default-image

বয়সের ক্যালেন্ডারের ৭৭ বসন্ত পেরিয়ে ৭৮–এ পা দিলেন অমিতাভ বচ্চন। তাতে কী? বয়স যে কেবল সংখ্যা, প্রতিটি সিনেমায় তা দেখিয়ে দিচ্ছেন অমিতাভ। তবু পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ ও পদ্মবিভূষণে সম্মানিত অমিতাভের ধারণা, তাঁর অর্জনের খাতা এখনো প্রায় পুরোটাই ফাঁকা।

এবারের জন্মদিনে যে উপহারটি পেয়েছেন, সেটি জন্মদিনের সেরা উপহার। সেটি হচ্ছে করোনা জয় করে কাজে ফেরা। এই জন্মদিন না–ও আসতে পারত তাঁর জীবনে। তাই বেঁচে থাকা আর আরও একটা জন্মদিন পাওয়া তাঁর জন্মদিনের সেরা উপহার। সারা দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তা। তারই জবাবে ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘আপনাদের ঔদার্য আর ভালোবাসাই সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে দামি, সবচেয়ে সেরা। এর চেয়ে বেশি আর কি চাওয়ার থাকতে পারে?’

বিজ্ঞাপন
default-image

জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনুশকা শর্মা লিখেছেন, ‘আপনার জীবন আমাদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক একটি বই। আপনি সদা সুস্থ থাকুন, সুখে আর শান্তিতে থাকুন—জন্মদিনে কেবল এটুকুই চাওয়া।’ ক্যাটরিনা কাইফ লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন অমিতাভ বচ্চন। এই বছরটি হোক আপনার জীবনের সেরা বছর। অনুপ্রেরণার আরেক নাম আপনি।’ প্রভাস লিখেছেন, ‘জন্মদিন ফিরে ফিরে আসুক। জীবনভর সবাইকে অনুপ্রাণিত করার জন্য ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা।’ প্রিয় অমিত আঙ্কেলকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফারহান আখতার লিখেছেন, ‘এভাবেই আপনার মুকুটে সফলতার নতুন নতুন পালক যুক্ত হতে থাকুক। ভালোবাসা জানবেন।’ পরিণীতি চোপড়া লিখেছেন, ‘আপনার মতো আরেকজন মানুষ পেতে বিশ্বকে ১০০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। সুখ আর সুস্বাস্থ্য আপনার সঙ্গে থাকুক।’ হৃতিক রোশন জানিয়েছেন, তিনি সারা জীবন এভাবেই অমিতাভ বচ্চনের ‘ফ্যানবয়’ হয়েই থাকবেন।

অমিতাভ বচ্চনকে শেষবার পর্দায় দেখা গেছে ‘গুলাবো সিতাবো’ সিনেমায়। অনেকেই বলেছে, চুন্নান মীর্জা নবাব নামের এক বুড়ো লোভী স্বামীর চরিত্রেই বচ্চনজি তাঁর সেরা অভিনয় দেখিয়েছেন। অবশ্য অমিতাভ বচ্চনের প্রায় সব সিনেমাকেই ভক্তরা সেরা বলে দাবি করেন।

কেননা অমিতাভের প্রতিদ্বন্দ্বী অমিতাভ নিজেই। প্রতিবার তিনি নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতা বিনির্মাণ করেন। এরপর তাঁকে দেখা যাবে ‘চেহরে’, ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ আর ‘ঝুন্ড’ সিনেমায়। কন্নড় ভাষার ছবি ‘বাটারফ্লাই’তে গানও করেছেন অমিতাভ। সম্প্রতি দীপিকা পাড়ুকোন ও প্রভাসের সঙ্গে একটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।

default-image

১৯৪২ সালের ১১ অক্টোবর ভারতের উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদে জন্মগ্রহণ করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন। তাঁর বাবা প্রখ্যাত কবি হরিবংশ রাই বচ্চন ও মা তেজি বচ্চন। ২৬ বছর বয়সে কলকাতার ‘ব্ল্যাকার অ্যান্ড কোং’ জাহাজ কোম্পানির ৩০০ রুপি বেতনের চাকরি ছেড়ে তিনি মুম্বাই আসেন। যেভাবেই হোক বড় পর্দার হিরো হবেন, এই ছিল স্বপ্ন। ১৯৬৯ সালে ‘সাত হিন্দুস্তানি’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রজগতে যাত্রা শুরু করেন অমিতাভ।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবনে ‘আনন্দ’, ‘গুড্ডি’, ‘বাবুর্চি’, ‘জঞ্জির’, ‘সওদাগর’, ‘দিওয়ার’, ‘শোলে’, ‘দো আনজানে’, ‘অমর আকবর অ্যান্থনি’, ‘ডন’, ‘সুহাগ’, ‘লাওয়ারিশ’, ‘সিলসিলা’, ‘শাহেনশাহ’, ‘অগ্নিপথ’, ‘বুম’, ‘বাগবান’, ‘ব্ল্যাক’, ‘সরকার’, ‘নিঃশব্দ’, ‘পা’, ‘অরক্ষণ’, ‘সত্যাগ্রহ’সহ অসংখ্য ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়েছেন এই তারকা।

শুধু সিনেমার রঙিন পর্দায় নয়, পারিবারিক জীবনেও সফল তিনি। ১৯৭৩ সালের ৩ জুন বাঙালি অভিনেত্রী জয়া ভাদুড়ীর সঙ্গে যৌথ জীবনের পথচলা শুরু করেছিলেন। সেই পথ এখনো শেষ হয়নি। ৪৭ বছর একসঙ্গে কাটিয়ে আজও বলিউডের আইকনিক দম্পতি তাঁরা। তাঁদের দুই সন্তান শ্বেতা নন্দা ও অভিষেক বচ্চন।

default-image
মন্তব্য পড়ুন 0