default-image

তেজগাঁওয়ের একটি ভবনের ৭ তলায় পৌঁছাতেই দেখা গেল, সরু করিডর ধরে হেঁটে আসছেন অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর। তাঁর পেছনে ১০–১২ জন ‘সাংবাদিক’। তারা এই ‘মন্ত্রী’ আসাদুজ্জামান নূরকে বিভিন্ন প্রশ্ন করছেন। অনবরত জ্বলছে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ।
সাংসদ ও সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের জন্য খুবই চেনা। তবে এবারের চিত্রটি আলাদা। বাস্তবজীবনের জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, ‘গাঙচিল’ চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্যের জন্য তাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ছবিতে তাঁকে একজন মন্ত্রীর চরিত্রে দেখা যাবে।
বড় ফ্লোরজুড়ে চলছিল ছবিটির শুটিং। করোনাকালে নতুন স্বাভাবিকে ‘বাকের ভাই’খ্যাত এই অভিনেতা প্রথম শুটিং শুরু করেছেন। জানা গেল, এক দিনের জন্যই তাঁর শিডিউল দেওয়া। ছবির পুরো গল্পে তাঁর ভূমিকা থাকলেও এই অভিনেতাকে দেখা যাবে তিনটি দৃশ্যে। যিনি সব কলকাঠি নাড়েন। এক দিনের শুটিংয়ে বেশ ব্যস্ত তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে দৃশ্যটি শেষ করে আসাদুজ্জামান নূর পাশেই একটি রুমে গিয়ে বসলেন। চেয়ারে বসার সঙ্গে সঙ্গে করোনা সতর্কতায় মুখে দুটি মাস্ক পরে নিলেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

আসাদুজ্জামান নূর জানান, নতুন স্বাভাবিকে ভয়ে ভয়েই শুটিংয়ে ফিরেছেন তিনি। আমাদের দেশের বেশির ভাগ চলচ্চিত্রে মন্ত্রীদের নেতিবাচক চরিত্রে দেখা যায়, আপনার চরিত্রটি কেমন? এমন প্রশ্ন শুনে তিনি স্মিত হাসি দিয়ে বলেন, ‘সাধারণত দেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্রে মন্ত্রীদের যেভাবে দেখানো হয়, এখানে সে রকম নেতিবাচক কোনো চরিত্র করছি না। এই ছবির গল্পে দেশ, মানুষের সঙ্গেই আমি থাকি। যে দৃশ্যগুলো করছি, সেখানে মানুষের জন্যই কথা বলি।’

করোনার আগে এই অভিনেতা ‘শিকলবাহা’ ছবিতেও বিশেষ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘গাঙচিল’ ছবিতেও বিশেষ চরিত্রে তাঁকে দেখা যাবে। এতে তাঁর অভিনয়ের ক্ষুধা কতটুকু মিটছিল? দাপুটে এই অভিনেতা প্রধান চরিত্রে কেন ফিরছেন না? তিনি জানান, অনেক নির্মাতাই তাঁর কাছে গল্প নিয়ে আসেন। তিনি তাঁদের জানিয়েছেন, চরিত্র ছোট হলেও তাৎপর্য না থাকলে বাবা, চাচা, স্কুলমাস্টার এমন টুকরো চরিত্রের প্রতি তাঁর আগ্রহ কম। তিনি বলেন, ‘আমার চেয়ে বেশি বয়সী মানুষকে দিয়ে চরিত্র সারা পৃথিবীতেই হচ্ছে। তাঁরা কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন। মানুষ সেগুলো খুবই আগ্রহ নিয়ে দেখছে। কিন্তু আমাদের এখানে সে রকম চরিত্র লেখা হয় না। আমার মন্ত্রিত্ব শেষ হওয়ার পর ১৬টির মতো চিত্রনাট্য পেয়েছিলাম, সেগুলো প্রায় সবই বয়স্ক মানুষের সঙ্গে তরুণীর প্রেম। কোনো গল্পই মনে ধরল না। প্রেম ভালোবাসা নিয়ে গল্প হতে পারে, সেই গল্পের বিস্তার অন্য রকম।’

default-image

এক দিনেই মধ্যেই শুটিং করতে হবে, সে জন্য কাজের কিছুটা চাপ ছিল। একজন সহকারী পরিচালক এসে তাঁকে পরের দৃশ্যের শুটিংয়ের কথা বললেন। তড়িঘড়ি করে তৈরি হয়ে নিলেন দৃশ্যের জন্য। আবার লাইট–ক্যামেরা প্রস্তুত হলো। রুমের বাইরে শুরু হলো দৃশ্য ধারণ। তাঁর এই দৃশ্য এমন, এই মন্ত্রী একজন জঙ্গিকে ধরিয়ে দেবেন। তিনি একজন শিক্ষককে বললেন, ধর্মের নামে যে চারজন ছেলেকে নিয়ে আপনি সুইসাইড স্কোয়াড তৈরি করেছিলেন, তারা ধরা পড়েছে এবং আপনার নামে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। দৃশ্যটি নির্মাতা নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের মনমতো না হওয়ায় কাট বলতে হলো। দ্বিতীয়বার ওকে হলো দৃশ্যটি।

ছবিটির নির্মাতা জানালেন, ছবিটির ১০টির মতো দৃশ্য বাকি আছে। শুটিং–পরবর্তী কাজ চলছে ভারতে। পুরো কাজ শেষ করে আগামী বছর ছবিটি তিনি মুক্তি দিতে চান। ছবিতে ফেরদৌস, পূর্ণিমা, আনিসুর রহমানসহ আরও অনেকে অভিনয় করেছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0