কুম্ভমেলায় গিয়েছিলেন প্রয়াত শ্রাবণ  শ্রাবণ রাঠোর
কুম্ভমেলায় গিয়েছিলেন প্রয়াত শ্রাবণ শ্রাবণ রাঠোরছবি: কোলাজ

সংগীত পরিচালক জুটি ‘নাদিম-শ্রবণ’ জুটির শ্রাবণ রাঠোর। স্বাভাবিকভাবেই এই জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা বলিউড। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বলিউডে ‘মেলোডি’ ফিরিয়ে আনার অন্যতম কারিগর ছিলেন এই ‘নাদিম-শ্রাবণ’ জুটি। ‘আশিকি’, ‘ফুল অর কাঁটে’, ‘সড়ক’, ‘সাজান’, ‘রাজা হিন্দুস্তানি’, ‘পরদেশ’–এর মতো একের পর এক ছবিতে সুপারহিট গান উপহার দিয়েছিলেন এই জুটি। দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিলেন তাঁরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিল্পীর স্মৃতির উদ্দেশে শোকবার্তা ও শ্রদ্ধা জানালেন বলিউড তারকারা।
আগেই বলা হয়েছে, করোনায় প্রাণ গেছে শ্রাবণের। চার দিন আগেই সংগীত পরিচালককে ভর্তি করা হয়েছিল স্থানীয় এক হাসপাতালে। ভেন্টিলেটর সাপোর্টে ছিলেন, পরিস্থিতি সংকটজনক ছিল। শেষ পর্যন্ত ফেরানো যায়নি তাঁকে। তাঁর মৃত্যুর পরদিন, অর্থাৎ গতকাল শুক্রবার বড় ছেলে সঞ্জীব রাঠোর জানালেন বাবার সংক্রমণের উৎস সম্পর্কে। সঞ্জীব রাঠোরও কোভিডে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। পাশের শয্যায় তাঁর মা বিমলা দেবী।

default-image
বিজ্ঞাপন

সঞ্জীব রাঠোর জানান, হরিদ্বারে কুম্ভমেলায় গিয়েছিলেন শ্রাবণ ও বিমলা দেবী। ফেরার পর থেকেই শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বলে জানান ছেলে সঞ্জীব। করোনা পরীক্ষা করানোর পরে দম্পতির ফলাফল পজিটিভ আসে। শ্রাবণ আরও অন্যান্য রোগে ভুগতেন বলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁর স্ত্রী ও বড় ছেলেকেও অন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাড়িতে নিভৃতবাসে ছিলেন ছোট ছেলে দর্শন। তিনিও করোনায় আক্রান্ত। কিন্তু তিনি বাকিদের থেকে তুলনামূলকভাবে সুস্থ বলে শ্রাবণের সৎকার করার জন্য তাঁকে অনুমতি দেওয়া হয়।

default-image

প্রসঙ্গত, ভারতের কুম্ভমেলায় প্রথম পাঁচ দিনে ১ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়। হরিদ্বারের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শম্ভু কুমার ঝাঁ এ তথ্য জানিয়েছেন। ভারতজুড়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে কুম্ভমেলায় লাখো মানুষ সমবেত হয়। সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, কুম্ভমেলার পর থেকে সে রাজ্যে সংক্রমণ বেড়েছে হু হু করে। শ্রাবণের মৃত্যুর এক দিন বাদে জানা গেল, তিনিও সেই মেলাতেই উপস্থিত ছিলেন।

শ্রাবণের মৃত্যুতে টুইটার ও ফেসবুকে শোক প্রকাশ করেছেন অনেক বলিউড তারকা। শ্রেয়া ঘোষাল জানিয়েছেন, তাঁর মতে দেশের সংগীতজগতের অন্যতম বিরাট নাম ছিল শ্রাবণ। ‘শ্রাবণজি’-র অকস্মাৎ মৃত্যুর খবরে তিনি বিস্মিত। করোনা মহামারির সময় এ ঘটনাকে আরও একটি ইন্দ্রপতন বলে উল্লেখ করেছেন শ্রেয়া।

default-image

আদনান সামি লিখেছেন, ‘শ্রাবণ শুধুই একজন বিখ্যাত সংগীত পরিচালকই ছিলেন না; পাশাপাশি ছিলেন একজন বড় মনের মানুষ।’ মনোজ বাজপেয়ি লিখেছেন, ‘খুব কষ্ট পেলাম। সৃষ্টিকর্তা যেন তাঁর আত্মাকে শান্তি দেন।’

এর আগে শ্রাবণের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই তাঁর সহশিল্পী নাদিম কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। বলেছেন, ‘এমনই এক পরিস্থিতির মধ্যে আছি যে তাঁর পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে পারছি না। আমার ভাইকে শেষবারের মতো দেখতে পারলাম না। একসঙ্গে বড় হয়েছি আমরা। কোনো দিন যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হইনি। সে আর নেই। মেনে নিতে পারছি না, নিজেকে অসহায় মনে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের খারাপ সময়, ভালো সময়ে পাশে থেকেছি। চড়াই-উতরাই একসঙ্গে দেখেছি। আমরা কখনো একে অপরের থেকে দূরে থাকিনি।’

বিজ্ঞাপন

‘আশিকি’, ‘সাজান’, ‘সিরফ তুম’, ‘সড়ক’, ‘দিলওয়ালে’র মতো অজস্র হিট ছবির সুপারহিট গান কম্পোজ করেছেন এই জুটি। এককথায় নব্বইয়ের দশকের বলিউড অসম্পূর্ণ নাদিম-শ্রাবণ ছাড়া। ১৯৭৩ সালে একটা অনুষ্ঠানে দুজনের পরিচয় হয়। তারপর ১৯৭৫ সালে একটা ভোজপুরি চলচ্চিত্রে কাজ করেন।

default-image

বলিউডে কাজ শুরু করেন ১৯৮১ সালে। সেখান থেকে ১৯৮৯ সাল অবধি কিছু কাজ করলেও তখন পরিচিতি পাননি। কিন্তু হঠাৎ ১৯৯০ সালে গুলশান কুমার (টি সিরিজের প্রতিষ্ঠাতা) ‘আশিকি’ ছবিতে তাঁদের সুযোগ দেন। এ ছবিই বদলে দেয় নাদিম-শ্রাবণের ক্যারিয়ার। রাতারাতি জনপ্রিয়তা পান। পরে এক হিট অ্যালবাম এসেছিল। এর মধ্যে ‘সাজান’, ‘দিল হ্যায় কি মানতে নেহি’, ‘ফুল অর কাঁটে’, ‘দিওয়ানা’, ‘হাম হ্যায় রাহি পেয়ার কে’, ‘রং’, ‘দিলওয়ালে’, ‘রাজা হিন্দুস্তানি’, ‘পারদেশ’ কিংবা ‘ধাড়কান’–এর মতো চলচ্চিত্রের গান রয়েছে। ২০০০ সালে এই জুটির মধ্যে সামান্য ভাঙন তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা ফের একসঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন ২০০৯ সালে ডেভিড ধাওয়ানের ছবি ‘ডু নট ডিস্টার্ব’-এর মাধ্যমে। গত বৃহস্পতিবার শ্রাবণের মৃত্যুর পর চিরতরে নাদিম-শ্রাবণ জুটি ভেঙে গেল।

বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন