default-image

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ‘ড্রিমগার্ল’খ্যাত বলিউডের অভিনেত্রী ও বিজেপি এমপি হেমা মালিনী হাসপাতাল ছেড়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে তাঁকে আজ সকালে হাসপাতাল ছাড়ার অনুমতি দেন চিকিৎসকেরা। একই দুর্ঘটনায় নিহত সোনমের মা ও ভাই গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হলেও, এখন তাঁরা শঙ্কামুক্ত।
ভারতের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে নয়টার দিকে জয়পুরের ফর্টিস হাসপাতাল থেকে মুম্বাইয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন ৬৬ বছর বয়সী এ তারকা ও রাজনীতিবিদ।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজস্থানে হেমা মালিনীকে বহনকারী মার্সিডিজ গাড়ির সঙ্গে একটি মারুতি গাড়ির সংঘর্ষ হলে আহত হন হেমা মালিনী। তাঁর কপাল কেটে যাওয়ায় চারটি সেলাই দিতে হয়। নাক, মেরুদণ্ড ও পায়েও আঘাত পান তিনি। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় নিহত হয় মারুতি গাড়িতে থাকা ছোট্ট শিশু সোনম। আহত হয় নিহত মেয়েটির মা-বাবা ও ভাই।
হেমা মালিনীর হাসপাতাল ত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফর্টিস হাসপাতালের একজন মুখপত্র বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে আজ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তাঁকে হাসপাতাল ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’
সংবাদকর্মীদের চোখ এড়িয়ে হাসপাতালের ভিন্ন একটি গেট দিয়ে বের করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয় হেমা মালিনীকে। অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। হেমা মালিনীর মেয়ে এষা দেওল ও মেয়ের জামাই অন্য একটি গাড়িতে করে বিমানবন্দর পৌঁছান। সেখান থেকে চার্টার্ড বিমানে চেপে হেমা মালিনীকে নিয়ে মুম্বাইয়ের উদ্দেশে জয়পুর ছাড়েন তাঁরা। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
হাসপাতাল থেকে যাওয়ার আগে সংবাদকর্মীদের মুখোমুখি হন এষা দেওল। বলেন, ‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা এটি। ছোট্ট মেয়েটিকে হারিয়ে অনেক কষ্টে আছেন তার পরিবারের সদস্যেরা। আমরা তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’ এষা আরও বলেন, ‘আমার মা সেরে উঠছেন। আমরা তাঁকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।’
বৃহস্পতিবার রাতে মাথুরা থেকে জয়পুর যাচ্ছিলেন হেমা মালিনী। পথে তাঁর মার্সিটিজ গাড়ির সঙ্গে একটি মারুতি গাড়ির সংঘর্ষ হলে দুর্ঘটনাস্থলেই সোনম নামের ছোট্ট একটি শিশু নিহত হয়। আহত হয় তার বাবা, মা ও ভাই। দুর্ঘটনার পর হেমা মালিনীর কপালের বাম পাশ কেটে রক্ত ঝরতে থাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত তাঁকে জয়পুরের ফর্টিস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল শুক্রবার সকালে হাসপাতালে পৌঁছান তাঁর মেয়ে বলিউডের অভিনেত্রী এষা দেওল। গতকাল হেমা মালিনীর অস্ত্রোপচার করা হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় সন্ধ্যায় তাঁকে আইসিইউ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। আজ সকালে তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর তাঁকে হাসপাতাল ছাড়ার অনুমতি দেন চিকিৎসকেরা।
এদিকে নিহত সোনমের পরিবারের সদস্যেরা সাওয়াই মান সিং হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে হাসপাতালটির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় আহতেরা এখন শঙ্কামুক্ত। তাঁদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পরপরই হেমা মালিনীর গাড়িচালক মুকেশ ঠাকুরের বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করে পুলিশ। মুকেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অসতর্ক অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন তিনি। গতকাল তাঁকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৭৯, ৩০৪, ৩৩৭ ও ৩৩৮ ধারায় গ্রেপ্তার করে রাজস্থান পুলিশ। তবে এরই মধ্যে জামিনে ছাড়া পেয়ে গেছেন প্রভাবশালী তারকা ও রাজনীতিবিদ হেমা মালিনীর গাড়িচালক।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0