বিজ্ঞাপন

১০ বছর আগের ছবি এখন মুক্তি দেওয়া কতটা প্রাসঙ্গিক মনে করছেন?

১০ বছর আগের বলেই আলাদা মজা আছে। কারণ, এফ আই মানিকের গল্প বলার একটা আলাদা ধরন আছে। এটাও ঠিক, গত ১০ বছরে অনেক কিছুই বদলে গেছে। এই বদলের সময়ে ছবিটি ভিন্ন ধরনের আনন্দ দেবে। সংলাপ ও উপস্থাপনায় বৈচিত্র্য আছে। ছবিটি অ্যানালগ থেকে ডিজিটালে রূপান্তরিত করা হয়েছে। হয়তো অসাধারণ কিছু হবে না, কিন্তু ফটোগ্রাফি ও লাইটিং চমৎকার হয়েছে। অ্যানালগে ফটোগ্রাফির আলাদা একটা ধরন আছে। অনেককে নস্টালজিক করবে ছবিটি।

default-image

এর আগে ঈদে আপনার মুক্তি পাওয়া ছবি কোনটি?

কোনোভাবেই মনে করতে পারছি না। তবে এইটুকু মনে পড়ছে, ৫ থেকে ৭ বছরের বেশি আগে মুক্তি পেয়েছে। তাই অনেক বছর পর ঈদে ছবি মুক্তি পাওয়ার খবরটা শুনে ভীষণ ভালো লাগছে।

একটা সময় প্রতি ঈদেই নিয়মিত আপনার অভিনীত ছবি মুক্তি পেত।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ঈদের ছবি মুক্তি নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকতাম যে ঈদের কেনাকাটাও করতে পারতাম না। সব টেনশন থাকত ছবি নিয়ে। কীভাবে ঈদ হবে, কী কিনব, ঘরবাড়ি, স্বামী–সন্তান নিয়েও চিন্তা করার সময় থাকত না। সবার যখন ঈদের কেনাকাটা শেষ, তখন চাঁদরাতে ঈদের পোশাক কিনতে যেতাম। তবে পরিচয় যাতে প্রকাশিত হয়ে না পড়ে, তাই মুখ ঢেকে যেতাম। তাই কেউ চিনতে পারত না।

default-image

আপনি খুলনার মেয়ে, সেখানকার ঈদের কথা মনে পড়ে...

দুই–তিনটা ঈদের কথা মনে আছে। এরপর ঢাকায় চলে আসি। ক্লাস টুতে পড়ালেখা শেষ করে আমি ঢাকায় চলে আসি। গ্রামের ঈদটাই এখনো সবচেয়ে বেশি আনন্দের। বাবা-মায়ের সঙ্গে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যেতাম। আম্মুকে ঘুরতে যাওয়ার জন্য বিরক্ত করে ফেলতাম। এক পাড়া থেকে আরেক পাড়ায় ছিল আত্মীয়স্বজনের বাসা। দারুণ আনন্দে ঈদ কাটত।

ঢাকায় আসার পরে সিদ্ধেশ্বরী, বড় মগবাজার, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মালিবাগ, উত্তরা হয়ে এখন থাকছেন গুলশানে। ঢাকার কোন এলাকার ঈদের স্মৃতি আপনার জন্য আনন্দের ছিল?

স্কুলের সময়টা বড় মগবাজারে কেটেছে। কলেজে ওঠার পর মোহাম্মদপুরে ছিলাম। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ঈদের স্মৃতি খুলনায়। তবে ঢাকার মধ্যে বড় মগবাজারে থাকার সময়ও খুব মজা হতো। তখন স্কুলে পড়তাম। বন্ধুদের বাসা ছিল আমাদের পাশেই। সিনেমায় আসার পরে আমার জীবন থেকে ঈদের আনন্দ চলে গেছে। এটাই সত্যি। প্রথম সিনেমা মুক্তির পরে ঘরে বসে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে হয়েছে। কিন্তু ঈদের আকাশ দেখার আনন্দটাই অন্য রকম। সিনেমায় আসার পর মেলায় যাওয়া, পার্কে ঘুরতে যাওয়া, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের বাড়িতে আর ঘুরে বেড়ানো হয়নি।

default-image

সিনেমায় আসার পর থেকে ঈদের দিন কেমন কাটত?

ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমা দেখতে যাওয়াই ছিল আমার ‘ঈদ’। বোরকা পরে দর্শকসারিতে বসে তাঁদের প্রতিক্রিয়া দেখতাম। আমার ছবির বাইরে একই সময়ে মুক্তি পাওয়া অন্যদের ছবিও দেখতাম। তাঁরা কেমন করছেন, তা জানার চেষ্টা করতাম। ফাঁকে একটু আইসক্রিম খাওয়া, এইটুকুই। কারও বাসায়ও যেতাম না। আমার বাসায় যাঁরা আসতেন, তাঁদের সঙ্গে দেখা হতো।

আইসক্রিম বুঝি আপনার খুব প্রিয়?

ওরে বাবা! একসময় আইসক্রিম ছাড়া কিছুই বুঝতাম না। নেশার মতো ছিল। আইসক্রিম খেয়ে গলা ফুলিয়ে বসে থাকতাম। আইসক্রিম এখনো প্রিয়, তবে সেভাবে আর খাওয়া হয় না। আমি আইসক্রিম বানাতেও পারি, তবে অতটা ভালো হয় না।

আপনার হাতের কোন রান্না স্বামী ওমর সানীর প্রিয়?

সানী নোনা ইলিশ আর গরুর মাংস খুব পছন্দ করে। ছেলে ফারদিনও বাবার মতো গরুর মাংস পছন্দ করে। আর মেয়ে ফাইজা পছন্দ করে কোর্মা ও খাসির রেজালা।

default-image

এবার আপনি শাশুড়ি। নিশ্চয় অন্য রকম ঈদ হবে?

আয়েশা আমাদের ছেলের বউ না, আরেকটা মেয়ে। তাই এবার সবচেয়ে মজার ঈদ হবে। কিন্তু একটু কষ্ট আছে। সব শপিং অনলাইনে করতে হয়েছে। করোনার কারণে বাইরে বের হতে পারিনি। তবে ফারদিন ও আয়েশা বাইরে গিয়ে কেনাকাটা করেছে। আমার বেয়াই-বেয়ান শপিং করে পাঠিয়ে ঘরভর্তি করে ফেলেছে। এমন কিছুই নেই, যা তাঁরা পাঠাননি।

আপনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এখন কেমন আছেন?

কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। এখনো শরীর দুর্বল, ব্যথা আছে। হাঁটাহাঁটি করলে ক্লান্তি লেগে। ব্যথা আর দুর্বলতা ছাড়া কোনো সমস্যা দেখছি না।

ঢালিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন