default-image

‘শত্রুরা আমাদের পেছনে লেগে আছে। ওরা আমাদের সংসার ভাঙতে চায়। কেউ কেউ চায় না আমরা ভালো থাকি। আমাদের ভালো থাকাটা কারও কারও গায়ে জ্বালা ধরিয়ে দিচ্ছে। সংসার ভাঙতে আলাদাভাবে আমাদের দুজনকে উল্টোপাল্টা কথা শোনায়। তারা হয়তো মনে করে, কে কী পাঠাচ্ছে বা লিখছে, তা আমরা দুজন জানি না। যে যা-ই বলে, আমরা কিন্তু নিজেদের মধ্যে শেয়ার করি, গায়ে মাখি না। এরপরও এসব শুনে হঠাৎ হঠাৎ কনফিউজড হয়ে যাই। তবে সবকিছুর পরও আমরা ভালো আছি।’ কথাগুলো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রনায়িকা তমা মির্জার।
২০১০ সালে এম‌ বি মা‌নিক পরিচালিত ‘বলো না তুমি আমার’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ঢালিউডে যাত্রা শুরু করেন তমা মির্জা। পরে একে একে অভিনয় করেন ‘মনে প্রাণে আছ তুমি’, ‘পালাবার পথ নেই’, ‘মানিক রতন দুই ভাই’, ‘ছোট্ট সংসার’ ছবিগুলোতে। শাহনেওয়াজ কাকলী পরিচালিত ‘নদীজন’ ছবিতে অভিনয় করে পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তমা মির্জা। রোববার সন্ধ্যায় কথায় কথায় তমা মির্জা জানালেন, ‘যেকোনো সংসারেই মান-অভিমান হয়। অন্য অনেকের মতো তাঁদের সে রকম হতে পারে। নিজেদের মধ্যে মান-অভিমান হয়, হতেই পারে। সেসব আবার ঠিক হয়ে যায়। তাই বলে সংসার ভাঙার তো মানে হয় না। অথচ কিছু লোক প্রতিনিয়ত আমাদের পেছনে লেগেই আছে। তাঁরা কোনোভাবেই চান না, আমরা ভালো থাকি, সুখে থাকি। সুন্দরভাবে সংসার করি।’

বিজ্ঞাপন
default-image

কিছুদিন আগে দুবাই থেকে হানিমুন সেরে এসেছেন তমা মির্জা ও হিশাম চিশতী। গত বছরের ৬ মে রাজধানীর গুলশানের একটি কনভেনশন সেন্টারে তাঁদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। হানিমুন শেষে দেশে ফেরার পর হঠাৎ খবর ছড়িয়ে যায়, তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। তমার ফেসবুকেও দেখা যায় সেটি।

default-image

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার মান-অভিমানের খবর তৃতীয় পক্ষ জানে কীভাবে? আর ডিভোর্স পোস্ট কেন দেওয়া হয়েছিল, এমন প্রশ্নে তমা বললেন, ‘আমার ফেসবুক প্রায়ই হ্যাক হয়। হ্যাকারদের কেউ এমন সুযোগ নিয়েছে। আমার ধারণা, ফেসবুক যিনি হ্যাক করছেন, তাঁরা পরিচিত কেউ। তাঁরা আমাদের মধ্যে গন্ডগোল তৈরির চেষ্টা করছেন। তবে কীভাবে ঘরের খবর পরে জানে, এটা ভেবে অবাক হই। তবে দুজনের কিছু কাছের মানুষ এমনটা করছেন, সেটা বুঝতে পারছি।’

default-image

বিয়ের আগে থেকেই হিশাম চিশতীর সঙ্গে তমার প্রেম। তখন থেকেই একটি পক্ষ তাঁদের সম্পর্ক ভাঙতে তৎপর বলে দাবি করেন তমা। দুজনের বিরুদ্ধে দুজনের কাছে নানা কথা বলত, যাতে সম্পর্ক ভেঙে যায়। সবকিছু পাশ কাটিয়ে দুজন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। তমা জানান, সবাই যেভাবে সম্পর্কে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে, তাতে শিগগিরই কঠোর ব্যবস্থা নেবেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ভাগ্যে সংসার আছে কি না, তা সৃষ্টিকর্তাই জানেন। আমরা দুজন চেষ্টা করছি নেতিবাচক সবকিছু পেছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে। আমরা এখন নিজেদের নিয়ে মহাব্যস্ত। দুজনে ঘুরছি–ফিরছি, অবসরে খেলাধুলা করছি। নিয়মিত ব্যাডমিন্টন ও ক্যারম খেলছি। কখনো আমি জিতি সে হারে, আবার কখনো সে জেতে আমি হারি। জীবনের অসাধারণ একটা সময় কাটছে আমাদের।’
তমা মির্জার স্বামী হিশাম চিশতী কানাডায় থাকেন। সেখানে আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তিনি। এ মাসের শেষ বা আগামী মাসের শুরুর দিকে ঢাকা ছাড়বেন তিনি। হিশাম চিশতী বলেন, ‘আমরা বেশ ভালো আছি। অনেকে ঈর্ষাকাতর হয়ে আমাদের নিয়ে অপপ্রচার চালায়। তবে যত দিন সৃষ্টিকর্তা চান, তত দিন আমরা ভালো থাকব।’

default-image
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0