default-image

একের পর এক ঢেউ এসেছিল তাঁর জীবনে। একের পর এক স্বজন হারানোর বেদনা তাঁকে সইতে হয়েছে। গত বছর ঋষি কাপুর আর বোন ঋতু নন্দা চলে গেলেন। অবশেষে একবুক যন্ত্রণা নিয়ে চিরবিদায় নিলেন বলিউড অভিনেতা, পরিচালক রাজীব কাপুর। গতকাল মঙ্গলবার সকালে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৫৮ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন রাজ কাপুরের কনিষ্ঠ পুত্র।

রাজীব কাপুরের প্রয়াণে রীতিমতো কাঁদছে বলিউড পরিবার। ভাতিজা রণবীর কাপুরের কাঁধে চেপে শেষযাত্রা করেন রাজীব। ভাই রণধীর আর ভাতিজা রণবীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এসেছিলেন শাহরুখ খান, আলিয়া ভাট, তারা সুতারিয়া, সোনালি বেন্দ্রে, মাহিপ কাপুর, ববিতা, কারিশমা কাপুর, চাংকি পান্ডে, সঞ্জয় কাপুরসহ আরও অনেক বলিউড অনেক তারকা।

default-image

আলিয়া তাঁর বান্ধবীদের সঙ্গে ছুটি কাটাতে মালদ্বীপে গিয়েছিলেন। রাজীব কাপুরের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ছুটি বাতিল করে মুম্বাইয়ে ফিরে আসেন। এদিকে মাধুরী দীক্ষিত, সানি দেওল, অক্ষয় কুমার, সঞ্জয় দত্ত, নীল নীতিন মুকেশ, বনি কাপুরসহ বিটাউনের অনেকেই তাঁর উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন।

বিজ্ঞাপন

রাজ কাপুরের ছোট ছেলে রাজীব কাপুর। অর্থ, বিত্ত, খ্যাতি—কোনো কিছুর কমতি ছিল না জীবনে। তবু দুঃখে ভরা জীবন ছিল তাঁর। বাবার সঙ্গেও সম্পর্ক খুব একটা মধুর ছিল না। বরাবরই বাবা-ছেলের সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব ছিল।‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’ ছবিতে রাজীবকে নায়ক হিসেবে বড় সুযোগ দিয়েছিলেন রাজ কাপুর। ছবিটি সুপার–ডুপার হিট ছিল। এ ছবিতে রাজীবের নায়িকা ছিলেন মন্দাকিনী। কিন্তু এ ছবিকে ঘিরে রাজীব সুবিধা করতে পারলেন না। অন্যদিকে, মন্দাকিনীর জয়জয়কার সর্বত্র। মন্দাকিনী রাতারাতি তারকা বনে যান। কারণ, ‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’ ছবিতে রাজীবের চেয়ে মন্দাকিনীর চরিত্রটি অনেক বেশি জোরদার ছিল। তাই রাজীব বাবাকে অনুরোধ করেছিলেন তাঁকে নিয়ে আবার একটা ছবি নির্মাণ করতে। আর এই ছবিতে তাঁর অভিনীত চরিত্রটি যেন জোরালো হয়। রাজ কাপুর সন্তানের এই ইচ্ছা পূরণ করেননি। ‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’ ছবির পর থেকেই বাবা-ছেলের সম্পর্কে তিক্ততার সৃষ্টি হয়। রাজীবকে তিনি সহকারী পরিচালক হিসেবে ব্যবহার করতেন।

default-image

এমনকি শোনা যায়, সেটে তাঁর সঙ্গে সাধারণ স্পটবয়ের মতো ব্যবহার করতেন। সেটে সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে একই আসনে বসে খাবার খেতেন রাজীব। এমনকি ট্রলি টানা থেকে ফ্লোর ঝাড়ু পর্যন্ত দিতেন তিনি।

default-image

রাজীব বলিউডি ক্যারিয়ারে ১২টার মতো ছবি করেছেন। কিন্তু মাত্র একটাই হিট ছবি দিয়েছেন। রাজীবের দুই ভাই রণধীর আর ঋষি যে উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন, তার ধারেকাছে তিনি পৌঁছাতে পারেননি। তাই অভিনয় ছেড়ে রাজীব ছবি নির্মাণে যোগ দিয়েছিলেন। রাজীবের অভিমান ছিল যে ঋষিকে রাজ কাপুর যতটা সুযোগ দিয়েছিলেন, তাঁকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এ অভিমান থেকেই রাজ কাপুরের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াতে তিনি হাজির ছিলেন না।

default-image

শোনা যায়, রাজীব কাপুরের বিবাহিত জীবন শেষ হওয়ার পেছনে ছিলেন রাজ কাপুর। দুই বছর ধরে রাজীব আর্কিটেক্ট আরতি সবরওয়ালের সঙ্গে প্রেম করেছিলেন। ৩৯ বছর বয়সে তিনি আরতিকে বিয়ে করেন। কিন্তু এই বিয়েতে একদম মত ছিল না রাজ কাপুরের।

বিজ্ঞাপন

আর তার জন্যই নাকি মাত্র দুবছরের মাথায় রাজীব-আরতির দাম্পত্য জীবন শেষ হয়ে যায়। দাম্পত্য সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার পর মানসিকভাবে অত্যন্ত ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।

default-image

প্রেমের ওপর থেকে আস্থা চলে যায়, আর তাই দ্বিতীয়বার বিয়ের পথে হাঁটেননি রাজীব। বাচ্চাদের খুব ভালোবাসতেন রাজীব। এমনকি কাপুর পরিবারের ছোটদের কাছে তিনি অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। রাজীবের নিজের কোনো সন্তান ছিল না।

ব্যক্তি ও পেশাগত জীবন—কোনো দিক থেকেই রাজীব কাপুর সফল ছিলেন না। প্রায় সারা জীবন দুঃখের চাদর আচ্ছন্ন ছিল তার জীবনে। অবশ্য এটা তাঁকে দেখলে মনে হতো না। তাঁর ঠোঁটের কোণে সব সময় হাসি লেগে থাকত। সবাইকে ইতিবাচক থাকতে বলতেন তিনি। বলিউডে তিনি সবার প্রিয় মানুষ হিসেবে ছিলেন। অমায়িক ব্যবহারের জন্য তাকে সবাই ভালোবাসতেন।

default-image
বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন