default-image

গলফ গ্রিনের বাড়ি থেকে বেলভিউ হাসপাতালে গিয়েছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ৪১ দিন পর আজ বাড়ি ফিরছেন এই অভিনেতা। স্ত্রী ও স্বজনদের সঙ্গে শেষ দেখা করে তিনি যাবেন আরও বেশ কয়েকটি জায়গায়। সবশেষে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

বিজ্ঞাপন
default-image

আজ দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তাঁর মৃত্যুর খবর জানার পর বেলা দেড়টায় হাসপাতালে ছুটে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সবার উদ্দেশে তিনি জানান, অভিনেতার মরদেহ কোথায় কোথায় নেওয়া হবে, কীভাবে শ্রদ্ধা জানানো হবে। অসুস্থ থাকাকালে সৌমিত্রকে দেখতে এই হাসপাতালে এসেছিলেন তিনি। ফোনে বেশ কয়েকবার কথাও বলেছেন সৌমিত্রর সঙ্গে। আজ তাঁর বিদায়ে তিনি বললেন, ‘চলচ্চিত্রজগতের এক বরেণ্য স্মরণীয় ব্যক্তি তিনি। কেবল বিনোদন অঙ্গনের মানুষ নন, তাঁকে নানা মানবিক গণ-আন্দোলনে পেয়েছি। তিনি যেখানে পৌঁছেছেন, সেখানে পৌঁছাতে তাঁকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। রাজ্য তাঁকে যথাযথ সম্মান দেবে।’

default-image

বেলা দুইটার পর বেলভিউ নার্সিং হোম সৌমিত্রর মরদেহ হস্তান্তর করবে বলে জানিয়েছে। তাঁকে বাঁচাতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি করেনি এই হাসপাতাল। তাদের সেবায় করোনা জয় করেছিলেন সৌমিত্র। কিন্তু শারীরিক অন্য সমস্যার কাছে তাঁকে হার মানতে হয়েছে। শুরুতে সৌমিত্রর মরদেহ নেওয়া হবে তাঁর গলফ গ্রিনের বাড়িতে। এরপর টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ানস স্টুডিওতে, যেখানে বহু সময় কাটিয়েছেন সৌমিত্র। সেখানে শিল্পী-কুশলী–স্বজনদের শ্রদ্ধা জানানোর পর বেলা সাড়ে তিনটায় সৌমিত্রর মরদেহ নেওয়া হবে রবীন্দ্রসদনে। দুই ঘণ্টা সেখানে সৌমিত্রকে শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন সর্বস্তরের মানুষ ও ভক্ত-অনুরাগীরা। সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে রাজ্য সরকারের সম্মাননার পর তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

বিজ্ঞাপন
default-image

১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় জন্ম নেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। বাবা ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী। জীবনের প্রথম ১০ বছর সৌমিত্র কাটিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরে। তাঁর দাদার ছিল নাটকের দল। বাড়িতে নাট্যচর্চার পরিবেশ ছিল বলেই ছোটবেলা থেকে নাটকে অভিনয় শুরু করেন তিনি। কলকাতার সিটি কলেজে বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়া শেষে সৌমিত্র ভর্তি হন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করেন। কলেজের ফাইনাল ইয়ারে হঠাৎ একদিন মঞ্চে শিশির ভাদুড়ীর নাটক দেখার সুযোগ হয় তাঁর। সেদিনই জীবনের মোড় ঘুরে যায় তাঁর। তিনি পুরোদস্তুর নাটকে মনোনিবেশ করেন। তারপরের ইতিহাস সবার জানা।

‘শুটিং না করলে ডাল-ভাত জুটবে কী করে?’‌ এমন কথা বলে ৮৬ বছর বয়সের অভিনেতা করোনা মহামারির মধ্যে বেরিয়ে পড়েছিলেন কাজে। অবশেষে বাংলাকে শোকস্তব্ধ করে বিদায় নিলেন কিংবদন্তিতুল্য এক অভিনেতা।

মন্তব্য পড়ুন 0