বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে বুধবার দুপুরে যখন কথা হয়, তখন তিনি মানিকগঞ্জে শুটিং করছিলেন। চঞ্চল বললেন, ‘আগে আমার যে দুটি ওয়েব সিরিজ আলোচিত হয়েছিল, দুটিই ছিল বিদেশি প্ল্যাটফর্মের। এবার সবচেয়ে ভালো লাগার ব্যাপার হচ্ছে, দেশীয় কোনো প্ল্যাটফর্মের জন্য কাজ করলাম। ফেসবুকে যখন তাকদীর বা কন্ট্রাক্ট–এর কোনো আপডেট দিতাম, তখন অনেকেই লিখতেন, সব দেশের বাইরের প্ল্যাটফর্মের জন্য করেন, আমাদের দেশের প্ল্যাটফর্ম থেকেও কিছু ভালো কাজ আপনার কাছ থেকে আশা করি। তাঁরা তো আসলে বাস্তবতা জানেন না, দেশে তখন ওই ধরনের প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়নি। চরকি আসবে আসবে করছিল। আমাদের আশার একটা জায়গা চরকি—আমরাও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের মতো তাল মিলিয়ে বা একই কাতারে দাঁড়িয়ে ভালো কাজ করব। সেটা বাস্তবে রূপ পেল ভেবে ভালোই লাগছে।’

default-image

কথায় কথায় চঞ্চল জানিয়ে রাখলেন, মুন্সিগিরি নিয়ে এরই মধ্যে তাঁর ভক্তদের মধ্যে একটা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ট্রেলার মুক্তির পর দেশের পাশাপাশি ভারতীয় দর্শকবন্ধুদের আগ্রহও লক্ষ করছেন তিনি। অনেকে ট্রেলার রিভিউও করছেন, যা তাঁকে আশাবাদী করে তুলেছে। চঞ্চল বললেন, ‘অমিতাভের সঙ্গে আমার কাজের বোঝাপড়া চমৎকার। একজন শিল্পী হিসেবে আমার ওপরও তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। দর্শকেরা দারুণ কিছু একটা পেতে যাচ্ছেন মনে করছি।’

শিবব্রত বর্মনের উপন্যাস মৃতেরাও কথা বলে অবলম্বনে মুন্সিগিরির চিত্রনাট্য লিখেছেন নাসিফ আমিন। লেখকের কাছে প্রশ্ন ছিল, মাসুদ মুন্সির সঙ্গে অন্য গোয়েন্দার কী পার্থক্য? জবাবে তিনি বললেন, ‘এই গোয়েন্দা পুলিশের একজন সাধারণ গোয়েন্দা। তদন্তও তিনি পুলিশের নিয়মমাফিকই করেন। তবে অন্য পুলিশের সঙ্গে তার পার্থক্য, আধুনিক যুগেও তিনি প্রাচীন ধ্যানধারণার পুলিশ।

default-image

তার তদন্তের পদ্ধতিও পুরোনো। তদন্তে তিনি নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগ করতে পছন্দ করেন না। তার মতে, মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং, ডিএনএ স্যাম্পল মেলানোর মধ্যে বুদ্ধির খেলা নেই। প্রযুক্তি এসে অপরাধ তদন্তের মজাটাই নষ্ট করে দিয়েছে।’ মাসুদ মুন্সি আধুনিক প্রযুক্তির বদলে মানুষের মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ করে রহস্যের সমাধান করেন। তার জীবনযাপনও সাধারণ। এই যুগে বাস করেও তিনি মুঠোফোন ব্যবহার করেন না।

default-image
‘ছবিটা নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন। বাংলাদেশে আগে নিজেদের গোয়েন্দা নিয়ে ভিজ্যুয়াল হয়নি, এটাই প্রথম। তা ছাড়া এটা যতটা না থ্রিলার, তার চেয়ে বেশি মানুষের সম্পর্কের গল্প। পুলিশ এবং তার পরিবার নিয়ে গল্প। আমরা আশাবাদী যে দর্শক মুন্সি চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরীকে সাদরে আমন্ত্রণ জানাবেন। অপেক্ষা করবেন পরবর্তী পর্বের জন্য। সেভাবেই আমরা চেষ্টা করেছি।’
অমিতাভ রেজা, পরিচালক

জানা গেছে, বেশ প্রস্তুতি নিয়ে মুন্সিগিরির শুটিং করেছেন অমিতাভ রেজা। চরিত্রের খুঁটিনাটি পর্দায় তুলে ধরতে শুটিংয়ের আগে বিভিন্ন গোয়েন্দা পুলিশের কাছে দৌড়াতে হয়েছে। পর্যবেক্ষণ করতে হয়েছে তাঁদের ব্যক্তিজীবন। শুটিং ইউনিটে চঞ্চল চৌধুরী, পূর্ণিমা, শবনম ফারিয়া, খন্দকার লেনিনসহ সবাই সবাইকে চরিত্রের নামে ডেকেছেন। এতে অভিনয়শিল্পীরা হয়ে উঠেছিলেন মাসুদ মুন্সি, সুরাইয়া, পারভীন, বিপিন প্রমুখ।

default-image

অমিতাভ রেজা বলেন, ‘ছবিটি নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন। বাংলাদেশে আগে নিজেদের গোয়েন্দা নিয়ে ভিজ্যুয়াল হয়নি—এটাই প্রথম। তা ছাড়া এটা যতটা না থ্রিলার, তার চেয়ে বেশি মানুষের সম্পর্কের গল্প। পুলিশ এবং তার পরিবার নিয়ে গল্প। আমরা আশাবাদী যে দর্শক মুন্সি চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরীকে সাদরে আমন্ত্রণ জানাবেন। অপেক্ষা করবেন পরবর্তী পর্বের জন্য। সেভাবেই আমরা চেষ্টা করেছি।’
প্রথম সিনেমার পর নির্মিত হবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সিনেমা—ধারাবাহিকভাবে মুন্সিগিরি চলতেই থাকবে; এমনটাই পরিকল্পনা। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন