default-image

এক দশক আগের কথা। বলিউড অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান তখন মুম্বাইয়ের ডি ওয়াই পাতিল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে দুই ঘণ্টা ট্রেনে চড়ে অডিশন দিয়ে বেড়ান। ১২ জনের সঙ্গে একটা বাসা ভাড়া করে থাকেন। সবার জন্য রান্না করে দিতেন কার্তিক। তাতে যে আয় হতো, তা দিয়ে হাতখরচ চলে যেত এই বলিউড তারকার। সে রকমই একদিন গেলেন শাহরুখ খানের বাড়িতে, মান্নাতের সামনে, হাজারো ভক্তের ভিড়ে।

default-image

সেদিন ভাগ্য ভালো ছিল কার্তিকের। বারান্দায় এসেছিলেন শাহরুখ। দাঁড়িয়ে হাত নেড়েছিলেন। অবশ্য কার্তিকের ভাষায়, শাহরুখের সঙ্গে ‘আই কন্টাক্ট’ হয়েছিল তাঁর। আর পরের বেশ কয়েক বছর ধরে কার্তিক এই গল্প করে বেড়িয়েছেন যে শাহরুখের সঙ্গে তাঁর চোখাচোখি হয়েছে। সেই শাহরুখ এবার কার্তিকের জন্য সিনেমা প্রযোজনা করতে যাচ্ছেন। শাহরুখের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের পরের ছবি পরিচালনা করবেন পরিচালক অজয় বহেল।

বিজ্ঞাপন

কমেডি ধারার এই সিনেমার জন্য পরিচালক ও প্রযোজক দুজনেরই প্রথম পছন্দ ছিল কার্তিক আরিয়ান। আর কার্তিকও হাসিমুখে সম্মতি জানিয়েছেন। এমনটাই নিশ্চিত করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলিউড হাঙ্গামা।

default-image

নিজের সংগ্রাম আর ক্যারিয়ার নিয়ে কার্তিক বিবিসি এশিয়া নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি রাতারাতি বলিউড অভিনেতা হয়ে যাইনি। তিন বছর শুধু টানা অডিশন দিয়ে গেছি। প্রথম ছবি “পেয়ার কা পাঞ্চনামা”র অডিশন দেওয়ার ছয় মাস পর আমাকে ছবিতে চুক্তিবদ্ধ করা হয়। তবে “সোনু কে টিটো কি সুইটি” ছবির সফলতার পর বলিউডে আমার অবস্থান একটু শক্ত হয়। “লুকা ছুপি” এবং “পতি পত্নী অউর ও”—এই দুই সিনেমার পর আমি বলতে পারি আমিও বলিউড তারকা। এক দশক লেগেছে বিশ্বের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতামূলক ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত হতে। এখন আমি বলতে পারি, বলিউডের ছবি করে আমার নিজের বাড়ি হয়েছে, বিএমডব্লিউ গাড়ি হয়েছে, আমি নিয়মিত ছবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছি।’

default-image

হাতে চার-চারটি সিনেমা নিয়ে ক্যারিয়ারের ব্যস্ততম সময় পার করছেন কার্তিক। তাঁকে দেখা যাবে রাম মধুবাণীর পরের ছবিতে, আনিস বাজমির ‘ভোল ভুলাইয়া টু’ এবং করণ জোহরের ‘দোস্তানা টু’ ছবিতে। আর শাহরুখের ছবি তো আছেই।

default-image


এক সাক্ষাৎকারে কার্তিক বলেন, ‘আগে অডিশনের দিনগুলোতে লোকে বলত, “যাও, তুমি এই চরিত্রের জন্য ফিট না।” এটা আত্মবিশ্বাস গুঁড়িয়ে দিত। একজন জনপ্রিয় কাস্টিং পরিচালক আমাকে বলেছিলেন, “তোমাকে দিয়ে হবে না। সিনেমা কেন, সিরিয়াল বা টিভি বিজ্ঞাপনও হবে না।” তিনিই কিছুদিন আগে আমাকে ফোন করে তাঁর ওই মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আর শুভকামনা জানিয়েছেন।’ তবে সফলতা, ব্যর্থতা কোনো কিছুই তাঁকে বদলাতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘আমার মা-বাবা আমাকে বিনয়ী হতে শিখিয়েছেন। তারপরই আমি একজন সফল অভিনয়শিল্পী। আমার আশপাশে তেমন “ইয়েস ম্যান”দের জায়গা নেই। তাই আমার পা সব সময় মাটিতে থাকে। মানুষ আমার কাজ পছন্দ করছেন, তাতে একটু নিশ্চিত হচ্ছি। প্রযোজকেরা কাজ দিচ্ছেন, তাতে স্বস্তি হচ্ছে। আমি কেবল ভালো কাজ করে যেতে চাই।’

default-image
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0