করোনাকালেই আবার ধুমধাম করে শুরু হলো সনি চ্যানেলের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘সুপার ড্যান্সার চ্যাপ্টার ফোর’। বিচারকের আসনে আবার দেখা যাবে বলিউড নায়িকা শিল্পা শেঠিকে। তবে করোনাকালে শুটিং করা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। ‘প্রথম আলো’র সঙ্গে বলিউডের গ্ল্যামারাস নায়িকা শিল্পা শেঠির আড্ডার শুরুতেই উঠে এল শুটিংয়ের কথা। শিল্পা বলেন, ‘আমাদের সবার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। শুধু অতিমারির সময় বলে নয়, বিচারকের আসনে বসা সব সময় চ্যালেঞ্জিং। করোনা আবহের জন্য শুটিংয়ে একটু বেশি সময় লেগেছে। কারণ, আমাদের সব সময় সাবধানতার কথা মাথায় রাখতে হয়েছে। আমরা এতটুকু উপেক্ষা করিনি। বাচ্চাদের নিয়ে এই আয়োজন। তাই সেটে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হয়েছিল।

default-image

‘সুপার ড্যান্সার’ মানে একঝাঁক খুদে নৃত্যশিল্পী। শিল্পা জানান, এই খুদে ড্যান্সারদের বিচার করা খুবই কঠিন কাজ। তিনি বলেন, ‘একটা শিশুকে তার পারফরম্যান্স নিয়ে নেতিবাচক কথা বলার সময় আমার হৃদয় ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। ওরা এতটা নিষ্পাপ যে কিছু বলতে কষ্ট হয়। মনে হয় প্রত্যেককে দশে দশ দিয়ে দিই। ওদের মধ্যে থাকতে ভীষণ আনন্দ পাই। ওদের কাছ থেকে এতটা ভালোবাসা পাই যে বলে বোঝাতে পারব না। নিজের চোখে ওদের বড় হতে দেখার মধ্যে একটা আলাদা আনন্দ আছে।’

default-image

এসব শিশুর মধ্যে শিল্পা নিজেকেই যেন খুঁজে পান। স্মৃতিতাড়িত হয়ে তিনি বলেন, ‘এদের দেখে আমি আমার শৈশবের স্মৃতিকে রোমন্থন করি। ছোটবেলার অনেক স্মৃতি মাথায় ভিড় করে। এই শিশুদের আনন্দ, উন্মাদনা, হাসি, মজা, কান্না, সরলতা—সবকিছুর মধ্যে নিজেকে আমি যেন খুঁজে পাই। আসলে এই মঞ্চ অনেক হারানো মুহূর্তকে আবার জীবন্ত করে। তাই এই শো আমার কাছে দশ গুণ বেশি স্পেশাল।’

default-image
বিজ্ঞাপন

শিল্পা মানেই ফ্যাশনের নতুন ধারা। তাঁর ফ্যাশন ট্রেন্ড হরহামেশাই আলোচনায় থাকে। ‘সুপার ড্যান্সার’-এর মঞ্চেও তিনি নানাভাবে চমকে দেন। আড্ডায় উঠে এল শিল্পার ফ্যাশন প্রসঙ্গও। এই বলিউড তারকা বলেন, ‘আমার কাছে স্টাইল মানে একটু বৈচিত্র্যময় হতে হবে এবং যা পরে আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করব। এবারে ‘সুপার ড্যান্সার’-এর মঞ্চে আমি শাড়ি আর নানা ধরনের ড্রেস পরব। তবে আরও কিছু চমক অপেক্ষা করছে। কিন্তু এখনই তা প্রকাশ করব না। আমার ফ্যাশন ট্রেন্ড দেখার জন্য এবারের শো দেখতে হবে।’

default-image

বলিউডের সফল এবং জনপ্রিয় দম্পতিদের মধ্যে অন্যতম শিল্পা-রাজ কুন্দ্রা দম্পতি। তাঁদের সুখী দাম্পত্যের মূল উপাদান হলো পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস। শিল্পা বলেন, ‘আমার মনে হয় একটা সফল দাম্পত্যের নির্দিষ্ট কোনো ফর্মুলা থাকে না। আমরা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একে অপরকে বুঝতে আর জানতে পেরেছি। তবে আমার বিশ্বাস, একে অপরের প্রতি আস্থা আর সম্মান থাকা জরুরি। আমার মতে, এই দুটো উপাদানই একটা সফল বৈবাহিক জীবনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।’

default-image

দুই সন্তানের মা শিল্পা। গত বছর তাঁর কোল আলো করে এসেছে কন্যা সমীষা। সন্তানদের নিয়ে শিল্পা বলেন, ‘আমার জীবনে সমীষার আসার অনুভূতি কোনো শব্দ দিয়ে আমি ব্যক্ত পারব না। মা হওয়ার পর জীবন অনেকটাই বদলে যায়। তবে দ্বিতীয়বার কন্যাসন্তানের মা হওয়া এক অনন্য অনুভূতি। আমি যেন ওকে আমার মায়ের মতো শিক্ষা দিতে এবং বড় করে তুলতে পারি, সেই প্রার্থনা। সত্যি বলতে মাতৃত্ব এক দুর্দান্ত সফর। আর এই সফর আমাকে মানুষ হিসেবে আরও উন্নত করেছে।’

default-image

লকডাউনে দুই সন্তান আর স্বামীকে নিয়ে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন শিল্পা। তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতি সত্যিই চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে আমার জন্য লকডাউন যেন আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল। আমার সব সময় সমীষাকে উজাড় করে দিতে পেরেছিলাম। চোখের সামনে ওকে বড় হতে দেখার সুযোগ পেয়েছি। তবে এ সময়টা সত্যি কঠিন। কিন্তু আমি আমার দুই সন্তানের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাতে পেরেছি। এটাই সবচেয়ে বড় পাওনা ছিল।’

default-image

এই লকডাউন শিল্পার জীবন–দর্শন অনেকটা বদলে দিয়েছে। যোগব্যায়ামের মাধ্যমে মানসিকভাবে নিজেকে সুস্থ রেখেছেন। এই বলিউড নায়িকা বলেন, ‘গত বছর আমার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—আমার কাছে যা আছে তা নিয়ে খুশি আর কৃতজ্ঞ থাকা। যোগব্যায়াম আমাকে সব ধরনের নেতিবাচক দিকের সঙ্গে সমতা বজায় রেখে চলতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে আমি সুরক্ষিত এক দুনিয়ায় বসবাস করি। আর সবচেয়ে আনন্দ পাই সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে। ওদের সরলতা ও হাসি আমাকে সব দুশ্চিন্তা ভুলিয়ে দেয়।’

default-image

দীর্ঘদিন পর ‘নিকম্মা’ ছবির মাধ্যমে আবার বড় পর্দায় ফিরছেন শিল্পা। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংস প্রসঙ্গে একরাশ উচ্ছ্বাস নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি খুবই রোমাঞ্চিত। আর সত্যি এক অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে। এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান আমি অনুভব করতে পারছি না। মনে হচ্ছে সবকিছু গতকালের ঘটনা। আমি এক সুন্দর সময়ের অপেক্ষায় আছি।’

default-image
বিজ্ঞাপন
বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন