পেছনে তাঁকে মুখরা রমণী ডাকে সবাই। মুখে কিচ্ছু আটকায় না বলে ঝামেলায় কম পড়েননি। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই প্রতিবাদী, শক্তিশালী আর তাৎপর্যপূর্ণ নারী চরিত্রে অভিনয় করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী পার্বতী থিরুভতু। ‘ব্যাঙ্গালোর ডেইজ’ আর ‘চার্লি’ সিনেমা দুটোতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তাঁকে দেখা গেছে দক্ষিণ ভারতের ‘নোটবুক’, ‘মিলানা’, ‘পু’, ‘সিটি অব গড’, ‘মারিয়ান’, ‘উত্তমা ভিলেন’, ‘টেক অফ’, ‘উয়ারে’, ‘ভাইরাস’ ছবিগুলোতেও। তবে বলিউড তাঁকে চেনে ‘কারিব কারিব সিঙ্গেল’ ছবিতে ইরফান খানের সহশিল্পী হিসেবে।

default-image

‘কাসাবা’ ছবিটি মুক্তির পর দক্ষিণের সুপারস্টার মামট্টি অভিনীত চরিত্রটির কঠোর সমালোচনা করেছিলেন পার্বতী। মামট্টিকে লেখা এক খোলা চিঠিতে বলেছিলেন, ‘স্যার, আপনি অনেক বড় অভিনেতা। আপনার ফ্যান–ফলোয়ারের অভাব নেই। বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, এ ধরনের পুরুষতান্ত্রিক, লিঙ্গবৈষম্যমূলক, আগ্রাসী চরিত্রগুলো না করলেই কি নয়? সমাজে আপনার প্রভাব ব্যাপক, বড় পর্দায় এই চরিত্রগুলো পুরুষতন্ত্রকে জিইয়ে রাখে।’

default-image
বিজ্ঞাপন

একই কারণে বিজয় দেবারাকোন্ডা অভিনীত ‘অর্জুন রেড্ডি’ আর বলিউডের শহীদ কাপুর অভিনীত এই ছবির রিমেক ‘কবির সিং’–এরও সমালোচনা করেন পার্বতী। অভিনেতাদের ভক্তরাও ক্ষিপ্ত হন পার্বতীর ওপর। শুরু হয় সাইবার বুলিং, শেষ হয় মৃত্যুর হুমকিতে। কোনো প্রতিষ্ঠিত তারকাকে উদ্দেশ্য করে নেতিবাচক বিবৃতি দিতেই পার্বতীর ইনবক্স ভরে যেত নেতিবাচক মন্তব্য আর হুমকিতে।

default-image

তবু নারীপ্রধান চরিত্র আর সমাজের মঙ্গলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গল্পকেই প্রাধান্য দেন তিনি। অন্যদেরও দেন সেই বার্তা। এত প্রতিবাদ তিনি কেন করেন? এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘চুপ থাকা সমাধান নয়। আমি অভিনেত্রী, আমি একজন যোদ্ধাও। ন্যায়ের জন্য আমি লড়াই করার সময় চুপ করে থাকতে পারব না।’

default-image

সাধারণত বড় তারকার সঙ্গে নায়কের প্রেমিকা বা নায়িকা হয়ে অভিনয় করেন না পার্বতী। ‘মারিয়ান’ সিনেমায় পার্বতীর চরিত্র নিয়ে যখন আলাপ করছিলেন পরিচালক ভারত বালা, জানিয়েছিলেন, ছবিটায় তিনি সুপারস্টার ধানুশের সহশিল্পী হতে যাচ্ছেন। পার্বতী তো আকাশ থেকে পড়লেন—ধানুশ আবার কে! ছবির প্রচারণায়ও সে কথা বলেছেন তিনি। তবে এই ছবিই পার্বতীর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

default-image
বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন