default-image

ভারতের দুই কিংবদন্তি সংগীত ব্যক্তিত্ব শচীন দেববর্মন আর তাঁর ছেলে রাহুল দেববর্মনের নামে এবার কলকাতায় তৈরি হচ্ছে একটি জাদুঘর বা সংগ্রহশালা। আর এই জাদুঘর গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের হেরিটেজ কমিশন। এই জাদুঘর গড়া হবে দক্ষিণ কলকাতার সাউথ এন্ড পার্ক এলাকায় শচীন দেববর্মন আর রাহুল দেববর্মনের স্মৃতিবাহী বাসভবনে। এই জাদুঘরে থাকবে তাঁদের স্মৃতিবাহী বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য সামগ্রী। একই সঙ্গে এই বাড়িসংলগ্ন সড়কের নাম পরিবর্তন করে রাখা হবে ‘দেববর্মন রোড’।

হেরিটেজ কমিশনের চেয়ারম্যান প্রখ্যাত চিত্রকর শুভা প্রসন্ন বলেন, ‘শচীন দেববর্মন আর রাহুল দেববর্মন বাংলার গর্ব। রাহুল দেববর্মন তো কলকাতার এই সাউথ এন্ড পার্কের বাড়িতে জন্মেছিলেন। তাঁর সংগীতের চর্চা, সাধনা—সবই হয়েছিল এই বাড়িকে ঘিরে। তাই আমরা তাঁদের স্মরণে সংগ্রহশালা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি।’

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে আজ রোববার জানা গেছে, ১৯৪৮ সালে কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য সাউথ এন্ড পার্ক এলাকায় একটি বাংলো ধাঁচের বাড়ি তৈরি করেন শচীন দেববর্মন। রাহুল দেববর্মরের শৈশব কেটেছে এই বাড়িতে। হিন্দি সিনেমায় কাজ করার জন্য গত শতকের পঞ্চাশের দশকে শচীন দেববর্মন তাঁর স্ত্রী মীরা দেববর্মনকে সঙ্গে নিয়ে মুম্বাই চলে যান। কিন্তু তাঁদের ছেলে রাহুল তখন থেকে যান এই বাড়িতে। আর এখানেই সংগীতে হাতেখড়ি হয় তাঁর। এবার সেই বাড়িকে একটি সংগ্রহশালার রূপ দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের হেরিটেজ কমিশন।

এই স্মৃতিবাহী বাড়িতে একসময় পা পড়েছিল ভারতের প্রখ্যাত শিল্পীদের। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, লতা মঙ্গেশকর, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, আশা ভোঁশলেসহ অনেক নামী শিল্পী। রাহুল দেববর্মন পরে মুম্বাই চলে গেলেও মাঝেমধ্যে এসেছেন কলকাতার এই বাড়িতে। তিনি শেষ এই বাড়িতে এসেছিলেন ‘১৯৪২—এ লাভ স্টোরি’ ছবির মুক্তির সময়।

স্থানীয় কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, সাউথ এন্ড পার্কের নাম পরিবর্তন করে দেববর্মন সড়ক রাখার প্রস্তাব ইতিমধ্যেই পৌর করপোরেশনের রোড রিনেমিং কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। আর পৌর করপোরেশনের উদ্যান বিভাগের মেয়র পারিষদ দেবাশীষ কুমার বলেছেন, শচীন দেববর্মন ও রাহুল দেববর্মনের স্মৃতিবাহী এই বাড়িকে আগেই হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করেছে কলকাতা পৌর করপোরেশন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন