default-image

কদিন আগে বাবার মৃত্যুর গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন অভিনেত্রী পৌলমী বোস, অভিনেতা সৌমিত্রের মেয়ে। আজ কলকাতার বেলভিউ নার্সিং হোমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে কান্নাভেজা স্বরে বাবার জন্য দুঃখ না করার আহ্বান জানালেন তিনি।

বাবার ‘ন্যাওটা’ ছিলেন পৌলমী। অভিনয় করতেন বলে বাবা সৌমিত্রও খুব আদর করতেন মেয়েকে। আজ বেলা একটায় ফেসবুকে পৌলমী লিখেছেন, ‘গভীর শোক নিয়ে জানাতে হচ্ছে, প্রিয় বাবা . . . আমার বাপি আজ সকালে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। পারিবারিকভাবে আমরা বিধ্বস্ত।’

বিজ্ঞাপন
default-image

লেখাটিতে পৌলমী আরও যুক্ত করেন, ‘সবাইকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, দয়া করে এখনই আমাদের বাড়িতে আসবেন না। আমার মা এবং আমার ছেলেদের অবস্থা খুব নাজুক। দয়া করে তাঁদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন না। দয়া করে মহামারির বিষয়টি মাথায় রাখুন এবং বাড়িতে থেকেই প্রার্থনা করুন। যদি সত্যিই বাবাকে ভালোবাসেন, তাহলে তাঁর নৈতিকতাকে শ্রদ্ধা করুন। দয়া করে আমাকে ফোন করবেন না বা খুদে বার্তা পাঠাবেন না। আমি স্বাভাবিক হয়ে সবার সঙ্গে কথা বলব। দয়া করে আমাকে এখন একটু নিজের মতো থাকতে দিন। এটাই আমার জন্য জরুরি। যদি কেউ আমার মা বা ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে চান, তবে তাঁদের ফোন করুন। দয়া করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন না।’

বেলভিউ নার্সিং হোমে সকাল সকাল পৌঁছে গিয়েছিলেন পৌলমী। সেখানে দাঁড়িয়ে সবার উদ্দেশে বললেন, ‘আপনারা বাবার জন্য দুঃখ পাবেন না। হাসিমুখে বরং তাঁর জীবনকে সেলিব্রেট করুন।’

default-image

হাসপাতালের আঙিনায় দাঁড়িয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কেবল বাবা নয়, একজন সহযোদ্ধা বন্ধুকে হারিয়েছি। বাবা-মেয়ের সম্পর্ককে ছাপিয়ে আমাদের সম্পর্কটা ছিল অন্য রকম। আমাকে স্কুলে দিয়ে আসা, শুটিং ফেলে স্কুল থেকে নিয়ে আসা, মন খারাপ হলে গঙ্গার পাড়ে বসে ভুট্টা খাওয়ার স্মৃতিগুলো আমাকে খুব আবেগতাড়িত করছে।’ নিজের নাটকের দল খোলার পর বাবা সৌমিত্রের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন পৌলমী। ‘প্রাচ্য’ নামের ওই দলের জন্য নাটকটা অনেক দিন ধরে সৌমিত্রই লিখেছিলেন। সেখানে সৌমিত্রের তিন চরিত্র। বাবার মরদেহ যখন বেলভিউ নার্সিং হোম থেকে বের হচ্ছে, সাংবাদিকদের সামনে স্মৃতির কপাট খুলে ধরেছিলেন পৌলমী।

বিজ্ঞাপন
default-image

সদ্যপ্রয়াত অভিনেতা সৌমিত্রর মরদেহ পৌঁছে গেছে তাঁর গলফ গ্রিনের বাড়িতে। স্বজনদের সঙ্গে শেষ দেখার পর তাঁকে নেওয়া হবে টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ানস স্টুডিওতে, যেখানে বহু সময় কাটিয়েছেন সৌমিত্র। সেখানে শিল্পী-কুশলী-স্বজনদের শ্রদ্ধা জানানোর পর বেলা সাড়ে তিনটায় সৌমিত্রর মরদেহ নেওয়া হবে রবীন্দ্রসদনে। সেখানে দুই ঘণ্টা সৌমিত্রকে শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন সর্বস্তরের মানুষ ও ভক্ত-অনুরাগীরা। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টা থেকে সাড়ে ছয়টার মধ্যে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে রাজ্য সরকারের সম্মাননার পর তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0