ছোট থেকেই ‘কেবিসি’র ভক্ত হিমানী। তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে এই রিয়েলিটি শোর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আমার দারুণ লাগে। আর অমিতাভ বচ্চন স্যারের “নমস্কার দেবীয়ো সজ্জনো” বলার ধরন আমাকে মুগ্ধ করত। বাড়িতে আমি অমিতাভ বচ্চনকে নকল করতাম। ১৩ বছর বয়স থেকে “কেবিসি”তে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করতাম। আগে প্রচুর মেসেজ পাঠাতাম। কিন্তু উত্তর পেতাম না। সনি লাইভে শোটি আসার পর থেকে আমি মেসেজের উত্তর পেতে শুরু করি। আমার আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে।’

default-image

নিজের ইচ্ছাশক্তির জোরেই ‘কেবিসি’র মঞ্চে পা রেখেছিলেন হিমানী। নিজেই নিজের প্রেরণা ছিলেন এই তরুণী, ‘পরিবারের সবারই আমার “কেবিসি”তে আসা নিয়ে শঙ্কা ছিল। এই দুনিয়ায় আমি নিজেকে কতটা মানিয়ে নিতে পারব, তা নিয়ে ওদের মনে ভয় ছিল। তবে আমি ভয় পাইনি। তাই আমার এখানে আসার পেছনে আসল মানুষটি আমি নিজেই ছিলাম। আর সনি চ্যানেলের টিম আমাকে ওদের নিজের পরিবারের একজন অনুভব করিয়েছিল। অমিতাভ স্যার সেটে আমাকে এতটাই সহজ করে তুলেছিলেন যে আমি ঘাবড়ে যাইনি।’

অমিতাভ বচ্চনকে বাস্তবে স্পর্শ করার অনুভূতি সারা জীবন বয়ে বেড়াবেন হিমানী। ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র সঞ্চালক অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এত বড় ব্যক্তিত্ব হয়েও স্যার অত্যন্ত বিনয়ী আর একদম মাটিতে পা রেখে চলেন। ওনার সম্পর্কে অনেক ভালো ভালো কথা শুনেছিলাম। দেখা হওয়ার পর মনে হলো, স্যারেরর জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়।’

default-image

বিগ বির সঙ্গে কিছু সময়ের সফর হিমানীকে মানুষ হিসেবে অনেক সমৃদ্ধ করেছে। আগ্রার এই তরুণী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অমিতাভ স্যারকে বলিউডের “শাহেনশাহ” বলা হয়। আর তাই ওনাকে ঘিরে অনেকের মনে হয়তোবা ভীতি আছে। কিন্তু মানুষ হিসেবে উনি একদম অন্য রকম। আমি ওনার মতো বিনয়ী আর মাটির মানুষ হতে চাই। আমি কাছ থেকে দেখেছি যে স্যার সবাইকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেন। সবাইকে সমান সুযোগ দেন। এই বয়সেও স্যারের এনার্জির মাত্রা দেখে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কাজের প্রতি ওনার একাগ্রতা আর নিয়মানুবর্তিতা আমাকে মুগ্ধ করেছিল। স্যারের এই গুণগুলো নিয়ে আরও ভালো মানুষ হয়ে উঠতে চাই।’ ‘কেবিসি’ ঘিরে হিমানীর নানান রঙিন স্মৃতি।

তবে সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অমিতাভ স্যার আমার হাতে যখন জলের গ্লাস তুলে দেন, সেই মুহূর্তটা আমার সঙ্গে আজীবন থাকবে। আর আমার হাত ধরে স্যার কেবিসির মঞ্চে প্রবেশ করেছিলেন, আমি তা কোনো দিন ভুলতে পারব না।’

default-image

‘কেবিসি’র মঞ্চ থেকে কোটি রুপি জয়ের পর নিজের জীবন নিয়ে বেশ কিছু স্বপ্ন এঁকেছেন হিমানী। তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু পরিকল্পনা আছে। আমি প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের সরকারি প্রবেশিকা পরীক্ষার উপযোগী করে গড়ে তুলতে একটা কোচিং সেন্টার খুলতে চাই। করোনার সময় বাবা চাকরি হারিয়েছেন। তাই বাবার জন্য নতুন কোনো ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা আছে। ভাই-বোনদের শিক্ষার জন্য কিছু অর্থ রাখতে চাই। এ ছাড়া কিছু সচেতনতামূলক কাজ করার পরিকল্পনা আছে।’ আগামী দিনে আরও কিছু করার পরিকল্পনা হিমানীর আছে। তিনি বলেন, ‘আমার এই সংগ্রামে সব সময় আমার পরিবারকে পাশে পেয়েছি। আজ আমি যা কিছু করতে পেরেছি, তা আমার পরিবারের জন্য। ওনারা কখনো আমার মনে নেতিবাচক চিন্তাভাবনা আসতে দেননি।’

বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন