default-image

‘গুলমোহরের ফুল ঝরে যায়। বনে বনে শাখায় শাখায়। কেন যায়? কেন যায়? বাহারের মন ভেঙে যায়...’

মন ভেঙে গিয়েছিল অমিতাভ বচ্চনেরও। যেদিন ঝড়ে ‘প্রতীক্ষা’র বাগানের গুলমোহরগাছটি ভেঙে গিয়েছিল। ওই গুলমোহরগাছটির বয়স ছিল ‘প্রতীক্ষা’র সমান। ৪৪ বছর আগের কথা। ১৯৭৬ সালে সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চন যেদিন নিজের বাড়ি ‘প্রতীক্ষা’য় থাকতে শুরু করলেন, সেদিনই ওই গাছটি লাগিয়েছিলেন তিনি। সে কতকাল আগের কথা! অমিতাভও বলিউডের শাহেনশাহ হলেন, ডালপালা মেলে গাছটিও ‘প্রতীক্ষা’র বাগানের সুবিশাল বৃক্ষ হয়ে উঠল। বছরের পর বছর গুলমোহর ঝরে ঝরে পড়ল। তারপর মাথা উঁচু করে আকাশ ছুঁতে চাওয়া গাছটি ঝড়ে ভেঙে গেল।

default-image

অমিতাভ বচ্চন গাছ ভালোবাসেন, ভালোবাসেন ফুল। এত ব্যস্ততার মধ্যেও অমিতাভের নিজের বাগানের যত্ন নিতে ভুল হয় না। তাঁর প্রিয় ফুলগুলোর একটি গুলমোহর। ১২ আগস্ট ছিল অমিতাভ বচ্চনের মা তেজি বচ্চনের জন্মদিন। এদিন মায়ের স্মরণে অমিতাভ বচ্চন প্রতীক্ষার বাগানে একটি গুলমোহরের চারা লাগান। টুইটে সেই ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘প্রতীক্ষায় প্রথম দিনে আমি একটি গুলমোহর লাগিয়েছিলাম। ৪৪ বছরের সেই গুলমোহর ভেঙে পড়ল ঝড়ে। ওই একই জায়গায় আজ মায়ের নামে আরেকটি গুলমোহর লাগালাম।’

default-image

অমিতাভের ফুল ভালোবাসার পেছনেও রয়েছেন তাঁর মা। নিজের ব্লগে মাকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করে অমিতাভ লেখেন, ‘আমরা বাড়ি বদলে যেখানেই যাই, মা কিছুদিনের ভেতর সেই বাড়িটাকে বাগানে সাজিয়ে ফেলতেন। সকালবেলা উঠে টাটকা ফুলে ঘর সাজাতেন। রোজ তাঁর সদ্য ফোটা গোলাপ চাই-ই চাই। ফুলের সৌরভে ঘর ম–ম করত। মা গোলাপ খুব ভালোবাসতেন। তবে মা আর আমার দুজনেরই প্রিয় ফুল গুলমোহর, পরিজাত আর রাত কি রানি। মা যখন কলেজে পড়াতেন, তখন মায়ের ছাত্রছাত্রীরা কলেজের বাইরে করিডরে দাঁড়িয়ে থাকত। সুন্দর শাড়িতে খোঁপায় গোঁজা ফুলের সুবাসে মাকে করিডর ধরে যেতে দেখবে বলে। মা প্রতিদিন বাগান থেকে ফুল তুলে খোঁপায় দিতেন।’

default-image

লকডাউনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও নাতনি আরাধ্য বচ্চন। এখন অবশ্য সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে এসেছেন।

বিজ্ঞাপন
বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন