অনিশ্চিত প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নির্বাচন

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদের নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ১৯ মে উচ্চ আদালতে করা এক রিটের পর নির্বাচন বোর্ডের প্রকাশ করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সে রকম আভাস পাওয়া গেছে। রিটের আদেশের পর নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচনী বোর্ড। তবে আদালত আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন করার নির্দেশও দিয়েছেন।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নির্বাচন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা

প্রযোজক পরিবেশক সমিতির প্যাডে নির্বাচন কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘২১ মে ২০২২ এবং উক্ত নির্বাচন–পরবর্তী অফিস বেয়ারার পদে ২৩ মে ২০২২ তারিখ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মহামান্য হাইকোর্টের রিট নম্বর ৬০৪৬/২০২২, ১৯ মে ২০২২-এর নির্দেশনা অনুযায়ী এবং মহাপরিচালক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস স্মারক নম্বর ২৬.০০.০০০.১৫৭-৩৩(অংশ-৪)৯৭-১৯৭ ধারায় উক্ত নির্বাচন বাতিল করা হলো।’

এ ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও নির্বাচন কমিশনার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা ভোটের সব প্রস্তুতিই নিয়ে ফেলেছিলাম। সমিতির অনেক খরচও হয়ে গেছে। কিন্তু হঠাৎ করেই শেষ মুহূর্তে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় হাইকোর্টের এ–সংক্রান্ত রায় হাতে পাই আমরা। এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্যিক সংগঠনের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), মন্ত্রীর পিএস, নির্বাচনী আপিল বোর্ড, নির্বাচনী বোর্ড—সবাই মিলে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিই। তা ছাড়া রায়টা এমন সময় এসেছে, একেবারেই নির্বাচনী তারিখের মুখে, তাই কিছুই করার ছিল না।’ তিনি এ–ও বলেন, ‘সবার জন্য যাতে ভালো হয়, মঙ্গল হয়, সেই বিবেচনা করেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ এদিকে ১৯ মে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ নির্বাচন বোর্ডের ঘোষিত তফসিলের গুরুত্বপূর্ণ ২ নম্বর শর্ত মোতাবেক ভোটার তালিকা সংশোধন করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন।

তফসিলে আছে, এক ব্যক্তির মালিকানায় যতগুলো প্রতিষ্ঠানই থাকুক না কেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে টিআইএন না থাকলে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির ভোটাধিকার থাকবে না। একটি প্রতিষ্ঠান একটি টিআইএনের বিপরীতে একটি ভোট দিতে পারবেন। একই টিআইএন ব্যবহার করে একটি নির্বাচনে একাধিকবার ভোটার হওয়া যাবে না।

নির্বাচনী তফসিলে নির্বাচন–সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলির ২ নম্বরে বলা আছে, এক ব্যক্তির মালিকানায় যতগুলো প্রতিষ্ঠানই থাকুক না কেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে টিআইএন না থাকলে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির ভোটাধিকার থাকবে না। একটি প্রতিষ্ঠান একটি টিআইএনের বিপরীতে একটি ভোট দিতে পারবেন। একই টিআইএন ব্যবহার করে একটি নির্বাচনে একাধিকবার ভোটার হওয়া যাবে না। কিন্তু শাপলা মিডিয়ার কর্ণধার সেলিম খান তাঁর নিজের নামে, পরিবারের সদস্যসহ ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমমোক্তার বা প্রতিনিধি বানিয়ে ৫৪টি ভোটার তৈরি করেছেন, যেখানে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের টিআইএনের বিপরীতে ৩৮টি ভোট তফসিলের নির্দেশনার আওতায় পড়ে না। তফসিলে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, প্রত্যেক ভোটারের জন্য আলাদা আলাদা টিআইএন থাকতে হবে। কিন্তু সেলিম খানের প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৮ ভোটারের বেলায় সেই নিয়ম মানা হয়নি। এমন অভিযোগে প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম উচ্চ আদালতে রিট করেছিলেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এখন সরকারের সঙ্গে কথা বলে, তাদের অনুমতি সাপেক্ষে এটি করতে হবে। কোর্ট যে সময় দিয়েছেন, তাতে নতুন করে আবার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হতে সময় লাগবে। এ জন্য কোর্টের কাছে সময় বাড়ানোর আবেদনও করতে হতে পারে।’

কিন্তু কোর্টের রায়ে নির্বাচনী তফসিলে গুরুত্বপূর্ণ ২-এর নির্দেশ মোতাবেক বর্তমান ভোটার তালিকার পরিবর্তন আনা হবে কি না—এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এ ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের অনুমতি সাপেক্ষে এটি করতে হবে। তিনি অনুমতি দিলে হবে।’

এ ব্যাপারে প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, ‘কোর্টের রায় মেনে ভোটার তালিকা সংশোধন করে এক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন দেওয়া খুব কঠিন কাজ নয়। এক সপ্তাহ অনেক সময়। এখন তাঁরা আন্তরিক হলেই সম্ভব। আর আমরাও মহামান্য আদালতের নির্দেশমতো নির্বাচন চাই। কারণ, এভাবে সমিতি অকার্যকর থাকলে চলচ্চিত্রের ক্ষতি হবে। এমনিতেই আমরা অনেক পিছিয়ে গেছি।’