বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ছয়–সাত বছর ধরে সিনেমা মুক্তির সংখ্যা ক্রমেই কমছিল। এমনও সময় গেছে, মাসে একটি বা দুটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। ২০২০ সালের শুরুতে সংখ্যাটি বাড়তে শুরু করে। জানুয়ারিতে একটি, ফেব্রুয়ারিতে তিনটি সিনেমা মুক্তি পায়। মার্চের প্রথম সপ্তাহে মুক্তি পায় চল যাই, শাহেন শাহ, হলুদবনি। বুক করা ছিল শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ টু, ঊনপঞ্চাশ বাতাসসহ মোট ৮টি সিনেমার শিডিউল। কেবল দর্শক বাড়তে শুরু করেছিল হলে। তখনই শুরু হয় করোনা। গত এক বছরে ৫০টির বেশি সিনেমা মুক্তির জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু করোনার কারণে কোনো সিনেমাই মুক্তি পাচ্ছে না। যে কারণে সিনেমা হলগুলো বেশির ভাগই বন্ধ হয়ে গেছে।

default-image

এই ফেব্রুয়ারি মাসে সেন্সর পায় ঢাকা ড্রিম। তারপর মুক্তির জন্য দুইবার শিডিউল বুকিং করেছিলেন পরিচালক প্রসূন রহমান। করোনার কারণে কোনোবারই মুক্তি দেওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘এবারে ৮ অক্টোবর ছবিটি রিলিজ দেব। ৮ থেকে ১০টি হল পেলেই আমরা খুশি। সিনেমা নিয়ে আর বসে থাকতে চাই না। এ ছবির জন্য পরের কাজগুলো আটকে আছে।’

default-image

সরকারের অনুদান পাওয়া সিনেমা চন্দ্রাবতী কথার প্রযোজক ও পরিচালক এন রাশেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সিনেমা আর্টফিল্ম ঘরানার। স্বাভাবিকভাবেই এ ধরনের সিনেমার দর্শক কম। হলের পাশাপাশি আমরা ওটিটি ও টেলিভিশন স্বত্ব বিক্রি করে অনুদানের বাইরে লগ্নি করা টাকাগুলো তুলে আনার চেষ্টা করব। আমাদের অনুদান দেওয়ার সময় হলসংখ্যার ব্যাপারে কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম ছিল না। এখন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, কমপক্ষে ১০টি হলে মুক্তি দিতে হবে। এই মুহূর্তে হল কম। সিনেপ্লেক্স ছাড়া অন্য হলগুলোতে আমাদের সিনেমা রিলিজ করতে পারব কি না, এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

default-image

গাজীপুরের চন্দ্রিমা সিনেমা হলের স্বত্বাধিকারী বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি কাজী শোয়েব রশীদ। তাঁর পরিবার চায়, সিনেমা হল বন্ধ করে সেখানে মার্কেট বা ফ্ল্যাট করা হোক। সিনেমা হলের ব্যবসা নিয়ে তাঁদের মতোই হতাশ অন্য হলমালিকেরা। শোয়েব রশীদ বলেন, ‘এখন ৬০ থেকে ৬৫টি সিনেমা হল চালু রয়েছে। নিয়মিত নতুন সিনেমা মুক্তি পেতে শুরু করলে বন্ধ কিছু হল চালু হবে। এখন করোনার সংক্রমণ কমছে। মার্কেট, অফিস খোলা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে। মানুষ নিয়ম মেনে বের হচ্ছে, পরিস্থিতিকে মানিয়ে নিচ্ছে। এখন নির্মাতা ও প্রযোজকেরা একটু একটু করে সিনেমা মুক্তির ব্যাপারে আস্থা ফিরে পাচ্ছেন। ভয় আগের চেয়ে কমেছে। আশা করছি আগামী মাস থেকে সিনেমা মুক্তি ও হলের সংখ্যা বাড়বে।’

আমরা সিনেমার মুক্তি নিয়ে আশাবাদী। কিন্তু দুশ্চিন্তাও হচ্ছে। একদিকে সিনেমা হল কমছে, প্রযোজক নেই। এই সিনেমাগুলো লগ্নি হারালে প্রযোজক কি আর কখনোই সিনেমা বানাবেন? আমরা চাই, সিনেমাগুলো লগ্নি ফিরে পাক। এর মধ্য দিয়েই নিয়মিত সিনেমা হল চালু হোক। এখান থেকে ঢালিউডে আবার একটা জোয়ার আসতে পারে।
মতিন রহমান
default-image

চলচ্চিত্র বিশ্লেষক মতিন রহমান বলেন, ‘সাহস করে নির্মাতা ও প্রযোজকেরা সিনেমা মুক্তি দিচ্ছেন। এটা আশার সঞ্চার করছে। আমরা সিনেমার মুক্তি নিয়ে আশাবাদী। কিন্তু দুশ্চিন্তাও হচ্ছে। একদিকে সিনেমা হল কমছে, প্রযোজক নেই। এই সিনেমাগুলো লগ্নি হারালে প্রযোজক কি আর কখনোই সিনেমা বানাবেন? আমরা চাই, সিনেমাগুলো লগ্নি ফিরে পাক। এর মধ্য দিয়েই নিয়মিত সিনেমা হল চালু হোক। এখান থেকে ঢালিউডে আবার একটা জোয়ার আসতে পারে। পরিস্থিতি বুঝে বড় বাজেটের তারকাবহুল সিনেমাগুলো মুক্তির তালিকায় আনতে হবে। তাহলেই দর্শক হলমুখী হবেন।’

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন