default-image

বেচারি রিয়া চক্রবর্তী! আবারও জামিন চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হলেন বাঙালি এ অভিনেত্রী। তাঁকে আবারও পাঠানো হয়েছে জেলে। আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত জেলেই থাকতে হবে তাঁকে। মাদক মামলায় বিশেষ আদালত (নার্কোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস) আজ মঙ্গলবার এই নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই মুম্বাইয়ের উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন জানিয়েছেন রিয়া ও তাঁর ভাই সৌভিক। কাল বুধবার সেই মামলার শুনানি হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মাদক নিয়ন্ত্রণের বিশেষ আদালত একই সঙ্গে মাদক মামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর হাতে আটক রিয়ার ভাই সৌভিক চক্রবর্তী, সুশান্ত সিং রাজপুতের হাউস স্টাফ স্যামুয়েল মিরান্ডা, রাঁধুনি দীপেশ সাওয়ান্ত, মাদক পাচারকারী জাইদ ভিলাত্রা, আবদেল বশিত পারিহারেরও জামিনের আবেদন খারিজ করেছেন।

কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই কীভাবে গোটা দেশ রিয়াকে ফাঁসিতে ঝোলানোর জন্য উদ্গ্রীব হয়ে উঠেছে! কোনো বাবাই মেয়ের প্রতি এমন অন্যায়-অবিচার সহ্য করতে পারে না। আমার মরে যাওয়া উচিত।
ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তী
বিজ্ঞাপন
default-image

গত ১৪ জুন মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজ বাসা থেকে সুশান্ত সিং রাজপুতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে বলা হয়েছে, আত্মহত্যা করেছেন সুশান্ত সিং রাজপুত। মৃত্যুর বেশ কয়েক মাস পরও আত্মহত্যার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না সুশান্তভক্তরা। এমনকি ছেলের মৃত্যুর জন্য রিয়াকেই অভিযুক্ত করেছে সুশান্তের পরিবার। রিয়ার নামে মামলাও করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে সুশান্তের মৃত্যুরহস্য মামলা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা সিবিআইয়ের হাতে ওঠে। টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করে ভারতের অর্থনৈতিক আইনকানুন প্রয়োগ ও আর্থিক অপরাধ দমনসংক্রান্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের সূত্রে উঠে আসে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুতে মাদকের সূত্র পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো। এই সংস্থার করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই আপাতত বাইকুল্লা জেলে বন্দী রিয়াসহ বাকি অভিযুক্তরা।

বিজ্ঞাপন
default-image

সুশান্তের জন্য কী মাদক আনা হবে, তার ডেলিভারি নেওয়া ও টাকার হিসাব রাখতেন তাঁর বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী। আদালতে সে রকমই দাবি করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো। জেরায় রিয়া এসব অভিযোগ মেনে নিয়েছেন বলেও জানায় কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। এ ছাড়া মাদককাণ্ডে বলিউডের বেশ কয়েকজন তারকার নামও ফাঁস করে দিয়েছেন রিয়া। এ ছাড়া তদন্তে সারা আলী খান, রাকুল প্রীত সিং, পরিচালক মুকেশ ছাবড়া, ডিজাইনার সিমোন খামবাটার নাম উঠে এসেছে। সর্বশেষ নাম এসেছে দীপিকারও। সেই সূত্র ধরেই অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের ম্যানেজার কারিশমা প্রকাশকে তলব করল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত, রিয়ার বিরুদ্ধে দাখিল করা চার্জশিটে সুশান্ত সিং রাজপুতকে মাদক জোগানোর অভিযোগ এনেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো। এ ঘটনা প্রমাণিত হলে ১০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে তাঁর। তবে রিয়া নিজেও মাদক সেবন করতেন, এ রকম কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে রিয়া গ্রেপ্তার ও জামিন না পাওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলিউডে। অন্যদিকে ছেলেমেয়ের জামিন না হওয়ায় বাবা ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তী ভেঙে পড়েছেন। এর আগে সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেছেন, ‘কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই কীভাবে গোটা দেশ রিয়াকে ফাঁসিতে ঝোলানোর জন্য উদ্গ্রীব হয়ে উঠেছে! কোনো বাবাই মেয়ের প্রতি এমন অন্যায়-অবিচার সহ্য করতে পারে না। আমার মরে যাওয়া উচিত।’

default-image
মন্তব্য পড়ুন 0