বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিধিনিষেধের পর ‘সূর্যবংশী’ অক্ষয় কুমারের দ্বিতীয় ছবি যা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। এর আগে তাঁর অভিনীত ‘বেল বটম’ হলে মুক্তি পেয়েছিল। কিন্তু ছবিটি সেভাবে ব্যবসা করতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘‘বেল বটম” ছবির সময় আমরা সবাই মিলে অনেক চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ছবিটি প্রায় ৪০ কোটি রুপি ব্যবসা করেছিল।

default-image

‘‘সূর্যবংশী’’র ক্ষেত্রে আমাদের চেষ্টা সত্যি সার্থক।’ হিন্দি ছায়াছবির জগতে তিন দশকের বেশি পার করার পরও বক্স অফিসের চাপ অনুভব করেন অক্ষয়। বক্স অফিসের অঙ্ক আজও তাঁকে প্রভাবিত করে বলে জানান এই বলিউড তারকা। তিনি বলেন, ‘বক্স অফিসের অঙ্ক আমাকে বড় ছবি বানানোর সাহস দেয়। এই ইন্ডাস্ট্রি থেকে আয় করব আর ইন্ডাস্ট্রিতে টাকা ঢালব। আমি চাই, আরও সিনেমা হল খুলুক। ছবি ৭০০-৮০০ কোটি ক্লাবের সদস্য হোক। আর এটা তখনই সম্ভব হবে, যখন সিনেমা হলের সংখ্যা বাড়বে।’

অক্ষয় কুমার এই মুহূর্তে বলিউডের শীর্ষস্থানীয় সুপারস্টারের মধ্যে একজন। তবে তাঁর কাছে সুপারস্টারের সংজ্ঞা আলাদা। তিনি মনে করেন, একজন লেখকই প্রকৃত তারকা। তাঁর লেখার জোরেই অভিনেতারা তারকা হয়ে ওঠেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিনেতাদের তারকা বানান একজন লেখক। ছবির কাহিনি ভালো হলেই দর্শক হলে যান। সেলিম-জাভেদের মতো লেখকরাই আজ তারকাদের জন্ম দিয়েছেন।

default-image

রোহিত শেট্টি পরিচালিত ‘সূর্যবংশী’ ছবিতে অক্ষয় পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। এই ছবিতেও তাঁকে দুর্ধর্ষ সব স্টান্ট করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে তাঁর হেলিকপ্টারের দৃশ্য আলোচনায় উঠে এসেছে। আর এ জন্য অক্ষয় সেফটি গিয়র নেননি বলে জানা গেছে। এই দৃশ্যের কথা উঠতেই তিনি বলেন, ‘এই স্টান্ট করার আগে আমি পাইলটের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। ভালো করে দেখে নিয়েছিলাম যে আমার গ্রিপ কেমন। আমি জানতাম, আড়াই মিনিটে ওই শটটি সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। আর আমি আড়াই মিনিট পর্যন্ত ঝুলতে পারব। তাই আমার বেশি সুরক্ষার প্রয়োজন ছিল না। তবে অন্য সময় স্টান্ট করার আগে আমি সুরক্ষা ভালো করে দেখে নিই।’

default-image

‘সূর্যবংশী’ ছবিতে অক্ষয় অভিনীত চরিত্রটি মানুষের নাম ভুলে যায়। এই বলিউড সুপারস্টার জানান, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নিজেই এই সমস্যায় ভুগছেন।

অক্ষয় বলেন, ‘আমি নিজেও মানুষের নাম প্রায়ই ভুলে যাই। আর এ কথা রোহিত জানত। তাই লেখকের সঙ্গে আলোচনা করে আমার এ সমস্যা ছবির সঙ্গে জুড়ে দেয়।’
‘সূর্যবংশী’ ছবিতে অক্ষয়ের নায়িকা ক্যাটরিনা কাইফ। আগেও একাধিক ছবিতে জুটি বেঁধেছেন তাঁরা। কিন্তু রোহিতের পরিচালনায় এই প্রথম কাজ করলেন অক্ষয়।

default-image

রোহিতের প্রসঙ্গে এ তারকা বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে রোহিতকে জানি। ও অসম্ভব পরিশ্রমী ছেলে। সহপরিচালক হিসেবে ওকে যা পরিশ্রম করতে দেখেছি, আজও একই রকম ভাবে ও সততা এবং পরিশ্রমের সঙ্গে কাজ করে।’ অক্ষয় ছবিতে শুধু অভিনয় করেই ক্ষান্ত হন না। ছবির সৃজনশীল দিক নিয়েও প্রচুর ভাবনাচিন্তা করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে অক্ষয় বলেন, ‘অভিনয় ছাড়া একটি ছবির পেছনে যতটা সম্ভব সময় দেওয়া যায়, দিই। একটি ছবির পেছনে আমার ১০ থেকে ১২ দিন চলে যায়। আমি চিত্রনাট্য নিয়ে আলাপ–আলোচনা করি। একটি ছবির বিভিন্ন দিক নিয়ে কথাবার্তা বলি। ভোর চারটার সময় আমার বাড়িতে এসব নিয়ে আলাপ–আলোচনা শুরু হয়ে যায়।’

অক্ষয়ের ছেলে আরব কি বাবার পথেই হাঁটবেন, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি আরব। এ নিয়ে আমাদের কোনো কথাবার্তা হয়নি। এখন ও পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত। এটাই এখন মন দিয়ে করতে চায়।’ কিছু দিন আগে এই বলিউড সুপারস্টার তাঁর মাকে হারিয়েছেন। মায়ের কথা উঠতেই অক্ষয় আনমনা হয়ে বলেন, ‘এটা আমার একদম নিজস্ব। এটাকে ব্যক্তিগত থাকতে দিন।’

default-image

আড্ডার শেষ বেলায় এসে অক্ষয় আবেদনের সুরে বলেন, ‘মহামারির সময় পুলিশ, চিকিৎসক সবাই নিজের কাজ করে গেছেন। তাঁরা সবাই তখন বাইরে ছিলেন, আর আমরা বাড়ির ভেতরে বসে ছিলাম। এখন আমাদের বাইরে বের হতে হবে। নিজেদের সুরক্ষিত রেখে আবার আমাদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে হবে। মহামারির জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চলচ্চিত্র জগৎ। শুধু হিন্দি নয়, ভোজপুরি, মারাঠি, গুজরাটি, তামিল, তেলেগুসহ সব ভাষার দর্শকেরা আবার সিনেমা দেখা শুরু করুক।’

default-image
বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন