিসের রোগী ছিলেন আসলাম খান। এ ছাড়া হাইপারটেনশন ও হৃদরোগও ছিল তাঁর।

করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকেই বার্ধক্যসহ নানা রোগে আক্রান্ত দিলীপ কুমার কোয়ারেন্টিনে চলে যান। টুইটে তিনি জানান, করোনাভাইরাসের হাত থেকে নিরাপদে থাকতে স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টিনে আছেন তিনি। গত মার্চ মাসে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতাল ছাড়েন তিনি। সে সময় টুইটারে তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী সায়রা আমাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না। সেই কারণেই অসুস্থতার কথা মাথায় রেখে আমি কোয়ারেন্টিনে আছি।’ শুধু নিজের সাবধানতার কথাই নয়, ভক্তদেরও সাবধানে থাকার পাশাপাশি অকারণ ভীতি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘খুব দরকার না হলে বাড়ি থেকে বের হবেন না।’

default-image

পাকিস্তানের পেশোয়ারের এক ছোট্ট শহরে দিলীপ কুমারের জন্ম। তাঁর নাম ছিল মহম্মদ ইউসুফ খান। পুনেতে নিজের ক্যানটিন ব্যবসা শুরু করা পর্যন্ত তাঁর জীবন ছিল সাদামাটা। পুনে থেকে বাবার হাত ধরে মুম্বাই গিয়ে তাঁর জীবনে লাগে পরিবর্তনের হাওয়া। সেই বদলে নাম বদলে তিনি হন দিলীপ কুমার। ১৯৪৪ সালে অভিনয় করেন ‘জোয়ার ভাটা’ ছবিতে। এরপর একে একে ‘নদিয়া কে পার’, ‘মেলা’, ‘আন্দাজ’, ‘জোগান’, ‘বাবুল’, ‘আরজু’, ‘দিদার’, ‘তারানা’, ‘দাগ’-এর মতো ছবিতে কাজ করে বলিউডকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। ‘দেবদাস’, ‘গঙ্গাযমুনা’, ‘ক্রান্তি’ থেকে ‘মোগল-ই-আজম’ ছবিগুলোতে অভিনয় করে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অমর নায়কে পরিণত হয়েছেন তিনি।

দিলীপ কুমারের প্রেম ছিল কামিনী কুশলের সঙ্গে। পরে ৯ বছর তিনি প্রেম করেন মধুবালার সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত বিয়েটা করা হয়নি তাঁদের। রাজি হননি মধুবালার বাড়ির লোকেরা। পরে তিনি বিয়ে করেন নিজের থেকে ২২ বছরের ছোট অভিনেত্রী সায়রা বানুকে। তাঁর সঙ্গেই ৫৪ বছরের সংসার নায়কের। ১৯৯৪ সালে ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কারে ভূষিত হন দিলীপ কুমার।

বিজ্ঞাপন
বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন