সিরিজের অলিখিত নিয়ম হলো প্রথম সিজন তুমুল হিট করলে পরের সিজনে যত যা কিছুই করা হোক না কেন, ম্লান মনে হয়। দর্শকদের প্রত্যাশার পারদ থাকে অনেক উঁচুতে। তাই পরের সিজন দিয়ে দর্শকদের মন জোগানো কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। আর সেই সিরিজ যদি হয় গ্যাংস্টার ড্রামা, তাহলে তো কথাই নেই। চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন। ‘মির্জাপুর’ প্রথম সিরিজেই প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দিয়ে মাত করেছে। বিশেষ করে প্রথম সিরিজের নবম অ্যাপিসোড দেখার পর দর্শক হাঁ করে অপেক্ষা করেছে পরের সিজনের জন্য। দুই বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর পেরিয়ে আবারও দর্শক টান টান উত্তেজনাকে সঙ্গী করে দেখে ফেলেছে ‘মির্জাপুর টু’। ‘মির্জাপুর’ মানেই নিজের অজান্তেই দম আটকে রেখে সিরিজটার মার মার কাট কাট উত্তেজনার অংশ হওয়া। আমাজন প্রাইময়ে সাড়া জাগিয়ে মুক্তি পেল ‘মির্জাপুর টু’। ‘মির্জাপুর’-এর সেই সাফল্যের ধারা কিঞ্চিৎ ম্লান হয়ে অব্যাহত নতুন সিজনেও। এই সফল সিরিজের মূল পাঁচ চরিত্রকে নিয়ে এই প্রতিবেদন। এক ভার্চ্যুয়াল আড্ডায় ‘মির্জাপুর টু’-এর পাঁচ চরিত্রের মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধি। এ আড্ডায় উঠে এল ‘মির্জাপুর’ নিয়ে নানা কথা। এটি তার দ্বিতীয় অংশ। অভিনয়শিল্পীদের বক্তব্য তাঁদের বয়ানে হুবহু তুলে ধরা হলো।
বিজ্ঞাপন
default-image

‘কালিন ভাইয়া’ রূপে পঙ্কজজি আমাদের অভিনয় শেখার স্কুল

বিজয় ভর্মা (শত্রুঘ্ন-ভরত ত্যাগী)

‘গালি বয়’ ছবি মুক্তির পর আমি প্রচুর মানুষের ভালোবাসা পেয়েছিলাম। এই ছবিকে বলা যায় আমার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। এই ছবির পর আমাকে আর অডিশন দিতে হয় না। এই সিনেমার পর ‘মির্জাপুর টু’-এর জন্যও আমি প্রচুর মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি। অভিনেতা হিসেবে মানুষের ভালোবাসার চেয়ে আর বড় প্রাপ্তি হয় না। এটাই আমার জীবনের সেরা উপহার। আমি ‘মির্জাপুর’ পরিবারের নতুন সদস্য। সমগ্র পরিবার আমাকে খোলা মনে স্বাগত জানিয়েছে। ‘মির্জাপুর টু’-এর সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি সত্যি ধন্য।

default-image

সবচেয়ে বড় কথা, এই সিরিজে আমি নিজেকে দুই রূপে মেলে ধরতে পেরেছি। কারণ ‘মির্জাপুর টু’-তে আমার দ্বৈত চরিত্র। দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে অভিনেতা হিসেবে প্রমাণ করা যেকোনো অভিনেতার স্বপ্ন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। আমি চেষ্টা করেছি দুই ব্যক্তিত্বকে আলাদা করে তুলে ধরতে। ‘মির্জাপুর’ আমি দর্শক হিসেবে খুবই উপভোগ করেছিলাম। দিব্যেন্দুকে আমরা কমেডি ঘরানায় দেখতে অভ্যস্ত। কিন্তু ‘মির্জাপুর’-এ এক অন্য রূপে দেখি। আর রসিকাকেও এক নতুন রূপে আবিষ্কার করলাম। ‘কালিন ভাইয়া’ রূপে পঙ্কজজি তো আমাদের স্কুল, অভিনয় শেখার স্কুল।

default-image

‘মির্জাপুর টু’ আমার মন্দ মেয়ে হয়ে ওঠার গল্প

শ্বেতা ত্রিপাঠি (গোলু গুপ্তা)

‘মির্জাপুর টু’ আমার কাছে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। এই সিজনটা অভিনয়শিল্পী হিসেবে সবটা আমার থেকে নিংড়ে নিয়েছে। ‘মির্জাপুর টু’-এর শুটিংয়ের পর আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক ক্লান্ত ছিলাম।

‘মির্জাপুর টু’ আমার মন্দ মেয়ে হয়ে ওঠার গল্প। এর আগের সিজনে দিব্যি সাদাসিধা ভালো মেয়ে ছিলাম আমি। তাই এই সফরটা আমার জন্য অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল। আর ‘মির্জাপুর টু’-তে নতুন রূপে আমি দর্শককে রীতিমতো চমক দিয়েছি। একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে নতুন নতুন রূপে মেলে ধরাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেটা যদি হয় এক সিরিজেই, তাহলে তো আরও চ্যালেঞ্জিং। কেননা, ভাঙা, গড়া, নতুন করে জন্ম নেওয়াটা যৌক্তিকভাবে শরীরী ভাষায় প্রমাণ করতে হয়।

default-image

‘মির্জাপুর টু’র জন্য আমাকে অনেক নতুন কিছু করতে হয়েছে। সবার আগে চুল কেটে ফেলতে হয়েছে, পোশাকে অনেক বদল আনতে হয়েছে। এই প্রথম কোনো চরিত্রের জন্য আমাকে জিমে ছুটতে হয়েছে। তবে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ছিল বন্দুক চালানো শেখা। প্রথম দিন বন্দুক চালানোর শব্দে আমার রক্ত হিম হয়ে যায়। আমি বিক্রান্ত (মাসেই) আর আলীকে (ফজল) ফোন করি। ওরা কীভাবে অবলীলায় বন্দুক চালায়, তা শিখতে চাই। তবে শুধু বন্দুক চালানো নয়, সেই সঙ্গে পর্দায় নিজের আবেগ ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফুটিয়ে তোলা খুব কঠিন কাজ ছিল।

বিজ্ঞাপন
default-image

দিব্যেন্দুর (মুন্না) চরিত্রে প্রচুর শেডস আছে

আঞ্জুম শর্মা (শরদ)

‘মির্জাপুর’-কে ঘিরে আমার শুধু পেশাদার সম্পর্ক নয়, এক আবেগের সম্পর্ক। এই সিরিজের মাধ্যমে আমি বড় বড় অভিনেতার সংস্পর্শে আসতে পেরেছি। ‘মির্জাপুর’-এর জন্য সবাই নিজেকে ২০০ শতাংশ উজাড় করে দিয়েছে। তাই সবার সঙ্গে এক ফ্রেমে নিজেকে জায়গা করে দেওয়ার জন্য আমাকে তাঁদের মানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যুদ্ধ করতে হয়েছে।

default-image

নিজেকে আরও ভালো করার চ্যালেঞ্জ ছিল আমার সামনে। আমি নিজে ‘মির্জাপুর’ পাঁচবার দেখেছি। সব চরিত্রই আমার অত্যন্ত কাছের। তবে দিব্যেন্দুর (মুন্না) চরিত্রে প্রচুর শেডস আছে। এটিই আমার মতে এ সিরিজের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং চরিত্র।

মন্তব্য পড়ুন 0