বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

‘দিওয়ার’-এ তিনি অমিতাভ বচ্চনের ‘অ্যাংরি ইয়াংম্যান’ ইমেজ তৈরি করেন, ‘ডর’ ছবিতে ‘অ্যান্টি হিরো’ হিসেবে শাহরুখের আবির্ভাবও তাঁরই হাত ধরে। তাঁর ছবিতে বারবারই উঠে এসেছে অসম প্রেম, পরকীয়া। বলিউডে যশ চোপড়া মানেই প্রেমের গল্প বলার কারিগর। আজ তাঁর পরিচালিত, প্রযোজিত উল্লেখযোগ্য ১০টি প্রেমের ছবির কথা শুনি আবার।

default-image

কাভি কাভি’
বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম সেরা প্রেমের ছবি ‘কাভি কাভি’। ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি ছিল বাণিজ্যিকভাবে দারুণ সফল। তারকাবহুল এ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন, রাখি, শশী কাপুর, ওয়াহিদা রেহমান, সিমি গারেওয়াল, ঋষি কাপুর ও নিতু সিং। দুই প্রজন্মকে ঘিরে ছবির কাহিনি। ছবিটিতে অমিতাভ বচ্চনের কণ্ঠে ‘কাভি কাভি’ কবিতার আবৃত্তি, লতা মঙ্গেশকার ও মুকেশের কণ্ঠে ‘কাভি কাভি’ গানটি অনন্য হয়ে ওঠে। কাশ্মীরের অসাধারণ প্রাকৃতিক পরিবেশে চিত্রায়িত হয়েছে অমিতাভ-রাখির প্রেমের কিছু দৃশ্য।
ছবিটি ফিল্মফেয়ার আসরে সেরা সংগীত, সেরা চিত্রনাট্য, সেরা প্লেব্যাক গায়ক, সেরা গীতিকারের পুরস্কার লাভ করে। সেরা অভিনয়ের মনোনয়ন পান অমিতাভ বচ্চন, রাখি, ওয়াহিদা রহমান ও শশী কাপুর। এই ছবির মাধ্যমে প্রেমের গল্পের কারিগর হিসেবে নিজের পরিচিতি দৃঢ় করেন যশ চোপড়া।

default-image

‘সিলসিলা’
যশ চোপড়ার নাম বললেই যে সিনেমার নাম মাথায় আসে, সেটি ‘সিলসিলা’। কাহিনি, পরিচালনা, সংলাপ ও অভিনয়গুণে ‘সিলসিলা’ বলিউডের ক্ল্যাসিক হিসেবে গণ্য। ১৯৮১ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন, রেখা, জয়া বচ্চন ও সঞ্জীব কুমার। ছবির কাহিনিতে দেখা যায়, লেখক অমিত (অমিতাভ) ও চাঁদনি (রেখা) পরস্পরকে ভালোবাসে। কিন্তু দুর্ঘটনায় ভাই শেখরের (শশী কাপুর) মৃত্যু হলে ভাইয়ের সন্তানসম্ভবা প্রেমিকা শোভাকে (জয়া বচ্চন) বিয়ে করে অমিত। শোকাহত চাঁদনি পারিবারিক পছন্দে বিয়ে করে ডা. আনন্দকে (সঞ্জীব কুমার)। পরবর্তী সময়ে আবার দেখা হয় অমিত ও চাঁদনির। আবার তারা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, যা তাদের দাম্পত্যজীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে। ছবিতে অমিতাভ বেশ কয়েকটি গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন। ছবির গানগুলো দারুণ জনপ্রিয়তা পায়।
‘দাগ’

একদম প্রথম দিকের ছবি। ‘দাগ’ মুক্তি পায় ১৯৭৩ সালে। এ ছবির মাধ্যমেই যশ রাজ ফিল্মসের জন্ম। রাজেশ খান্না, শর্মিলা ঠাকুর ও রাখি অভিনীত ছবিটি ছিল আবেগ, রোমাঞ্চ ও চমকে ভরপুর।

ছবির কাহিনিতে দেখা যায়, সুনীল কোহলি (রাজেশ খান্না) ভালোবেসে বিয়ে করে সোনিয়াকে (শর্মিলা ঠাকুর)। মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে এক ঝড়-বৃষ্টির রাতে সুনীলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাংলোতে আশ্রয় নেয় তারা। সেখানে বসের ছেলে ধীরাজ (প্রেম চোপড়া) সোনিয়াকে আক্রমণ করে। সোনিয়াকে বাঁচাতে গিয়ে ধীরাজকে খুন করে বসে সুনীল। আদালত তার মৃত্যুদণ্ড দেন।

default-image

কিন্তু কারাগারে নেওয়ার সময় সে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। কর্তৃপক্ষ মনে করে, সে মারা গেছে। সুধীর নামে নতুন জীবন শুরু করে। চাঁদনি (রাখি) নামে এক ধনী নারীকে বিয়ে করে। সোনিয়ার সঙ্গে বহু বছর পর দেখা হয় সুধীর নামধারী সুনীলের। তিনজনের মধ্যে সৃষ্টি হয় সংকট। এই ছবির জন্য ফিল্মফেয়ারে সেরা পরিচালকের পুরস্কার পান যশ। পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান রাখি। রাজেশ খান্না পান সেরা অভিনেতার মনোনয়ন। ছবির গানগুলো দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল।

‘চাঁদনি’
যশ চোপড়া পরিচালিত প্রেমের এ ছবি শ্রীদেবীর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ছবি। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে চাঁদনির (শ্রীদেবী) প্রেমে পড়ে ধনীর পুত্র রোহিত (ঋষি কাপুর)। এক দুর্ঘটনায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে রোহিত। চাঁদনি তার পরিবর্তে সুস্থ কোনো মানুষকে যেন বিয়ে করে, এই উদ্দেশ্যে তাকে প্রকাশ্যে অপমান করে রোহিত। মুম্বাই গিয়ে চাকরি নেয় চাঁদনি। তার বস ললিত (বিনোদ খান্না) তাকে পছন্দ করে এবং বিয়ের প্রস্তাব দেয়। রাজি হয় চাঁদনি। এদিকে সুইজারল্যান্ডে চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে দেশে ফেরে রোহিত। বিদেশে ললিতের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়। বন্ধু রোহিতকে সে আমন্ত্রণ জানায় নিজের বাড়িতে এবং পরিচয় করিয়ে দেয় হবু স্ত্রী চাঁদনির সঙ্গে।

default-image

১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া রোমান্টিক এই ছবি ছিল ব্লকবাস্টার হিট। শ্রীদেবীর সাদা কামিজ ও চুড়িদার ‘চাঁদনি পোশাক’ নামে খ্যাতি পেয়েছিল। গানগুলোও ছিল তুমুল জনপ্রিয়। যশ রাজ ফিল্মসের ছবিটি সেরা জনপ্রিয় ছবি হিসেবে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করে। ফিল্মফেয়ার আসরে সেরা পরিচালকসহ সাতটি বিভাগে মনোনয়ন ও একটিতে পুরস্কার লাভ করে। শ্রীদেবী একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন।

‘লামহে’
অনিল কাপুর ও শ্রীদেবী অভিনীত ছবিটি বলিউডের অন্যতম সেরা প্রেমকাহিনি। ১৯৯১ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটির একটি বড় অংশ রাজস্থানে চিত্রায়িত। লন্ডন থেকে রাজস্থানে ফেরে ধনী জমিদারপুত্র বীরেন (অনিল কাপুর)। প্রতিবেশী পল্লবীর (শ্রীদেবী) প্রেমে পড়ে একতরফা। বীরেনের চেয়ে বয়সে বড় পল্লবী বিয়ে করে অন্য এক যুবককে। দুর্ঘটনায় পল্লবী ও তার স্বামীর মৃত্যুর পর তাদের মেয়ে পূজা প্রতিপালিত হয় বীরেনের প্রাসাদে। লন্ডন থেকে প্রতিবছর রাজস্থানে ফিরলেও বীরেন তাকে কখনো দেখেনি। কারণ, পল্লবীর মৃত্যু ও পূজার জন্ম একই দিনে। পূজা (শ্রীদেবী) বড় হয়। লন্ডনে বেড়াতে যায়। প্রেমে পড়ে বীরেনের। অসমবয়সী এই দুই নরনারীর প্রেমকাহিনি ‘লামহে’। রাজস্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এই ছবির একটি সম্পদ।

default-image

বীরেনের জীবন যেন রাজস্থানের মরুভূমি। ছবির বিষয়বস্তু ছিল সেই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সাহসী ও অগ্রসর। ফলে ‘লামহে’ ভারতে সেই সময় বাণিজ্যিকভাবে খুব সফল হয়নি।

কিন্তু যুক্তরাজ্যে ছবিটি দারুণ ব্যবসা করে। ছবিটি ফিল্মফেয়ার আসরে সেরা ছবি, সেরা অভিনেত্রী (শ্রীদেবী), সেরা কমেডিয়ান (অনুপম খের), সেরা কাহিনি ও সেরা সংলাপের পুরস্কার জেতে। সেরা পরিচালকের মনোনয়ন পান যশ চোপড়া। সেরা অভিনেতার মনোনয়ন পান অনিল কাপুর। পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পান ওয়াহিদা রহমান।

default-image

‘ডর’
১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ডর’ ছবি দিয়েই যশ রাজ ফিল্মসের সঙ্গে শাহরুখ খানের পথচলা শুরু। এ ছবিতে খলনায়ককে কেন্দ্রীয় চরিত্র করে তোলেন যশ চোপড়া। অন্তর্মুখী ও আবেগপ্রবণ কলেজছাত্র রাহুল (শাহরুখ খান) ভালোবাসে সহপাঠী কিরণকে (জুহি চাওলা)। কিন্তু কিরণ সে কথা জানে না। সে ভালোবাসে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সুনীলকে (সানি দেওল)। সুনীলের সঙ্গে বিয়ে হয় কিরণের। কিন্তু  কিরণকে ভুলতে পারে না রাহুল। তাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করতে থাকে। রোমান্টিক-থ্রিলার ধর্মী ছবিটিতে সাইকো প্রেমিকের চরিত্রে দুর্দান্ত কাজ করেন শাহরুখ খান। ছবির গানগুলো তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। ছবিটি সুপারহিট হয়। সেরা জনপ্রিয় ছবি হিসেবে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করে। বেশ কয়েকটি বিভাগে জয় করে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। ‘ডর’ বলিউডে অ্যান্টিহিরোর ধারণা প্রতিষ্ঠিত করে এবং অভিনেতা হিসেবে শাহরুখ খানের ক্যারিয়ারে যোগ করে নতুন মাত্রা।

‘দিল তো পাগল হ্যায়’
রোমান্টিক ছবি ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালে। এতে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেন শাহরুখ খান, মাধুরী দিক্ষিত, কারিশমা কাপুর ও অক্ষয় কুমার। একটি নৃত্য দলের সদস্য রাহুল (শাহরুখ খান) ও নিশা (কারিশমা কাপুর)।

default-image

একতরফাভাবে রাহুলকে ভালোবাসে নিশা। ‘মায়া’ নামে নতুন নাটকের ঘোষণা দেয় রাহুল। কিন্তু মহড়ার সময় পা ভেঙে কয়েক মাসের জন্য শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে নিশা। মায়া চরিত্রে আসে নতুন অভিনেত্রী পূজা (মাধুরী দিক্ষিত)।

পূজাকে ভালোবেসে ফেলে রাহুল। কিন্তু সমস্যা হলো, ছোটবেলার বন্ধু অজয়ের সঙ্গে পূজার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। শৈশবে মা–বাবাকে হারিয়ে অজয়দের বাড়িতেই সে প্রতিপালিত হয়েছে। ছবিটির সংলাপ, সংগীত ও কোরিওগ্রাফি অসাধারণ। পর্দায় মাধুরীর সৌন্দর্য যেভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, তা অনবদ্য। ছবিটি ভারত ও ভারতের বাইরে তুমুল ব্যবসা করে। সেরা জনপ্রিয় ছবি, সেরা কোরিওগ্রাফি ও পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেত্রী (কারিশমা কাপুর) বিভাগে জয় করে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ফিল্মফেয়ারে আটটি বিভাগে পুরস্কার জয় করে।

default-image

‘বীর–জারা’
বলিউডের সেরা ব্লকবাস্টারগুলোর একটি হলো যশ চোপড়া পরিচালিত ছবি ‘বীর-জারা’। ২০০৪ সালে মুক্তি পায় শাহরুখ খান, প্রীতি জিনতা ও রানী মুখার্জি অভিনীত এই ছবি। বলিউডি চিরন্তন প্রেমের গল্প বলে এই ছবি।

ভারতীয় পাইলট বীর প্রতাপ সিং আর পাকিস্তানের উচ্চবংশীয় কন্যা জারা হায়াত খানের প্রেম সীমানা মানে না। আবেগে আর চোখের জলে, ভালোবাসায় মিলমিশে বীর-জারা এক অসাধারণ প্রেমের ছবির নাম। ২০০৪ সালের এই ছবি সাড়া জাগিয়েছিল বক্স অফিসে। পেয়েছিল ফিল্মফেয়ার, আইফা অ্যাওয়ার্ড।

default-image

‘জাব তক হ্যায় জান’
যশ চোপড়ার শেষ ছবি হিসেবে এ সিনেমার কথা বলতেই হয়। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন শাহরুখ খান, ক্যাটরিনা কাইফ ও আনুশকা শর্মা। আধুনিক সময়ের সম্পর্কের মধ্যেও চিরকালীন প্রেমের মূল সুরটি তুলে ধরেছেন এই নির্মাতা। ছবিটি মূলত লন্ডনের পটভূমিতে নির্মিত। তবে ভারতের লাদাখে চিত্রায়িত দৃশ্যগুলোও অসাধারণ। ভারতে হিট ও ভারতের বাইরে ব্লকবাস্টার হিট হয় ছবিটি। ফিল্মফেয়ার আসরে বেশ কয়েকটি বিভাগে পুরস্কার জয় করে। যশ রাজ ফিল্মসের এই ছবি মুক্তি পায় ২০১২ সালের নভেম্বরে। এর আগেই ২০১২ সালের ২১ অক্টোবর মারা যান যশ চোপড়া।

‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’
১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় যশ চোপড়া প্রযোজিত ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’। শাহরুখ খান ও কাজল অভিনীত এই ছবি বদলে দিয়েছিল বলিউডি সিনেমার ধরন। স্থাপন করেছিল নতুন মাইলফলক। শাহরুখ-কাজল অভিনীত ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ ছবিটি ভেঙেছে একাধিক ফিল্মি রেকর্ড। এই ছবির তৈরি করা বহু রেকর্ডের ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি পরবর্তী সময়ে মুক্তি পাওয়া বহু ব্লকবাস্টার ছবি। ২৫ বছরে এই ছবি পেয়ে গিয়েছে কাল্ট ক্ল্যাসিকের তকমা।

default-image

১৯৯৫ সালের ২০ অক্টোবর মুক্তি পায় ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’। সেদিন থেকে লকডাউন শুরু হওয়ার আগপর্যন্ত এই ছবি টানা চলেছে মুম্বাইয়ের মারাঠা মন্দির প্রেক্ষাগৃহে।
আদিত্য চোপড়া পরিচালিত এই রেকর্ড ব্রেকিং ছবিতে শাহরুখ খান ও কাজল ছাড়াও অভিনয় করেছিলেন চলচ্চিত্রজগতের প্রখ্যাত অভিনেতারা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অমরেশ পুরী, অনুপম খের, ফরিদা জালাল, হিমানি শিবপুরী, সতীশ শাহ, প্রয়াত অচলা সচদেব। ছিলেন মন্দিরা বেদি, পরমিত শেঠি, করণ জোহর, অনাইতা শ্রফ আদাজানিয়া ও অর্জুন সাবলোক।

বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন