default-image

টালিউড, বলিউড, ঢালিউড—তিন ইন্ডাস্ট্রির হিরো মিঠুন চক্রবর্তী। জীবনের শুরুতে যোগ দিয়েছিলেন নকশাল আন্দোলনে। তারুণ্যের সবটুকু ঢেলে দিয়েছিলেন আর্দশিক সেই রাজনীতিতে। বামপন্থী হিসেবে সে সময় বেশ নামডাক ছড়িয়েছিল তাঁর।

বামফ্রন্টের বড় বড় নেতার সঙ্গেও বন্ধুত্ব ছিল মিঠুনের। তত দিনে তিনি পুরোদস্তুর তারকা। ২০১৪ সালে পরিণত বয়সে যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। বলেছিলেন, আগের ভুল শুধরাতেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন তিনি। তৃণমূলে থেকেই তিনি রাজ্যসভার সদস্য হন। ছয় বছর পেরোতে না পেরোতেই ‘ডিসকো ড্যান্সার’ মিঠুনের মনে হলো, তৃণমূলও ছিল মস্তবড় ভুল। এবার তিনি যোগ দিলেন বিজেপিতে।

বিজ্ঞাপন
default-image

৭ মার্চ কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে বিজেপির সমাবেশ হয়। সেখানে মিঠুন চক্রবর্তীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে বরণ করে নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মিঠুন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর মঞ্চের পেছনে বসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একান্তে ১৫ মিনিট কথা বলেন তাঁর সঙ্গে। সংবাদমাধ্যমে এ কথা প্রচার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি হয়। এবার যেন আর জল্পনা-কল্পনা নয়। সবার মুখে এক কথা, মিঠুনকেই সামনে রেখে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে লড়বে বিজেপি।

বিজেপিতে মিঠুনের এই অভিষেক নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির মাঠে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। তৃণমূল তো বটেই, বাম-কংগ্রেস জোটও তাঁকে নিয়ে মেতেছে তীব্র সমালোচনায়। ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল, ভারতের বাংলা ভাষাভাষি যেকোনো অঞ্চল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে তাঁকে। তিনি হতে পারেন তৃণমূলের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ আর ভারতের বাংলায় বিজেপির মুখ। কিন্তু মিঠুনের মনোনয়ন না পাওয়ায় অবাক হয়েছেন অনেকেই। যদিও মিঠুন আর বিজেপি, দুই পক্ষই বলছে, মনোনয়ন চাননি তিনি, তাই দেওয়া হয়নি।

default-image

মনোনয়ন না পেলেও বিজেপির হয়ে চলছে মিঠুনের প্রচারণা। বাঁকুড়ার শালতোড়ায় রোড শোতে ভোটের প্রচারে এসে বলেছেন, ‘মনোনয়ন আমি চাইনি। ভোটে লড়লে সুবিধাবাদী হয়ে যাব।’ এদিন হাজারো মানুষ ভিড় করেন পর্দার এই ‘ফাটাকেষ্ট’কে একনজর দেখার জন্য। মানুষের জটলার কারণে হেলিকপ্টার শুরুতে নামতেই পারেনি। প্রায় ১৫ মিনিট পর ভিড় ঠেলে লোক সরিয়ে দেওয়ার পর মাটিতে নামে হেলিকপ্টার। সাদা জামা, কালো প্যান্ট, মাথায় টুপি আর গলায় মালার সঙ্গে বিজেপির উত্তরীয় পরে নামেন মিঠুন। যেন পর্দার ‘মহাগুরু’র ভঙ্গিতেই রাজনীতির মাঠে নামেন তিনি। ভাষণে শোনা গেল সিনেমার সংলাপ, ‘মারব এখানে, লাশ পড়বে শ্মশানে।’ যেন নেতা-অভিনেতা মিলেমিশে একাকার।

default-image

মিঠুন এদিন উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘আজকের দিনটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। আমার ছেলেবেলা কেটেছে জোড়াবাগানের এক অন্ধকার গলিতে। সেদিন স্বপ্ন দেখেছিলাম, জীবনে কিছু একটা করব। কিন্তু এটা ভাবিনি যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশের প্রধানমন্ত্রী মোদিজির সঙ্গে আমি একই মঞ্চ ভাগ করে নেব। আমি চেয়েছিলাম, গরিবদের জন্য কিছু করব। আজ সেই স্বপ্নের খুব কাছাকাছি চলে এসেছি আমি। স্বপ্ন শুধু তো দেখার জন্য নয়, সফল হওয়ার জন্য। স্বপ্ন সফল করার উদাহরণ আমি।’

default-image

মিঠুনের এই ভাষণ এখন ভাইরাল হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এ নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা, সমালোচনা, পর্যালোচনা।

বিজ্ঞাপন
বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন