দুবাই থেকে কোচিনগামী বিমান স্কাইলাইন ৭৭৭-এর পাইলট ছিলেন বিক্রান্ত। আর তাঁর সহবিমানচালক ছিলেন তান্যয়া (রাকুল প্রীত)। বিক্রান্ত বিমানযাত্রার আগের রাতে দুবাইয়ের এক অভিজাত পাবে বন্ধুদের সঙ্গে চুটিয়ে পার্টি করেছিলেন।

default-image

সারা রাত মদ্যপান, হইহুল্লোড় সব মিলিয়ে শারীরিকভাবে ক্লান্ত ছিলেন ক্যাপ্টেন। ১৫০ যাত্রীকে নিয়ে দুবাই থেকে কোচিনের উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন বিক্রান্ত আর তান্যয়া। সেদিনের এই ভ্রমণের শুরুটা আর পাঁচ দিনের মতো স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পর তাঁরা জানতে পারেন কোচিনের আবহাওয়া অত্যন্ত খারাপ। প্রবল বৃষ্টির কারণে কোচিন বিমানবন্দরে এই বিমান অবতরণ করানো সম্ভব নয়। তাই তান্যয়া ক্যাপ্টেন বিক্রান্তকে পরামর্শ দেন কোচিনের বদলে বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে অবতরণের জন্য। কিন্তু বিক্রান্ত তাঁর কথা না শুনে ত্রিবান্দ্রম বিমানবন্দরে অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। কোচিনের বেশ কাছে ত্রিবান্দ্রম শহর। তাই সেখানেও প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়।

ত্রিবান্দ্রম বিমানবন্দরের কাছে এসেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে কিছুতেই অবতরণ করানোর ঝুঁকি নিতে পারছিলেন না ক্যাপ্টেন। এদিকে বিমানে জ্বালানি প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। তাই বিমান ক্র্যাশ হওয়ার সম্ভাবনা ঘনিয়ে আসছে। সব প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে ত্রিবান্দ্রম বিমানবন্দরের ‘রানওয়ে থার্টিফোর’–এ অবতরণ করান বিক্রান্ত। ক্যাপ্টেন ‘মেডে’ অর্থাৎ ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং করান। কিন্তু ১৫০ যাত্রীর প্রাণের ঝুঁকি নিয়েছিলেন বলে ক্যাপ্টেন বিক্রান্তকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। তাঁর বিরুদ্ধে এক বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন নারায়ণ বেদান্ত (অমিতাভ বচ্চন)। এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (এএআইবি) কাঠগড়ায় তাঁকে সওয়াল-জবাব করেন নারায়ণ বেদান্ত। ক্যাপ্টেন বিক্রান্তকে তিন মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। এ সময় নারায়ণ বেদান্ত ক্যাপ্টেনকে পরামর্শ দেন, ভুল করার পর মানুষের জীবনে তিনটি জিনিস ঘটে। ভুল স্বীকার করা, ভুল থেকে শেখা আর একই ভুল দ্বিতীয়বার না করা। বিক্রান্ত যাতে এই ভুল দ্বিতীয়বার না করেন, তাই তাঁকে তিন মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

অভিনয়

ক্যাপ্টেন বিক্রান্ত খান্নার চরিত্রের সঙ্গে অজয় পুরোপুরি সুবিচার করেছেন। একজন বিমানচালকের শারীরিক ভাষা, ম্যানারিজম, আত্মবিশ্বাস সবকিছুই তিনি যথাযথভাবে পর্দায় তুলে ধরেছেন। এদিকে রাকুলও আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন তাঁর সহবিমানচালকের চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে। আবেগপ্রবণ দৃশ্যগুলোতে তিনি সপ্রতিভ ছিলেন। ছবির দ্বিতীয়ার্ধজুড়ে ছিল নারায়ণ বেদান্তরূপী অমিতাভ বচ্চনের দাপট। এর আগে একাধিক ছবিতে তিনি তাঁর অভিনয়গুণে কোর্টরুমের দৃশ্যগুলো এক অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছেন। এই ছবিতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অজয় এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে অমিতাভ বচ্চন ছাড়া তিনি এই ছবিটা নির্মাণ করতেন না। নারায়ণ বেদান্তের মতো দাপুটে চরিত্রে সত্যি বিগ বি ছাড়া দ্বিতীয় কাউকে ভাবা যায় না। ‘রানওয়ে থার্টিফোর’ ছবিতে বোমান ইরানির মতো অভিনেতা সে অর্থে অভিনয়ের সুযোগ পাননি

default-image

পরিচালনা
‘শিবায়’ ছবির পরে আবার অজয়কে পরিচালকের ভূমিকায় দেখা গেল। ছোটবেলা থেকেই তিনি পরিচালক হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অজয়ের বাবা বলিউডের নামকরা অ্যাকশন নির্দেশক বীরু দেবগণ চেয়েছিলেন ছেলেকে রুপালি পর্দায় দেখতে। তাই বাবার ইচ্ছায়ই নায়ক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন অজয়। কিন্তু ‘রানওয়ে থার্টিফোর’ ছবিতে অজয় প্রমাণ করলেন, অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালক হিসেবেও তিনি সমান সফল। এই ছবির প্রথমার্ধজুড়ে ছিল ভরপুর উত্তেজনা। অজয় প্রতিটি দৃশ্যে টান টান উত্তেজনা বজায় রেখেছেন। ছবির প্রথমার্ধ একটা বিমানের মধ্যে শুট করা হয়েছে। কিন্তু কোথাও এতটুকু একঘেয়ে লাগবে না।

default-image

অজয় সাক্ষাৎকারের সময় জানিয়েছিলেন, এই ছবির জন্য প্রযুক্তিগত দিক থেকে তিনি অনেক পরিশ্রম করেছেন। সেটা তাঁর নির্দেশনায় ধরা পড়েছে। প্রযুক্তি আর ভিএফএক্সকে এই বলিউড তারকা খুব সুন্দরভাবে ব্যবহার করেছেন। তবে ছবির দ্বিতীয়ার্ধ একটু দুর্বল ছিল। কোর্টরুমের দৃশ্যগুলো আরও সুন্দরভাবে তুলে ধরা যেত। ‘রানওয়ে থার্টিফোর’ ছবির দ্বিতীয়ার্ধের মূল শক্তি ছিল অমিতাভ বচ্চনের জোরদার অভিনয়৷ ‘রানওয়ে থার্টিফোর’ ছবির কাহিনি আরও মজবুত হওয়ার প্রয়োজন ছিল। এই ছবিতে কোথাও আবেগের অভাব ধরা পড়েছে। অসীম বাজাজের চিত্রগ্রহণ দুর্দান্ত ছিল। বিশেষ করে একরাশ মেঘের মধ্যে উড়ন্ত বিমান স্কাইলাইন ৭৭৭-এর যাত্রা দেখলে নিজেকেও একজন যাত্রী ভাবতে ইচ্ছা হবে। ধর্মেন্দ্র শর্মার চিত্রসম্পাদনা প্রশংসনীয়। সব মিলিয়ে অজয়ের এই ছবি ওপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করতে পারেন। আর এই ভ্রমণ এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার স্বাদ দেবে।

বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন