বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

‘আমার সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল তাঁর (সাদেক বাচ্চুর)। আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুটিংয়ের ফাঁকে আড্ডা দিয়েছি। অভিনয় নিয়ে কথা বলেছি। তিনি আমাকে খুবই পছন্দ করতেন। তাঁর একটা কথা আমার অনেক দিন মনে থাকবে।

বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে তিনি বলেছিলেন, “আমরা একটা পাকা দালান পেয়েছিলাম। সেই দালানেই আমরা থাকতে শুরু করি, বেড়ে ওঠার সুযোগ পাই। তোরা এমন একটা সময় এসেছিস, যখন দালানটা একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এফডিসির যৌবন হারানোর পর তোরা এসেছিস। তোদের অনেক সংগ্রাম করতে হবে।” বাচ্চু ভাইয়ের এই কথা এখনো আমার কানে বাজে।’—কথাগুলো বলেন আরিফিন শুভ।

default-image

বিভিন্ন সময় শুটিংয়ের ফাঁকে শুভ ও বাচ্চুর দেওয়া আড্ডায় স্থান পেত অভিনয়ের বিভিন্ন দিক, জীবনদর্শন থেকে শুরু করে বাংলা ছবির পুরোনো গৌরব ও বর্তমান সময়ের প্রসঙ্গ। শুভ জানান, প্রয়াত এই অভিনেতা তাঁকে এহতেশাম, শিবলী সাদিক, দিলীপ বিশ্বাস ও হালের নির্মাতাদের কাজের পার্থক্য দেখিয়ে অভিনয়ের অনেক কিছু বোঝাতেন। মুগ্ধ শ্রোতা হয়ে তাঁর কথা শুনতেন শুভ।

default-image

এই আড্ডার ছলেই সাদেক বাচ্চুর কাছ থেকে শুভ শিখতেন কীভাবে হাজার মানুষের সামনে অভিনয় করতে হয়। তিনি জানান, শুটিংয়ে অনেক মানুষ থাকে। একবার একসঙ্গে তাঁরা অভিনয় করছিলেন।

এমন সময় নাকি আরিফিন শুভকে উদ্দেশ করে সাদেক বাচ্চু বলেছিলেন, ‘যখন অভিনয় করবি, তখন তোর সামনে সহ-অভিনেতা ছাড়া আর কারও কথা ভাববি না। তুই তোর কাজ করে যাবি। তোর অভিনয় ভালো হলে এমনিতেই দর্শকের করতালি পাবি।’ শুভ বলেন, ‘তাঁকে (সাদেক বাচ্চুকে) অল্প সময় পেয়েছি, কিন্তু তাঁর কাছ থেকে অনেক শিখেছি। ব্যক্তিজীবনে তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। তাঁর নামে কেউ কখনো একটি খারাপ কথা বলতে পারবে না। তাঁকে সৎ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে দেখেছি। তিনি শুটিং ইউনিটে সবার সঙ্গে মিশতেন। তাঁর চলে যাওয়ায় চলচ্চিত্রের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।’

default-image

সাদেক বাচ্চুর সঙ্গে শুভ অভিনয় করেছেন ‘ভালো থেকো’, ‘একটি সিনেমার গল্প’সহ আরও কিছু ছবিতে। আজ সোমবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন সাদেক বাচ্চু। জীবনের শেষ বছরগুলোয় অভিনয়ে অনিয়মিত ছিলেন সাদেক বাচ্চু। তাঁকে নতুন নাটক বা চলচ্চিত্রে কম দেখা যেত। নব্বইয়ের দশকে পরিচালক এহতেশামের ‘চাঁদনী’ ছবিতে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। রেডিও বা টেলিভিশনের আগে তিনি অভিনয় শুরু করেন মঞ্চে। তাঁর নাট্যদলের নাম মতিঝিল থিয়েটার। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি দলটির সভাপতি ছিলেন।

default-image

মহিলা সমিতির মঞ্চে এক নাটকে সাদেক বাচ্চুর অভিনয় দেখে তাঁকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ডেকে নেন প্রযোজক আবদুল্লাহ ইউসুফ ইমাম। ১৯৭৪ সালে বিটিভিতে তিনি অভিনয় করেন ‘প্রথম অঙ্গীকার’ নাটকে। তাঁর অভিনীত নাটকের সংখ্যা হাজারের বেশি। প্রথম অভিনীত সিনেমা শহীদুল আমিন পরিচালিত ‘রামের সুমতি’।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন