বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এদিকে ক্রিকেট জুয়াড়িরা চলে আসেন সামনে। ফলে পাওয়ারপ্লে লিগ (পিপিএল) আয়োজন করা মুশকিল হয়ে যায়। ক্রিকেট জুয়াড়ি চক্রদের ধরতে দায়িত্ব দেওয়া হয় রায় কমিশনের ওপর। ভারতীয় ক্রিকেট দলের মধ্যেও ঝামেলা। দলের দুই খেলোয়াড় ভায়ু রাঘবন ও রোহিত শানবাগ একে অপরকে সহ্য করতে পারেন না। ক্রিকেট জগতের এ রকম নানান গল্প নিয়ে হাজির সিরিজটি।

default-image

ক্ষমতা আর শক্তির লড়াই রাজনীতির আঙিনা থেকে খেলার ময়দান, সবখানেই হয়। এই সিরিজে দেখানো হয়েছে, ক্রিকেট সাম্রাজ্যকে নিজের হাতের মুঠোয় আনার জন্য একদল ক্ষমতালোভী মানুষ কতটা হিংস্র আর নির্মম হতে পারে। এই খেলায় শামিল হয় অভিনেত্রী জরিনা মালিকও। ক্রিকেট ব্যবসায় সে এসেছিল বিক্রান্তের হাত ধরে। কিন্তু বিক্রান্তের নোংরা রাজনীতির শিকার হয় জরিনা। তাই তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। সে হাত মেলায় বিক্রান্তের শত্রু যশবর্ধনের সঙ্গে।
সিরিজে দেখা যায়, ক্ষমতার আশায় মানুষ কীভাবে পুরোনো সম্পর্ক ভুলে নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। এদিকে ক্রিকেট ম্যাচে জুয়াড়িদের অংশগ্রহণ নিয়ে জোর তদন্ত চলে। এই মামলায় অভিযুক্ত সন্দেহে জেলে যায় যশবর্ধনের মেয়ে মন্ত্রা। সবার আগে জরিনা এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে নিজের বয়ান দেয়।

তবে এই অভিনেত্রী তাঁর বয়ান দেওয়ার আগে বিক্রান্তের সঙ্গে একটি চুক্তি করেন। জরিনাকে এই চুক্তি মানতে বাধ্য করেছিল বিক্রান্ত। এই চুক্তি অনুযায়ী মামলায় যশবর্ধনকে ফাঁসানোর কথা বলা হয় জরিনাকে।

এরপর মন্ত্রার পালা আসে। কিন্তু যশবর্ধন নিজের মেয়েকে তদন্তে নিযুক্ত থাকা রায় কমিশনের সামনে সত্য কথা বলতে নিষেধ করে। বাবার কথা মানতে প্রথমে অস্বীকার করে মন্ত্রা। পরে যশবর্ধন তাঁর মেয়ের প্রেমিক ভায়ু রাঘবনকে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বানানোর লোভ দেখায়। মন্ত্রাকে মিথ্যা বলানোর কাজে সে ভায়ুকে কাজে লাগায়। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রা রাজি হয়।

default-image

কমিটির সামনে বাবার পক্ষে বয়ান দেয় মন্ত্রা। কিন্তু এরপর কী? যশবর্ধন আর বিক্রান্তের মধ্যে কে জয়ী হবে? এদিকে সময় ঘনিয়ে আসছে ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচের। সেখানে কার জয় হবে? ভায়ু আর রোহিতের মধ্যে কে অধিনায়ক হবেন? আর এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে রহস্য আর রোমাঞ্চে ভরা ‘ইনসাইড এজ’–এর তৃতীয় মৌসুম দেখতে হবে।
কার অভিনয় কেমন লাগল
যেকোনো সিনেমা বা সিরিজের আসল নায়ক তার গল্প। ‘ইনসাইড এজ’ সিরিজের কাহিনিই সব। এই সিরিজের লেখকের কলমের ধার কতটা তীক্ষ্ণ, তা প্রমাণিত হয়েছে। মৌসুমের প্রতিটি বাঁকে লুকিয়ে আছে চমক। তাই একঘেয়ে লাগার সুযোগ নেই। দীর্ঘ সময় পর এমন কোনো সিরিজ এসেছে, যার গল্প প্রথম থেকে শেষ পর্ব পর্যন্ত দর্শককে বেঁধে রাখবে। ‘ইনসাইড এজ’–এর লেখক করণ অংশুমান, সৌরভ দে, অমেয়া সারদা, নিরেন ভট্ট, আর শৈলেশ রামাস্বামী একঝুড়ি প্রশংসা পাওয়ার দাবিদার।

এই মৌসুমের প্রতিটি চরিত্র খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে সিরিজের পাঁচ মূল স্তম্ভ হলেন বিবেক ওবেরয়, আমির বশির, রিচা চাড্ডা, অমিত সিয়াল আর অক্ষয় ওবেরয়। তাঁরা প্রত্যেকেই তাঁদের চরিত্রে ভালো করেছেন। এ ছাড়া তনুজ ভিরওয়ানি, সায়নি গুপ্তা, মনু ঋষিসহ বাকি অভিনয়শিল্পীরা সমান সপ্রতিভ। সিরিজে মন্ত্রা পাটিলের চরিত্রে স্বপ্না পাব্বি নিজেকে সুন্দর করে মেলে ধরেছেন। তবে সংলাপ বলার সময় তিনি একটু আড়ষ্ট ছিলেন। অভিনেত্রী রেণুকা শাহানে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

default-image

‘ইনসাইড এজ’ সিরিজের এই সফরকে রোমাঞ্চকর করে তোলার পেছনের আসল মানুষটি হলেন পরিচালক কণিষ্ক ভর্মা। তাঁর অসাধারণ পরিচালনায় সিরিজটি আরও হৃদয়গ্রাহী হয়ে উঠেছে। ক্রিকেট ম্যাচের কিছু দৃশ্য এতটাই ভালো ছিল, যে মনে হয়েছে বাস্তবের ম্যাচ হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ‘ইনসাইড এজ’–এর তৃতীয় মৌসুম ক্রিকেটের এমন এক কদর্য দিক তুলে এনেছে, যা নিয়ে অনেকেরই ধারণা নেই। এই মৌসুমের চরিত্রগুলো কাল্পনিক হলেও ক্রিকেটের মাঠে চরিত্রগুলো আসলেই জীবন্ত। ‘ইনসাইড এজ’–এর তৃতীয় মৌসুমের গল্প আইপিএলের জনক ললিত মোদির কথা স্মরণ করিয়ে দিলে অবাক হবেন না! আর মনে পড়তে পারে বিরাট কোহলি আর রোহিত শর্মার ঠান্ডা লড়াইয়ের কথাও।

বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন