default-image

আজ ৩১ ডিসেম্বর। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর শেষ হবে একটি বছর, ২০১৯ সাল। শুরু হবে নতুন বছর, ২০২০ সাল। তার আগে গত রোববার অমিতাভ বচ্চনের হাতে ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’ তুলে দেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। এ উপলক্ষে দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এবার বচ্চন পরিবার মুম্বাইয়ে পুরোনো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণের জন্য যে অনুষ্ঠান আয়োজন করছে, তাতে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। কারণ অমিতাভ বচ্চন যে ভারতের চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান পেয়েছেন, আজ মঙ্গলবার একই সঙ্গে তা-ও উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। বছর শেষে বচ্চন পরিবারে বিরাজ করছে অন্য রকম আনন্দ।

এই সম্মান গ্রহণ করার জন্য মুম্বাই থেকে দিল্লি আসেন অমিতাভ বচ্চন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জয়া বচ্চন আর ছেলে অভিষেক বচ্চন। দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাঁরা। এরই মধ্যে তাঁরা মুম্বাই ফিরে গেছেন। ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের অভ্যন্তরে তোলা একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন অমিতাভ বচ্চন। তাতে দেখা গেছে, উড়োজাহাজের অভ্যন্তরে বসা বলিউডের এই মেগা স্টারের গলায় ঝুলছে ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’-এর মেডেল। আর তাঁর পাশে স্ত্রী ও ছেলে। সবার মুখেই সাফল্যের হাসি।

‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’ পাওয়ার পর ৭৭ বছর বয়সী অমিতাভ বচ্চন ব্লগে লিখেছেন, ‘এই সম্মান পেয়ে আমি গর্বিত। আমার কাজের যে স্বীকৃতি পেয়েছি, তার জন্য আমি গর্বিত। আমার দেশ আর আমার এই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে নিয়ে আমি গর্বিত।’

গত ২৩ ডিসেম্বর ভারতের দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬৬তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়া হয়। সেই অনুষ্ঠানে অমিতাভ বচ্চনকে ভারতের চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মানে সম্মানিত করার কথা ছিল। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে যেতে পারেননি তিনি। আগের দিন ২২ ডিসেম্বর টুইটারে লিখেছেন, ‘জ্বরে খুবই কাহিল অবস্থা। ভ্রমণ একদম মানা। তাই দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে যেতে পারছি না। খুব খারাপ লাগছে। আমার দুর্ভাগ্য।’

বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, সুস্থ হওয়ার পর দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে এসে অমিতাভ বচ্চন সেই সম্মাননা গ্রহণ করেছেন। এ উপলক্ষে সেখানে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অমিতাভ বচ্চন বলেছেন, ‘আমি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পেয়ে গর্বিত। কিন্তু যখন এই পুরস্কারের জন্য আমার নাম ঘোষণা করা হয়, তখন মনে একটা সন্দেহ তৈরি হলো, এই পুরস্কার কী বোঝাতে চেয়েছে? আমার সব কাজ শেষ? এবার ঘরে বসে আরাম করার সময় চলে এসেছে? কিন্তু আমি বলব, এখনো কিছু কাজ বাকি আছে। আর তা আমাকেই শেষ করতে হবে।’

ভারতীয় চলচ্চিত্রের পুরোধা ব্যক্তিত্ব দাদাসাহেব ফালকের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রতি বছর চলচ্চিত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের এই বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়। ১৯৬৯ থেকে চালু হয়েছে এই সম্মাননা।

বিজ্ঞাপন
বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন