মিতু লিখেছেন ,‘বুস্টার ডোজ নেওয়ার পর গতকাল পাঁচ ঘণ্টা ডাবিং আবার আজকেও টানা চার ঘণ্টা ডাবিং। একপর্যায়ে না পেরে এভাবেই শুয়ে পড়েন বাপ্পী । “জয় বাংলা” ছবির সেটে এভাবেই বাপ্পী চৌধুরী কষ্ট করে যাচ্ছেন। কাজের প্রতি তাঁর ডেডিকেশন দেখে আমি অবাক হই। চাইলেই পারত আজকে সব বন্ধ রেখে বিশ্রাম নিতে।’

একটি ছবি মিতুকে এত গভীরভাবে স্পর্শ কর‌ল কেন? এ ব্যাপারে মিতু বলেন, ‘দেখলাম আমাদের “জয় বাংলা” ছবির টিমের একজন সদস্য বাপ্পীর শুয়ে পড়া একটি ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। বাপ্পীর সহকারীকে ফোন দিয়ে জানতে পারলাম, টিকা নেওয়ার পর তাঁর শরীর ব্যথা। তাতে আবার টানা ডাবিং। তা ছাড়া সামনে নতুন ছবির শুটিং। ফাইটের। টিকার ব্যথা নিয়ে আবার ফাইটের অনুশীলনও করেছেন। সব মিলে বাপ্পীর শরীর অনেকটাই কাহিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফেসবুকে ছবিটি দেখে আমার খুব খারাপ লাগছিল, তাঁর প্রতি মায়া হচ্ছিল। এ কারণে আমি নিজ থেকে ছবিটি আমার ফেসবুকে শেয়ার করেছি। শিল্পীদের জীবনের সত্যিকারের ঘটনা লিখেছি।’

ওই স্ট্যাটাসের আরেক অংশে মিতু লিখেছেন, ‘এই অবস্থার মধ্যেই আবার কাল “শত্রু” ছবির শুটিং। এ রকম কত গল্প আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এক একজন সুপারস্টার তৈরি হওয়ার কারণ। কত অজানা কষ্ট মানুষকে বিনোদন দিতে গিয়ে শিল্পীদের সহ্য করতে হয়। কাছ থেকে দেখি বলে হয়তো গল্পগুলো জানতে পারি, কষ্টগুলো বুঝতে পারি। এখানে শিল্পীদের নিজের কষ্ট বলে কিছুই নেই। জীবনটাই তো অন্যের নামে।’ মিতু বলেন, ‘এসব গল্প মানুষের জানা দরকার। আমার আব্বু যেদিন মারা গেছেন, বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দাফন করে আমাকে ঢাকায় ফিরতে হয়েছে। এসেই টেলিভিশনে একটি খেলার অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেছি। কারণ, কমিটমেন্ট। পেশার জায়গা থেকে আমরা শিল্পীরা কারও না কারও কাছে বাঁধা থাকি। এ কারণে এ ধরনের কাজ করতে হয়। আর এই সব ঘটনা, এই জিনিসগুলো দর্শকদের জানানোর দরকার আছে। দর্শকেরও জানার অধিকার আছে।’

সোমবার ফিল্ম ভ্যালিতে সুমন ধরের “শত্রু” ছবির শুটিং শুরু হচ্ছে মিতুর। তাঁর নায়ক বাপ্পী চৌধুরী।