ছবির গল্পের প্রয়োজনে বলিউডের তারকারা হরহামেশাই রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবির রোমান্টিক দৃশ্যে সহঅভিনেতা কিংবা সহঅভিনেত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিতে দেখা যায় তাঁদের। কেবল রুপালি পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও এসব তারকার অনেকেই দারুণ রোমান্টিক। তাঁদের কারও কারও বাস্তব জীবনের প্রেমের গল্প ছবির কাহিনিকেও যেন হার মানায়। বলিউডের প্রথম সারির কয়েকজন তারকার প্রেম শুরুর গল্প নিয়ে ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

default-image

সৈকতে ভালোবাসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন শাহরুখ
একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয়েছিল ‘বলিউড বাদশাহ’ শাহরুখ খান ও তাঁর স্ত্রী গৌরী খানের। প্রথম দেখাতেই গৌরীকে দারুণ পছন্দ করে ফেলেন শাহরুখ। গৌরীর কাছে গিয়ে তাঁর সঙ্গে নাচের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি, কিন্তু গৌরী তাঁকে এড়িয়ে যান। গৌরী বলেন, প্রেমিকের জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি। কিন্তু থেমে যাননি শাহরুখ। বছরের পর বছর ধরে গৌরীর মন জয়ের চেষ্টা করেছেন। শেষ পর্যন্ত সাফল্যও পেয়েছেন। মুম্বাইয়ের আকসা সৈকতে গৌরীকে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেমের প্রস্তাব দেন কিং খান। সেই শুরু। আজও একসঙ্গে প্রেমের তরি বাইছেন তাঁরা। বলিউডের অন্যতম সুখী দম্পতি হিসেবে উচ্চারিত হয় তাঁদের নাম।
‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বলা হয়নি অজয়-কাজলের
১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হালচাল’ ছবিতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছিলেন কাজল ও অজয় দেবগন। তখন প্রায়ই ছবির সেট থেকে হাওয়া হয়ে যেতেন তাঁরা। পুরোনো সেসব দিনের কথা জানাতে গিয়ে অজয় বলেন, ‘আমাদের জীবনে সবচেয়ে রোমান্টিক সময় ছিল তখন। আমরা প্রায়ই ছবির সেট থেকে পালিয়ে একে অন্যের সঙ্গে সময় কাটাতাম। আর ছবির পরিচালক আনিস বাজমি হন্যে হয়ে আমাদের খুঁজে বেড়াতেন।’ অজয় জানিয়েছেন, আমি তোমাকে ভালোবাসি বলা কিংবা আনুষ্ঠানিকভাবে কখনোই প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া হয়নি তাঁদের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একে অন্যের কাছাকাছি এসেছেন তাঁরা। জড়িয়েছেন ভালোবাসার সম্পর্কে। আর বিয়ে নিয়ে তো কখনোই আলাপ হয়নি তাঁদের মধ্যে। তবে দুজনই সব সময় মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন, একদিন না একদিন বিয়ের পথে তাঁরা হাঁটবেনই। অবশেষে ১৯৯৯ সালে মালাবদল করেন তাঁরা। সেই থেকে সুখে সংসার করছেন বলিউডের এই তারকা দম্পতি।
ভিনদেশে ঐশ্বরিয়ার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছিলেন অভিষেক
২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গুরু’ ছবিতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন বলিউডের অভিনেত্রী ও সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও বলিউডের প্রভাবশালী বচ্চন পরিবারের ছেলে অভিষেক বচ্চন। ছবিটির উদ্বোধনী প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। সেখানেই অ্যাশের প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রথম প্রকাশ করেন অভিষেক। ভালোবাসার প্রস্তাবে সাড়াও দেন অ্যাশ। ২০০৭ সালের ২০ এপ্রিল হিন্দু রীতি অনুযায়ী বিয়ের পর্ব সারেন তাঁরা। একমাত্র মেয়ে আরাধ্যকে নিয়ে দারুণ সুখে কাটছে তাঁদের জীবন।
অভিনব কায়দায় সুজানকে আজীবনের সঙ্গী হতে বলেছিলেন হৃতিক
হৃতিক রোশন ও সুজান খান ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছেন ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে। কাগজেকলমে তাঁদের বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়েছে গত বছরের নভেম্বরে। সম্পর্ক না টিকলেও একটা সময়ে প্রেমের জোয়ারে ভেসেছেন তাঁরা। মাত্র ১২ বছর বয়স থেকেই সুজানকে চিনতেন হৃতিক। কিন্তু মুখ ফুটে ভালোবাসার কথা জানাতে লজ্জা পেতেন হৃতিক। শেষ পর্যন্ত অভিনব কায়দায় সুজানকে আজীবনের সঙ্গী হওয়ার প্রস্তাব দেন হৃতিক। একদিন অভিসারে বের হয়ে কফি কাপের মধ্যে একটি আংটি ফেলে দেন হৃতিক এবং সেটি খুঁজে বের করতে বলেন সুজানকে। পরে তাঁদের প্রেম বিয়েতে গড়ায় ২০০০ সালে। বিয়ের আগে চার বছর চুটিয়ে প্রেম চলে তাঁদের মধ্যে। দুই ছেলে রিহান ও রিদানকে নিয়ে সুখেই কাটছিল তাঁদের জীবন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টেকেনি তাঁদের বিয়ে।
বিয়ের ১০ বছর পর সবচেয়ে রোমান্টিক মুহূর্ত পেয়েছিলেন মালাইকা
বলিউডের অভিনেতা ও নির্মাতা আরবাজ খানের সঙ্গে মডেল ও অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা খানের প্রথম পরিচয় হয়েছিল একটি কফির বিজ্ঞাপনচিত্রে শুটিং করতে গিয়ে। আরবাজের সঙ্গে ভালোবাসার কথা জানাতে গিয়ে মালাইকা বলেন, ‘বিয়ের ১০ বছর পর সবচেয়ে রোমান্টিক মুহূর্ত ধরা দিয়েছিল আমার কাছে। সেদিন আমি নতুন করে ভালোবাসার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আরবাজের কাছে। আসলে তার চেয়ে আমিই বেশি রোমান্টিক।’
‘লগন’ ছবি কাছে এনেছিল আমির ও কিরণকে
২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া আমির খান অভিনীত ‘লগন’ ছবির সহকারী পরিচালক ছিলেন কিরণ রাও। ছবির সেটে তাঁদের প্রথম পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে প্রেম এবং প্রেম থেকে বিয়েতে গড়ায় তাঁদের সম্পর্ক। সেই থেকে সুখে সংসার করছেন তাঁরা।
অনুপম-কিরণের প্রেমের শুরু বৃষ্টিভেজা দিনে
বৃষ্টিভেজা দিনে বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী কিরণ খেরের সঙ্গে দেখা করে ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা অনুপম খের। প্রথম প্রেমের গল্প জানাতে গিয়ে কিরণ বলেন, ‘সেদিন অনুপমের সঙ্গে আমি দেখা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রচণ্ড বৃষ্টির জন্য ঘর থেকে বের হতে পারিনি। ভারী বৃষ্টির জন্য রাস্তায় যানবাহন ছিল না। কিন্তু সব বাধাকে তুচ্ছ করে বান্দ্রা থেকে হেঁটে আমার কারমাইকেল রোডের বাসায় আসে অনুপম। আমার জীবনের সবচেয়ে রোমান্টিক দিন সেটি।’

বিজ্ঞাপন
বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন