ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’ নামের এক ছবিতে নায়িকা হিসেবে নাম লিখিয়েছেন দীঘি
ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’ নামের এক ছবিতে নায়িকা হিসেবে নাম লিখিয়েছেন দীঘিছবি: সংগৃহীত

অভিনেত্রী দীঘি সম্প্রতি বেশ কিছু ছবি থেকে বাদ পড়েছেন, এমনটাই শোনা যাচ্ছিল কদিন ধরে। আজ এই অভিনেত্রী ভারত থেকে দেশে ফিরে খবরগুলোকে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেন। এই মুহূর্তে তিনি বাদ পড়ার খবর নিয়ে ভাবছেন না। তাঁর ফোকাস বঙ্গবন্ধুর জীবনীচিত্র ঘিরে। এই ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াই তাঁর ক্যারিয়ারে সেরা উপহার। জীবনে আর কোনো ছবিতে অভিনয় না করলেও কোনো আফসোস নেই তাঁর।  

default-image

গত ২২ জানুয়ারি ভারতে উড়াল দিয়েছিলেন দীঘি। অংশ নিয়েছিলেন মুম্বাইতে ‘বঙ্গবন্ধু’ ছবির শুটিংয়ে। ১০ দিনের সেই শুটিংয়ের প্রথম পর্বের কাজ শেষ হয়েছে। তিনি আজ ২ ফেব্রুয়ারি বেলা দুইটায় বাসায় ফিরেছেন। ছবিটিতে তাঁকে দেখা যাবে বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী রেণুর ভূমিকায়। দীঘি মনে করেন, ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর শুটিংয়ে অংশ নেওয়াটাই ছিল তাঁর বড় স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণ করে তিনি খুশি। দীঘি জানান, চরিত্রটি ছিল তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জিং। দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রস্তুতি নিয়েছেন। শুটিংয়ে প্রথম থেকেই খুব নার্ভাস ছিলেন তিনি। ছবিটির পরিচালক শ্যাম বেনেগাল চরিত্রটি ভালো করে বুঝিয়ে দিলে ভয় কাটতে থাকে তাঁর। তারপরও কিছুটা ভয় নিয়েই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। অভিনয় করে পুরো টিমের প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। দীঘি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকে অভিনয় করে মনে হয়েছে, আমার আর কোনো অপ্রাপ্তি নেই। সারা জীবন আর যদি অভিনয় না–ও করি, তাহলেও আমার আর কোনো আক্ষেপ, দুঃখ নেই। কাজটি করে আমি কোনো বড় তারকা হতে পারব কি না জানি না, কিন্তু ইতিহাসের অংশ হতে পেরেছি, এটাই আমার কাছে সেরা পাওয়া।’

বিজ্ঞাপন
default-image

একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ৫টি ছবিতে অভিনয় করার কথা চলছিল দীঘির। কিন্তু লিখিত কোনো চুক্তি হয়নি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। শুধু মুখে মুখে কথা হয়েছিল তাঁর। দীঘি জানান, ৫টি নয়, শুধু ১টি ছবিতে অভিনয়ের কথা ছিল। সেই ছবির কাজ শেষ। ছবিটির নাম ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’। অন্য ছবিগুলো থেকে বাদ পড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনো চুক্তিই হয়নি। বাদ পড়ার প্রসঙ্গ কীভাবে আসে। আমি এখন মুম্বাই থেকে ভালো একটা কাজ শেষ করে এসেছি। আমার সবচেয়ে বড় ফোকাস সেই ছবির রেণু নামের চরিত্রের দিকে। এটাই আমি ঠিকমতো ফুটিয়ে তুলতে চাই। এখন ছবি থেকে কেউ বাদ দিল বা কী হলো, এগুলো কানে নেওয়ার সময় নেই।’ ছবি থেকে বাদ দেওয়ার গুজব নানাজনের কাছ থেকে শুনেছিলেন তিনি। প্রথম দিকে কিছুটা বিরক্ত হয়েছিলেন বটে। দীঘি বলেন, ‘একবার যে গুজব ছড়িয়েছে, সেটা আর আটকানো সম্ভব না। এটা ছড়াবেই। আমি আমার জায়গা থেকে পরিষ্কার আছি। এসব গুজব নিয়ে ভাবছি না। বিশ্বাস করা না করা তাদের ব্যাপার। এটা দর্শকদের ওপর ছেড়ে দেব।’

default-image

‘বঙ্গবন্ধু’র বায়োপিকের জন্য আবার তাঁকে মুম্বাই যেতে হবে। আগামী মার্চে শেষ লটের শুটিংয়ে তিনি বাংলাদেশ থেকে যোগ দেবেন। কিছু ছবি নিয়ে বিভিন্ন নির্মাতার সঙ্গে ইতিমধ্যে কথা হয়েছে তাঁর। সেগুলো ব্যাটে–বলে মিলে গেলেই নতুন ছবিতে নাম লেখাবেন দীঘি। চূড়ান্ত হলেই সেই খবর গণমাধ্যমে নিজেই জানাবেন। ‘বাবা জানো, আমাদের একটা ময়না পাখি আছে না, সে আজকে আমার নাম ধরে ডেকেছে, আর এ কথাটা না মা কিছুতেই বিশ্বাস করছে না, আমি কি তাহলে ভুল শুনেছি, কেমন লাগে বলো তো।’ একটি মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের এই সংলাপ দিয়েই সবার প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন শিশুশিল্পী দীঘি। সেটা এক যুগের বেশি সময় আগের কথা। পরে তিনি শিশু চরিত্রে চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’ নামের এক ছবিতে নায়িকা হিসেবে নাম লিখিয়েছেন দীঘি।

বিজ্ঞাপন
ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন