পর্দায় মাহি গিলকে শেষ দেখা গেছে ‘দুর্গামতী’ ছবিতে। এক দাপুটে পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় ছিলেন তিনি। তবে মাহী বলিউডে নিজের এক ব্যতিক্রম পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। একের পর এক ভিন্নধর্মী ছবিতে দেখা গেছে তাঁকে। সম্প্রতি মুক্তি পেল তাঁর অভিনীত ওয়েব সিরিজ ‘১৯৬২: দ্য ওয়ার ইন দ্য হিলস’। এই সিরিজে তিনি এক সৈনিকের স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।

default-image

এক ভার্চ্যুয়াল আড্ডায় মাহি প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধিকে জানান এই সিরিজ আর তাঁর শুরুর জীবনের কিছু কথা। আড্ডার শুরুতে উঠে আসে ‘১৯৬২: দ্য ওয়ার ইন দ্য হিলস’ সিরিজে তাঁর অভিনীত চরিত্রের কথা। মাহী এই সিরিজে তাঁর চরিত্রের প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার চরিত্রে আবেগ ভরপুর। আর এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। আমার দাদু আর্মিতে ছিলেন। তাই আর্মির পরিবেশে আমার বড় হয়ে ওঠা। ওদের আদবকায়দা, ধরন–ধারণ সব আমার নখদর্পণে ছিল। এমনকি আমি আর্মিতে সুযোগও পেয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কারণবশত আমি আর্মিতে যোগ দিতে পারিনি। তবে এই সিরিজ করার পিছনে একটা কারণ ছিল। আমি সৈনিকদের স্ত্রীদের জীবন তুলে ধরতে চেয়েছিলাম। যখন তাঁদের স্বামী সীমানায় যুদ্ধের জন্য যান, তখন পরিবারের সবার কীভাবে দিন কাটে। আর এটা সবার জানা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।’

default-image
বিজ্ঞাপন

অভিনয় দুনিয়ায় পা রাখার কথা কখনোই ভাবেননি মাহি। পড়াশুনা নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতেন তিনি। আর্মির পরিবেশে তাঁর বড় হয়ে ওঠা। তাই মাহীর ইচ্ছা ছিল আর্মি অফিসার হওয়ার। কিন্তু মায়ানগরী মুম্বাইতে পা রেখে এই বলিউড নায়িকা এক নতুন জীবনের সন্ধান পান।

default-image

কৈশোরের স্মৃতিতে ডুব দিয়ে মাহি বলেন, ‘অভিনয়ের ব্যাপারে আমি কখনোই চিন্তাভাবনা করিনি। আমি পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম। আর্মিতে আসাই আমার প্যাশন ছিল। আমি স্বপ্নেও ভাবিনি যে মুম্বাইতে থাকব। এখানকার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করব। এখানে এসে আমি এক নতুন জীবন পেয়েছি। আমি পাঞ্জাবি নাটকে কাজ করতাম। এখানে অনেক ছবিতে কাজ করেছি। আমার মা অভিনয়ে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু নানাজির জন্য মা ছবির দুনিয়ায় আসতে পারেননি। কারণ, তখন এই দুনিয়াকে খারাপ নজরে দেখা হতো। এখন মানুষের মানসিকতা বদলেছে। মা-বাবারাই তাঁদের সন্তানদের অভিনয় ক্ষেত্রে নামানোর জন্য উদ্যোগ নেন। এই আবেগ এখন আমার মধ্যে এসে গেছে। আর ধীরে ধীরে অভিনয়কেই আমি আমার পেশা বানিয়ে ফেলেছি।’

default-image

ছবি নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটু খুঁতখুঁতে মাহি। মনের মতো গল্প না পেলে সাধারণত অভিনয় করেন না তিনি। এ প্রসঙ্গে এই বলিউড নায়িকা বলেন, ‘প্রথমে আমি ছবির গল্প দেখি। ছবির গল্প আমাকে সন্তুষ্ট করলে তবে আমি সেই ছবিতে কাজ করতে আগ্রহী হই। এ ছাড়া ছবির ব্যানার, আমার সঙ্গে কারা অভিনয় করছেন, ছবি মুক্তির দিন এসব বিষয়ও আমি দেখি।’

default-image

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বলিউডি ছবির দুনিয়ায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনে দারুণ খুশি মাহি। তিনি বলেন, ‘আজ থেকে দশ বছর আগে যখন ‘‘দেব ডি’’ ছবিতে অভিনয় করলাম, তখন ছবিতে নতুনভাবে কাহিনি বলার ধারা শুরু হলো। ছবিতে গল্প বলার মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে এখন। নায়িকাদের জন্য অনেক ভিন্ন ধারার ছবি নির্মাণ করা হয় এখন। বেশ কিছু বছর আগে নারীকেন্দ্রিক ছবি বানানো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন এই ধরনের ছবির ধারা শুরু হয়েছে। আজকের অভিনেতারা জোরালো চরিত্র আর ভালো গল্প না পেলে সাধারণত অভিনয় করতে চান না। আগে একটা ছবি নির্মাণ করতে দুই থেকে তিন বছর লেগে যেত। আর এখন দুই মাসের মধ্যে একটা ছবি বানানো হয়ে যায়। এর ফলে অর্থ আর সময় দুটোই বাঁচছে। আজকের নির্মাতারা অর্থের ব্যাপারে খুবই বুঝদার। তাঁরা তাড়াতাড়ি ছবি বানিয়ে ফেলেন। এর ফলে অভিনেতাদের কাজের সুযোগ আরও বাড়ছে।’

default-image
বিজ্ঞাপন
বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন