অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ফেরদৌস আহমেদ অভিনীত নতুন চলচ্চিত্র ‘গন্তব্য’। শুটিং চলছে পাঁচটি চলচ্চিত্রের। সেন্সর ছাড়পত্র শেষে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে আরও একটি চলচ্চিত্র। এসব নিয়েই সোমবার সন্ধ্যায় কথা হলো তাঁর সঙ্গে।
default-image

আপনাকে সেই দুপুর (গতকাল সোমবার) থেকে খুঁজছি...

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্যারেড স্কয়ারে একটি অনুষ্ঠানে দাওয়াত ছিল। রাষ্ট্রপতি আর প্রধানমন্ত্রীসহ গণ্যমান্য আরও অনেকে ছিলেন। দুপুর থেকে সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি ছিল।

শেষ পর্যন্ত ‘গন্তব্য’ ছবিটি তার গন্তব্য খুঁজে পেয়েছে। মুক্তি পেয়েছে প্রেক্ষাগৃহে। অভিনয়শিল্পী হিসেবে কেমন লেগেছে?

আমার খুব ভালো লেগেছে এই ভেবে, ছবিটি ৭ মার্চের ভাষণ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বানানো। অনেক চড়াই–উতরাই পেরিয়ে পরিচালক অরণ্য পলাশের ছবিটি দর্শকের সান্নিধ্যে এসেছে। স্বাধীনতার মাসে, মুজিব বর্ষে ছবিটি মুক্তি পাওয়ায় অন্য রকম একটা আবেগ তৈরি করেছে।

ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত হয়ে দেখেছেন?

না, এখনো সুযোগটা হয়নি। শিগগিরই যাব। কয়েকটি সিনেমা হলে খবর নিয়েছি, করোনার মধ্যেও দর্শক উপস্থিতি সন্তোষজনক বলল।

বিজ্ঞাপন
default-image

ভারতের মুম্বাইয়ে বঙ্গবন্ধু বায়োপিকের শুটিং চলছে। ‘বঙ্গবন্ধু’ ছবিতে আপনার অভিনয়ের কথা শোনা গিয়েছিল। হঠাৎ জানা গেল, ছবিতে আপনি নেই। কারণ কী?

ভারতের প্রবেশসংক্রান্ত আমার একটা জটিলতা ছিল। আজও তা সমাধান হয়নি। তাই ভিসা হয়নি, যাওয়াও হয়নি।

এটা কি কলকাতায় শুটিংয়ের ফাঁকে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার সেই জটিলতা?

ঠিকই ধরেছেন। একবার ভুল করে ভারতের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলাম। বিদেশি নাগরিক হিসেবে, যা মোটেও উচিত হয়নি। ওই ইস্যুটির কারণে আমার ভারতের ভিসা পেতে জটিলতা হচ্ছে।

সেখানকার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়াটা তাহলে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল?

অবশ্যই, অবশ্যই। এক দেশের নাগরিক হিসেবে আমি তো আরেক দেশে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারি না। রাষ্ট্রীয় নির্বাচনের প্রচারণায় অংশগ্রহণের নিয়মকানুন আমার জানা ছিল না, যারা আমাকে নিয়ে যান, তারাও জানত না। আমি লম্বা সময় ধরে ভারতেও কাজ করছি, তারা সব সময় আমাকে তাদেরই অংশ মনে করে। কিন্তু রাষ্ট্রেরও তো কিছু নিয়মকানুন থাকে, এসবে ভুল করলে তো চলবে না। সেই ভুলে বড় ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

default-image

দীর্ঘদিনের সহযাত্রী, বন্ধু অভিনেতা রিয়াজ‘বঙ্গবন্ধু’ ছবিতে আপনি নেই, শোনার পর আপনার আফসোস হয়েছে?

এত বড় আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে ছবি হচ্ছে, এটাতে থাকা ইতিহাসের অংশ হওয়া। আমি থাকতে পারছি না, এটা তো চরম আফসোস। এই আফসোস আজীবন রয়ে যাবে। আমি ভুল করেছি, ভুলের মাশুল দিয়েছি। আমি চাইব, আমার এই ভুল থেকে পরবর্তী প্রজন্ম যেন শিক্ষা নেয়।

আপনার দীর্ঘদিনের সহযাত্রী, বন্ধু অভিনেতা রিয়াজ ছবিটায় থাকছেন। আপনি খুশি?

অনেক ধন্যবাদ রিয়াজকে, শেষ মুহূর্তে কাজটি করতে রাজি হয়েছে। অন্য কেউ এই চরিত্র কতটা ফুটিয়ে তুলতে পারত, জানি না। রিয়াজের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে, আমার চেয়েও ভালো করতে পারবে।

চলচ্চিত্র অঙ্গনে একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়, যখন যে নায়িকার সুসময়, তখন তাঁর সঙ্গে আপনার বন্ধুত্ব গাঢ় হয়। এটা সচেতনভাবেই করেন?

আমার তো সব নায়িকার সঙ্গেই সুসম্পর্ক। চলচ্চিত্রের স্বার্থেই সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক। ববিতা, শাবানা, কবরী থেকে শুরু করে এখনকার থেকে মাহী পরীমনি, পূজা চেরি—সবার সঙ্গে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। নারীর প্রতি আমি বরাবরই শ্রদ্ধাশীল। দীর্ঘদিন ধরে যাঁদের সঙ্গে কাজ করি, তাঁদের সঙ্গে শ্রদ্ধার এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করি। আমরা যখন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করি, শুটিং করি, তখন মনে করি—ওই নায়িকা বা অভিনয়শিল্পী আমার ওপর যেন আস্থা রাখতে পারেন। ভরসা যেন পান—এসব সচেতনভাবে করি।

বিজ্ঞাপন
default-image

শিল্পীর সঙ্গে শিল্পীর সুসম্পর্ক বজায় রাখার বড় কৌশল কী?

বিশ্বাসটা অনেক বেশি জরুরি।

অনেককে বলতে শুনি, চলচ্চিত্রে একটা অংশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, সুনাম অর্জন করছে। কিন্তু কিছু লোকের কর্মকাণ্ড চলচ্চিত্রের সুনাম নষ্ট করছে। দেশ–বিদেশের অনেকেই এ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। এ অবস্থা কেন হয়েছে, কবে থেকে হয়েছে বলে মনে করছেন?

যখন থেকে চলচ্চিত্রে কতিপয় লোকের আনাগোনা শুরু হয়েছে, তখন থেকেই এমনটা হচ্ছে। এই কতিপয় লোক নিজেদের বড় শিল্পী হিসেবে দাবি করে, অথচ তাঁদের মধ্যে শিল্পীসুলভ কোনো কিছুই নেই। তারা চলচ্চিত্রশিল্পটাকে নষ্ট করছে। প্রকৃত শিল্পীদের ভাবমূর্তিও নষ্ট করছে। আমি মনে করি, চলচ্চিত্রে কিংবা যেকোনো শিল্পে লম্বা সময় ধরে টিকে থাকতে হলে মেধার পাশাপাশি শিল্পমন থাকতে হয়। পেশিশক্তি দিয়ে কখনোই শিল্প হয় না। শিল্পমাধ্যমে নিজেকে শিল্পী হিসেবে প্রমাণ করতে চাইলে অনেক সাধনার দরকার হয়। যাঁরা শিল্পী হতে চান, তাঁদের আমি সাধক হতে বলব। কূট রাজনীতি না করে নিজেকে প্রতিনিয়ত কাজে প্রমাণ করো। এটা রাজনীতি করার জায়গা নয়। এখানে মানুষের কল্যাণ, আনন্দ দেওয়া, সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজে অবদান রাখার কথা ভাবতে হবে।

default-image

তাহলে আপনাদের মতো প্রকৃত শিল্পী যাঁরা আছেন, তাঁরা এসব কতিপয় লোকের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন?

এই ধরনের কতিপয় লোক আগেও ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এরা আসবে, আবার ভেসে চলে যাবে। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছর, এখনো কিছু রাজাকার আছে। ভালো–মন্দ নিয়েই তো জীবন। সাদা থাকবে, কালো থাকবে—কালো না থাকলে সাদার পার্থক্য তো বোঝাও যায় না। দিনশেষে, সাদা এবং সত্যেরই জয় হয়। প্রকৃত শিল্পীরাই টিকে থাকে, ওসব অশিল্পী ভেসে চলে যাবে।

আপনি বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতেও কাজ করছেন। এ দেশের চলচ্চিত্র আরও ভালোভাবে এগিয়ে নিতে হলে কী করতে হবে?

আমাদের সবচেয়ে বড় অন্তরায় ছিল চিত্রনাট্যে। চিত্রনাট্যের প্রতি ভালোভাবে মনোযোগ না দেওয়া। ভালো চিত্রনাট্যের অভাবে একটা সময় আমরাও গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়েছি। অনেক ভুল সিনেমায় অভিনয় করেছি। অন্য দেশকে কপি না করে নিজেদের স্বকীয়তা আনতে হবে। এখন আমাদের দেশের নাটক, সিনেমায় অসাধারণ কিছু গল্প ওঠে আসার আভাস পাচ্ছি। সুন্দর ভবিষ্যতের পূর্বাভাস পাচ্ছি।

এখন কী কাজ করছেন?

মানিকের ‘লাল কাঁকড়া’, ‘১৯৭১ সেইসব দিনগুলি’, ‘গাঙচিল’, ‘জ্যাম’ ও ‘রাসেলের জন্য অপেক্ষা’—এই ছবিগুলোর কাজ করছি।

default-image
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন